রেল ও লঞ্চে সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি, স্বস্তি সড়কপথে


129 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রেল ও লঞ্চে সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি, স্বস্তি সড়কপথে
জুন ১, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ঈদযাত্রা

অনলাইন ডেস্ক ::

শুক্রবার সকাল ৯টায় কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল রংপুর এপপ্রেস। আট ঘণ্টা বিলম্বে বিকেল ৩টায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয় ট্রেনটি। নীলফামারীগামী নীলসাগর এপপ্রেস ছেড়েছে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে। দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে গেছে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এপপ্রেস।

শুক্রবার ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ট্রেনের এমন সিডিউল বিপর্যয়ে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েন বাড়িমুখী যাত্রীরা। বিলম্বের কারণে দুর্ভোগ হয়েছে লঞ্চযাত্রীদেরও। রাজধানীর সদরঘাট থেকে শরীয়তপুরগামী সুরেশ্বর-৫ লঞ্চটি দেড় ঘণ্টা দেরিতে ঘাট ছেড়েছে গতকাল সকাল ৮টায়। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পরে ছেড়েছে লঞ্চ নাগরিক। এ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন যাত্রীরাও। তবে লঞ্চ ও ট্রেনের তুলনায় অনেকটা নির্বিঘ্নে সড়কপথে বাড়ির পথে রওনা হতে পেরেছেন যাত্রীরা। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিছুটা যানজটের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে তাদেরও।

এদিকে বিলম্বে ট্রেন ছাড়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। শুক্রবার সকাল ১০টায় কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিন-চারটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। এ জন্য যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা দুঃখিত। শনিবার থেকে ট্রেন সময়সূচি মেনে চলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে ঈদযাত্রার প্রথম দিনে। কিন্তু রেলের অপারেশন বিভাগ জানাতে পারেনি, কী কারণে দেরি। তবে রেল কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তরবঙ্গের রেললাইন ভালো নয়। স্বাভাবিক সময়েই ওই অঞ্চলের ট্রেন নির্ধারিত সময় মেনে চলতে পারে না। ঈদে ভিড় বাড়ায় সিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন ঈদুল ফিতর পালিত হবে। ঈদের আগে শুধু ৩ জুন অফিস-আদালত খোলা। ওই দিনটি ছুটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকেই স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে ছুটছেন ঢাকার মানুষ। শুক্রবার যাত্রীর ঢল নামে কমলাপুর রেলস্টেশনে। দুপুর ১টায় কমলাপুর স্টেশনে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে রয়েছেন। জ্যৈষ্ঠের খরতাপ ও গরমে শিশুরা নাকাল। রোজা ও গরমে কাহিল বড়রাও। মন্ত্রীর পরিদর্শনের পরও গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪টি ট্রেন ২৫ মিনিট থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছেড়ে গেছে বলে কমলাপুর স্টেশন সূত্রের খবর। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। তবে সিলেটগামী ট্রেন ছেড়েছে নির্ধারিত সময়েই।

শুক্রবার দুপুরে কমলাপুর স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কথা হয় রংপুর এপপ্রেসের যাত্রী খায়রুল কবিরের সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল ৯টায় ট্রেন। ভিড় এড়াতে স্ত্রী ও চার বয়সী সন্তানকে নিয়ে এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে এসেছেন। এখন চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন।

কমলাপুর স্টেশনে লাগানো ডিসপ্লে বোর্ডে ট্রেনের সময়সূচি দেখানো হয়। ট্রেন বিলম্ব হলে কতক্ষণ বিলম্ব হবে, কয়টায় ছাড়তে পারে, তাও দেখানো হয়। কিন্তু দুপুর ১টার সময় দেখানো হয় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ছাড়বে রংপুর এপপ্রেস। কিন্তু ছেড়েছে আরও এক ঘণ্টা দেরিতে।

বিলম্বের কারণে ট্রেন কখন ছাড়বে, তা জানতে যাত্রীদের ভিড় ছিল স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হকের কক্ষে। দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, তথ্য দিতে সেখানেও কেউ নেই। পাওয়া যায়নি স্টেশন ম্যানেজারের বক্তব্য। প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ মুখে ঈদ উপলক্ষে যে তথ্যকেন্দ্র বসানো হয়েছে, তাতেও খবর নেই ট্রেনের।

সক্ষমতার চেয়ে যাত্রী বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে রেলমন্ত্রী বলেন, আগামী ঈদে ট্রেন সংকট থাকবে না। কোরবানির ঈদের আগে আরও তিন-চারটি নতুন ট্রেন চালু হবে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ৫০টি নতুন কোচ (বগি) যোগ হবে রেলের বহরে। তা লালমনিরহাট ও রংপুর রুটে চালানো হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত চাপে কেউ যেন ট্রেনের ছাদে ওঠে ভ্রমণের চেষ্টা না করেন। এতে দুর্ঘটনা ঘটলে রেল কর্তৃপক্ষ দায় নেবে না।

মন্ত্রীর পরিদর্শনকালে কমলাপুরে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সদরঘাটে লঞ্চের সিডিউল বিপর্যয়ের একপর্যায়ে বিক্ষোভ শুরু করেন যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা সেখানে আসেন। তিনি এসে নিজেকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) বলে পরিচয় দিলেও নাম বলেননি। নৌ পুলিশের অতিরিক্ত সুপার কাজী আবদুল কাউয়ুম এসে যাত্রীদের শান্ত করেন। লঞ্চ ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।

সড়কপথে ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-উত্তরবঙ্গের পথে যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী-চৌরাস্তা অংশে যথারীতি যানজট ছিল। তবে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন বিআরটিসিসহ অন্যান্য পরিবহনেও।