লঙ্কানদের উড়িয়ে সেমিতে বাংলাদেশের কিশোররা


443 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লঙ্কানদের উড়িয়ে সেমিতে বাংলাদেশের কিশোররা
আগস্ট ১৫, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
পরিপূর্ণ গ্যালারি। সবুজের ময়দানে ফুল হয়ে ফুটেছেন বাংলাদেশের কিশোররা। একটি গোলের পরই দলবেধে উচ্ছাস। মাঠের এক কোনায় গিয়ে সবার নৃত্য। লাল সবুজে মুখরিত সিলেট জেলা স্টেডিয়াম।

মঙ্গলবার অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ ফুটবলে দুরন্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

কিশোরদের পায়ের কলাকৌশলে শুধু জয় নয়,মুগ্ধ মাঠভর্তি দর্শকরা। বাংলার কিশোররাও নিজেদের সেরাটা মেলে ধরেছেন। নিখুত পাস,আর দারুণ ফিনিশিং-কিশোররা রং ছড়িয়েছেন। প্রতিপক্ষ লংকানদের কোনো সুযোগই দেননি তারা। পুরো ম্যাচে দারুন ফুটবল খেলে সবার মন কেড়েছেন।

বাংলাদেশের সামনে এখন স্বপ্ন ফাইনালের। আর গ্রুপ পর্বে বৃহস্পতিবার স্বাগতিকরা মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে। তাদেরকে হারালে সেমিফাইনালে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলই পড়বে বাংলাদেশে। যেভাবে খেলেছে তাতে ভারতকে হারানোটা কঠিন হবে না বলেই ধারণা বোদ্ধাদের।

৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ম্যাচগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে। আর তা হচ্ছে বিশাল ব্যবধানে জয়। প্রথম ম্যাচে ভারত-শ্রীলংকাকে ৫-০ গোলে ও দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল ৫-০ গোলে মালদ্বীপকে হারায়। মঙ্গলবার স্বাগতিকরা ৪-০ গোলো শ্রীলংকাকে পরাজিত করে। পুরো ম্যাচে একতরফাভাবে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েছে স্বাগতিক কিশোররা। অফসাইডের কারণে তিনটি গোল বাতিল না হলে বাংলাদেশের গোল সংখ্যা দাড়াতো ৭-এ।

ম্যাচের শুরু প্রথম মিনিটেই লংকানদের জালে বল ফেলে বাংলাদেশ। ভাগ্যিস ৯ নং জার্সিধারী সরওয়ার জামান নিপুর গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি। তাই বলে নিপু ৪ মিনিটের মাথায় গোল করতে ভুল করেননি। ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক শটে প্রথম গোল পান তিনি। আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও নিপুন দ্বিতীয়ার্ধে ৪১ মিনিটে ভুল করেননি।

২৪ মিনিটে সিলেটের খেলোয়ার সাদ উদ্দিনের কল্যাণে আবারো আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে দুই লঙ্কান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক মাইনাস করেন বক্সে। কিন্তু মিড ফিলডার আবেদীন রাকিব শটটি কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে প্রথমার্ধে এক গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর পর থেকেই একই অবস্থা। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশ। খেলার ৯০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য আক্রমণের সুযোগ পায়নি লংকানরা। দুর্বল কৌশল আর ভুল পাসের কারণে প্রতিপক্ষ শ্রীলংকান কিশোরদের গল্প লেখার মতো কোনো উপমা মিলল না। শুধু মিললো ডিফেন্ডার জয়াসংকা পেরেরার হলুদ কার্ড প্রাপ্তির খবর।

পেরেরা ফাউল না করলে হয়তো ব্যবধানটা তখন ২-০ গোলে এগিয়ে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে আর বেশি সময় লাগেনি স্বাগতিকদের। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১৮ মিনিটে লংকান গোল পোস্টে জোরালে শটে গোল করেন মিড ফিল্ডার আবেদীন রাকিব। ৩১ মিনিটে মোহাম্মদ শাওনের কর্ণার কিক থেকে মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান দর্শনীয় হেডে ৩য় গোলটি করেন। তখন দর্শকদের মধ্যে উচ্ছাসের মাত্রাটা আরও বেড়ে যায়। মনে হচ্ছিল তারা একহালি গোলোর অপেক্ষা করছেন। আর বাস্তবে হলোও তাই।—সুত্র সমকাল

দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটে শাওনের পাস থেকে  ঠান্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে ৪র্থ গোলটি করেন সাওয়ার জামান নিপু। শেষ বাশিতে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে শ্রীলংকাকে বিদায় জানায় স্বাগতিক কিশোররা। বুধবার বিকাল ৮টায় মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান।