লতিফ সিদ্দিকী এখনও আওয়ামী লীগের এমপি


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লতিফ সিদ্দিকী এখনও আওয়ামী লীগের এমপি
জুলাই ১, ২০১৫ জাতীয়
Print Friendly, PDF & Email

 

 

ভয়েস ডেস্ক : আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃৃত এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদে যোগ দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এমনকি আওয়ামী লীগের পরিচয়েই তিনি সংসদের এমপি পদে থাকছেন। অধিবেশন কক্ষের প্রথম সারিতে তার জন্য নির্ধারিত ১৪ নম্বর আসনটিও অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও তিনি অবশ্য যাননি। এর আগে গত সোমবার তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

গতকালের অধিবেশন শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারের কোনো সিদ্ধান্তের কথা সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের জানা নেই। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ থেকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবেই সংসদে যোগ দিতে পারবেন লতিফ সিদ্দিকী।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি ইসিতে পেঁৗছায়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা সংসদ সচিবালয় কোনো জায়গা থেকেই তারা কোনো চিঠি পাননি। চিঠি এলে আইনগত দিক বিশ্লেষণ করে সংসদকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের
সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ চিঠি না পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেছেন, এ ব্যাপারে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ না করে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগার থেকে বেরিয়ে লতিফ সিদ্দিকী অনেকটা নিভৃতে সময় কাটাচ্ছেন। গত সোমবার তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিকট আত্মীয়-স্বজন ছাড়া লতিফ সিদ্দিকী নিজেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করছেন না। এমনকি টেলিফোনেও কথা বলছেন না। তিনি গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। দলীয় নেতারাও তাকে এড়িয়ে চলছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী বেশ কয়েকটি দল গতকাল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। তবে সংসদের চলতি অধিবেশনেই তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্ম, হজ, মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এর জের ধরে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। তিনি বর্তমান সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী ১৩৩ (টাঙ্গাইল-৪) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, আট মাস আগে আওয়ামী লীগ থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তাদের কাছে এখনও চিঠি পেঁৗছায়নি। নিয়ম অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো এমপিকে সংশ্লিষ্ট দল বহিষ্কার করলে স্পিকারকে বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। স্পিকার ওই চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবেন। নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্ত ফের চিঠি দিয়ে জানালে স্পিকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে অধিবেশন কক্ষের প্রথম সারিতে ১৪ নম্বর আসনটি লতিফ সিদ্দিকীর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখনও তা অপরিবর্তিতই রয়েছে। এখন তিনি সংসদে যোগ দিলে ওই আসনটিতেই বসবেন। এই সংসদের চতুর্থ, পঞ্চম ও চলতি ষষ্ঠ (বাজেট) অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। গত বছরের ২৫ নভেম্বর তিনি ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। অনুমতি ছাড়া একটানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিতির জন্য সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান থাকলেও লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে বিষয়টি কার্যকর হবে কি-না, তা স্পষ্ট নয়। চতুর্থ অধিবেশন ছিল ১০ কার্যদিবসের, আর পঞ্চম অধিবেশন ছিল ৩৯ কার্যদিবসের। চলতি ষষ্ঠ অধিবেশনে এর মধ্যেই ২২ কার্যদিবস অতিবাহিত হয়েছে।
এ বিষয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ৯ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ৮ জুলাই অধিবেশন শেষ করা হতে পারে। কারাগারে থাকার কারণে লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রযোজ্য হবে কি-না, তা আইন দেখে বলতে হবে। বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয় লতিফ সিদ্দিকীর। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ওই সময় দলীয় সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী দ্রুতই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে স্পিকারের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, দলীয় টিকিটে নির্বাচিত হয়ে বহিষ্কৃৃত হলে কোনো সদস্যেরই সদস্যপদ থাকা উচিত নয়। কারণ স্বতন্ত্র এমপিরা তো নির্বাচনের সময়েই ইসির নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রার্থী হয়ে থাকেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে স্বতন্ত্র এমপি হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে স্পিকার মন্তব্য করেন।