লকডাউনে সাতক্ষীরায় প্রশাসন মাঠে, চলছে অভিযান


235 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লকডাউনে সাতক্ষীরায় প্রশাসন মাঠে, চলছে অভিযান
এপ্রিল ৬, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে সাতদিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন শুরু হলেও সোমবার সকাল থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট মোড়, ইটাগাছা হাটের মোড়, কামালনগর সঙ্গিতা মোড়, পাকাপুলের মোড়, প্রাণসায়র দিঘির পাড় মোড়, নারকেলতলা মোড়, ডে-নাইট মোড়, খুলনারোড মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জরুরি কাজ ছাড়া বের না হওয়ার সরকারি নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না সাধারণ মানুষ।
স্বাভাবিক দিনের মতোই লোকজন ঘুরাফেরা করছেন। তাদের অনেকের মুখে নেই মাস্ক। তবে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শহরে দোকানপাট খুলেছে খুবই কম। চলছে মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেটকার। ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা ভাড়া করে সাতক্ষীরা থেকে অনেকে কলারোয়া, তালা, পাটকেলঘাটা, আশাশুনি, দরগাহপুর, কালিগঞ্জ, নলতা, দেবহাটার কুলিয়া, সদরের ভোমরা, ব্রহ্মরাজপুর, ঝাউডাঙ্গা, বৈকারিসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন।

লকডাউন কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সকাল থেকেই কয়েকজন চালককে জরিমানা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে গেলে সে এলাকায় আবার লোকজন রাস্তায় নামছেন।
এ অবস্থা দেখে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, শহরের অবস্থা দেখে লকডাউন আছে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। লকডাউন কার্যকর করতে প্রয়োজনের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি কম। তারা এসব ঘটনায় প্রশাসনের ঢিলেঢালা অবস্থানকে দায়ী করছেন। এমতাবস্থায় লকডাউনে সড়ক ও বাজারে লোক সমাগত ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছে সচেতন মহল।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, লক ডাউন ভঙ্গ করলে এবং শর্তাধীন কার্যক্রমকালে স্বাস্থ্য বিধি না মানলে বা শর্ত ভঙ্গ করলে মোবাইল কোর্টে কঠোর শাস্তি। জরিমানা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা এবং জেল সর্বনিম্ন ১ মাস।
তিনি আরও জানান, করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে লকডাউন বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জেলার তিনটি সীমান্তবর্তী পয়েন্টে ৬জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। সীমান্তের ওই পয়েন্টগুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের সুভাষিনী বাজার, আশাশুনি-পাইকগাছার বাঁকা বাজার ও সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের কলারোয়া।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ মাঠে রয়েছে। সোমবার থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ লকডাউন মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার কুদরত-ই-খুদা জানান, সামেক হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব চালু রয়েছে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানান।