লাবসায় মসজিদের সম্পত্তি দখল করার পায়তারা : মুসুল্লিদের দুর্ভোগ


1787 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লাবসায় মসজিদের সম্পত্তি দখল করার পায়তারা : মুসুল্লিদের দুর্ভোগ
মার্চ ৩১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরা সদরের লাবসা গ্রামের জমিদার মৃত মুন্সি ইমাদুল হকের রেখে যাওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা, হাইস্কুল, প্রাইমারী স্কুল, পৌষ্ট অফিস, পুকুর, খেলার মাঠ ও স্বাস্থ্য সেবার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় এবং চিকিৎসালয়ের ডাক্তারের বসবাসের জন্য তিন কক্ষ বিশিষ্ট পাকা বিল্ডিংটি ভূয়া ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি দেখিয়ে জালিয়াতি করে দখলের পায়তারা করছে একটি অসাধু চক্র। তাদের রোষাণলে পুরার্কীতি মসজিদটিও রেহায় পাচ্ছেনা।
এলাকাবাসী ও মুসুল্লীদের দাবী, পুরার্কীতি নিদর্শন পুরাতন মসজিদটিতে মুসুল্লিদের জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে জায়গা সংকট দেখা যায়। এছাড়া দিন দিন মুসুল্লি’র সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রসারিত নতুন মসজিদটির নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল জমিদারদের রেখে যাওয়া এই সম্পত্তি ভোগ দখলের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে পায়তারা চালাচ্ছে। শুক্রবার জুমআ’র নামাজ শেষে স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম কাজী, মুনিবুর রহমান, মোমীনুল ইসলাম, ইমামুল হোসেন, আতিয়ার রহমান, এড. শহিদুল ইসলামসহ সকলে এ দাবী জানান।
স্থানীয়রা আরো জানান, ‘কোর্টের রায় দলিল দস্তাবেজ ২৭/১১/১৯২৮ইং- তারিখে ৩৩২৭ নং রেজিঃ দান পত্র মূলে মোট দুই দাগে ৩৬ শতক জমি তৎকালীন ডিস্টিক বোর্ড (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) বরাবর দান করেন। বিভিন্ন সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তারগণ তাদের পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস ও ভোগ দখল করেছেন। একাধিকবার সরকারি অর্থ দ্বারা ঐ বাড়ির মেরামতের কাজও করা হয়েছে। পরবর্তীতে দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার মৃত আব্দুল জব্বার অবসরে গেলে বাড়িটি ফাকা থাকার সুযোগে পাশ্ববর্তী চতুর সম্পদ লোভী নুরুল হক ও তার সন্তানরা ঐ বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করে আছে। নুরুল হকের মৃত্যুর পর তার পুত্র মৃত মাহমুদুল হক ঐ পুরাতন বাড়িটির উপর তিন তলা তৈরী করে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করে মা, ভাই, বোনদের নিয়ে বসবাস করতে থাকে। দলিল দস্তাবেজ পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছে ঐ জমি ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি নয়। ঐ জমি কখনও ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি ছিলনা।
লাবসা গ্রামের জমিদার মৃত মুন্সি ইমাদুল হকের রেখে যাওয়া লাবসা গ্রামসহ আশপাশের ৪/৫ টি গ্রামের সেবার লক্ষ্যে রেখে যাওয়া সম্পত্তি আজ বেদখল হতে চলেছে। বর্তমান জরিপে সি.এস ও এস.এ রেকর্ডে ঐ ডাক্তারের বাসভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড হয়েছে। ঐ ভূমি দস্যুরা কেস করলে আপিল বিভাগের ৬০৬০২/১৩ নং কেসে (৩১ধারা) শুনানী অন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে মামলাটি মন্জুর হয়। ই,সি ৪২৭০ নং ওয়াকফ স্টেটের মোতওয়াল্লী মাহমুদা খাতুন মৃত নুরুল হকের কন্যা নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিলেও সে কোন ডাক্তার নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার ওয়াকফ স্টেটের (৪২৭০) কথিত মসজিদে এযাবৎ কালেও কখনো নামাজ হয়নি। ইমাম ও মুয়াজ্জিন নেই এবং কোন এতিমখানার কোন অস্তিত্ব নেই। মাহমুদা খাতুন এভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জমিদার বাড়ির মসজিদটির নির্মান কাজ বন্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ধরনের ভূমিদস্যুদের দ্বারা আজ জমিদারদের মানব সেবার জন্য দান করা সম্পত্তি বেদখল হতে চলেছে। বাড়িটিসহ জমি দখলে সহায়তা করছে নুরুল হকের কন্যা মাহমুদা খাতুন ও জামাতা সদর হাসপাতালে কর্মরত এমদাদ হোসেন।
এদিকে, পুরার্কীতি প্রাচীনতম মসজিদটি জায়গা সংকলনের কারণে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছে মুসুল্লিরা। মুসুল্লিদের দাবী, আমরা অতি কষ্টে এখানে নামাজ আদায় করি। দিন দিন মুসুল্লিদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরাতন মসজিদ টি অক্ষত রেখে পাশে নতুন মসজিদটির নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
বর্তমানে এই মসজিদের সম্পত্তি ও ডাক্তারের বাসভবনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে। এব্যাপারে স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাই অবৈধ দখলদারদের হটিয়ে লাবসা গ্রামের জমিদার মৃত মুন্সি ইমাদুল হকের সম্পত্তি জনগণের সেবার লক্ষ্যে রেখে যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য এলাকার সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একই সাথে জালিয়াত চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।