লন্ডন গেলেন খালেদা জিয়া


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লন্ডন গেলেন খালেদা জিয়া
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাজ্য গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

তার সঙ্গে রয়েছেন ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, ব্যক্তিগত সহকারী আবদুস সাত্তার ও একজন গৃহকর্মী। লন্ডনে অবস্থানরত ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে গেছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সমকালকে বলেন, চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্যই লন্ডনে গেছেন চেয়ারপারসন। চিকিৎসার জন্য কেমন সময় প্রয়োজন হয়, তার ওপরই ম্যাডামের দেশে ফেরার দিনক্ষণ নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, চিকিৎসা গ্রহণ ছাড়াও যুক্তরাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের। এ ছাড়া ইউরোপের আরও একাধিক দেশও সফরের কথা রয়েছে তার। এ ছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে দল পুনর্গঠন, জাতীয় কাউন্সিলসহ রাজনৈতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন তিনি।

দেশে ফিরে অঙ্গ দলগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করবেন বলে নেতাদের তিনি জানিয়ে গেছেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন চেয়ারপারসন। বিশেষ করে কয়েকটি অঙ্গ দলের কমিটি বহু আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও তারেকের সঙ্গে পরামর্শ করতে না পারায় তা পুনর্গঠন করেননি বিএনপিপ্রধান।

মঙ্গলবার চেয়ারপারসনকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় জমান।

২০০৬ সালের পর এটি যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করে দেশে ফেরার পথে তারেক রহমানকে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি। বিএনপি নেত্রী গত বছর ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলে তারেক রহমানও সপরিবারে লন্ডন থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। এ বছরের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় মারা যান। এর পর তারেকের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আর সাক্ষাৎ হয়নি। তারেক রহমান একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে লন্ডনে বাস করছেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও রোজার সময় ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতাদের কারাগারে থাকার কারণ দেখিয়ে ওই সফর তিনি শেষ মুহূর্তে বাতিল করেন। গত আগস্টে লন্ডন যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও তা পিছিয়ে দেন তিনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনারও সৃষ্টি হয়। রোববার রাতে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য যাত্রার কথা জানান।

তিনি বলেন, এর আগে দেশটিতে যাওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, চেয়ারপারসন বহু দিন পরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যাচ্ছেন। আমরা নেত্রীকে অনুরোধ করেছি, যেন তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে দেশে আসেন। ওই বৈঠকে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে দলের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন খালেদা জিয়া। নজরুল ইসলাম খান বলেন, চেয়ারপারসন তার অনুপস্থিতিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেতাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।