রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : ইউএনএইচসিআর-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক


274 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : ইউএনএইচসিআর-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক
জুন ১, ২০১৮ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউএনএইচসিআরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সংস্থার শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে এখনও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি মিয়ানমারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে দেশটির সরকারের জন্য সহায়ক হবে সমঝোতা স্মারকটি। সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তুচ্যুতদের রাখাইনে ফেরাতে বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ইউএনএইচসিআর। গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তর।

এদিকে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার জর্জ ওকাথ ওবো। কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে গতকাল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিনিধি জেমস লি এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রো মোগোরি উপস্থিত ছিলেন।

জর্জ ওকাথ আরও বলেন, এখন সবার চাওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিজেদের বসতভিটায় ফিরে যাক। আর তাদের ফিরে যাওয়ার প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে সেখানে বসবাসের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে অবস্থা পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সবার আগে সতর্ক থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা হবে বলে ঘোষণা এসেছে। তবে সেখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারা যাবেন, কীভাবে যাবেন, সে প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইউএনএইচসিআর আরও স্পষ্ট হতে চায়। ২৭ মে পাঁচ দিনের সফরে ঢাকা আসেন জর্জ ওকাথ ওবো। তিনি তিন দিন কক্সবাজারে অবস্থান করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

আরও চার কোটি ইউরো সহায়তা ইইউর :বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ও রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আরও চার কোটি ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। গতকাল ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছর কমিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঁচ কোটি ১০ লাখ ইউরো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘোষিত সহায়তার মধ্যে দুই কোটি ৯০ লাখ ইউরো ব্যয় হবে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য। এ অর্থ তাদের খাদ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহায়তা, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থসেবায় ব্যয় হবে। ৭০ লাখ ইউরো ব্যয় হবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যা, ভূমিধসসহ নানা দুর্যোগের প্রতিরোধ প্রস্তুতিতে। বাকি ৪০ লাখ ইউরো যাবে রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের সাহায্যে।