লঞ্চ-বাসে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া


364 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লঞ্চ-বাসে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া
জুলাই ১৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ঈদ উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রী জিম্মি করে লঞ্চ ও বাস মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ১৪ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চ ও বাসের টিকেট যেন সোনার হরিণ। বিভিন্ন উপায় তদ্বির করে এসব দিনে লঞ্চ বা বাসের একটি টিকেট পাওয়া গেলেও ভাড়া গুণতে হয় শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ বেশি। লঞ্চের কেবিনের সঙ্গে ডেকের ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পেশাল সার্ভিস চালু না হলেও এ বাড়তি টাকা দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে রওয়ানা হতে হচ্ছে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে আগেই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল দুরূহ ব্যাপার। ঈদ উপলক্ষে এসব লঞ্চের কেবিন যাত্রীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। ভাগ্যবান যারা টিকেট পাচ্ছেন তাদেরকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। লঞ্চের কেবিনের ভাড়া বেড়েছে ১শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাসের টিকেটের ভাড়া বেড়েছে ১শ টাকা থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত। লঞ্চের ডেকের ভাড়া পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ঈদ মৌসুমের আগে গত মাসেও ডেকের ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা থেকে ২শ টাকা। এখন ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। একইভাবে সিঙ্গেল কেবিন ৮শ/৯শ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১১৫০ টাকা পর্যন্ত। ডাবল কেবিন ১৬শ/১৭শ টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ২২শ টাকা। ভিআইপি কেবিন ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। তবুও ঈদের পূর্বে ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চের টিকেট কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। কালোবাজারে ২/১টি টিকেট পাওয়া গেলেও তা কিনতে হয় তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর মধ্যে এমভি সুন্দরবন, সুরভী ও কীর্তনখোলা লঞ্চের কেবিনের টিকেট আগে ভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এসব লঞ্চের টিকেট এখন কালোবাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে মালিকরা বরাবরের মতো এবারো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত তুলে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জানান।

সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে সরকার নির্ধারিত লঞ্চের ভাড়া প্রায় ৩শ টাকার মতো; কিন্তু প্রতিযোগিতার কারণে ১শ থেকে দেড়শ টাকায় যাত্রী পরিবহন করা হতো। ঈদ উপলক্ষে ২শ থেকে ২৫০ টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হলেও তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেয়া হচ্ছে।

বাস যাত্রীরা জানান, চলতি মাসের শুরুতেও ভাড়া ছিলো ৪শ টাকা। এখন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব হোসেন জানান, ঈদে যে ভাড়া ধার্য করা হয়েছে তা সরকার নির্ধারিত। ঈদ ব্যতীত অন্য সময় ভাড়া কম নেয়া হয়। তিনি জানান, ঈদে রাউন্ড ট্রিপ দেয়াসহ পরিবহন শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে মালিকদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হয়। উত্সবের কারণেই যাত্রীদের বাড়তি টাকা দিয়ে পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন খরচ মিটিয়ে শ্রমিকদের খুশি করা হয়। ঈদের খুশির ব্যাপারে কোথাও কারও কাছ থেকে জুলুম করা হচ্ছে না।