লিগ্যাল এইড কর্মসূচী সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ : সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ


793 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লিগ্যাল এইড কর্মসূচী সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ : সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ
এপ্রিল ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না :
“গরিব দুঃখীর বিচার পাওয়ার অধিকার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় সাতক্ষীরার পুরাতন জজ কোর্ট থেকে এ বন্যাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষীন করে নতুন জজ ভবন চত্তরে এসে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। র‌্যালীতে নেতৃত্ব প্রদান করেন জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দার মোঃ আমিরুল ইসলাম।

র‌্যালী পরবর্তীতে জেলা জজ মহোদয়ের সম্মেলন কক্ষে সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।  রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন পরবর্তীতে এক আলোচনা সভা সহকারী জজ মুনিয়া জাহিদ এবং মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সাতক্ষীরা জজ কোর্ট চত্তরে অনুষ্টিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান জোয়ার্দার মোঃ আমিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিজ্ঞ জেলা জজ আবু মনসুর মোঃ জিয়াউল হক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, সিভিল সার্জন উৎপল কুমার দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এস,এম মোস্তফা কামাল, সাতক্ষীরা আইজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদ, সরকারী কৌশুলী লুৎফর রহমান এবং পিপি এ্যাড. ওসমান গণি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রাফিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার আবু তালেব, উত্তরণ প্রতিনিধি কামাল হোসেন, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি মোঃ রেজাউল ইসলাম, বরসা’র সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম মুন্না, প্যানেল আইনজীবি এ্যাড. মোস্তফা আছাদুজ্জ¥ান দিলু, এ্যাড. নাজমুন নাহার ঝুমুর, সুবিধাভোগী  চম্পা খাতুন ও রাশিদা বেগম।

News Pic-1=28.04.16 (2)

আলোচনা সভায় সভাপতি বলেন এ কর্মসূচী প্রবর্তনের ফলে সরকারকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন লিগ্যাল এইড নিঃসন্দেহে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী জনকল্যাণমূখী কর্মসূচী। কারন এই সরকার ইতোমধ্যে ক্ষমতায় এসে প্রথমে লিগ্যাল এইড সম্পর্কিত একটা অধ্যাদেশ জারী করে সীমিত আকারে এ কর্মসূচী চালু করে।
পরবর্তীতে পূনরায় ক্ষমতায় এসে ২০০০ সালে একটা বিধিবদ্ধ আইন প্রনয়নের মাধ্যমে পুরোদমে এ কর্মসূচী চালু করে। যা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সংশোধণী ও সংযোজনের মাধ্যমে উৎকর্ষিত হচ্ছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক পেক্ষাপটে গরিব দুঃখী, সহায়-সম্বলহীন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে আইনী সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ কর্মসূচী যে কতটা ফলপ্রসু তা তা উপকার ভোগীরাই সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারছেন, আইন আদালত সম্পর্কিত সকলেও এ বিষয়টার গুরুত্ব উপলব্ধী করতে পারছেন সন্দেহ নাই। আমাদের সংবিধান অনুায়ী সকল নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা ও আইনে অধিকার প্রাপ্তী একটা অন্যতম মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩৩ অনুচ্ছেদে এ বিষয়টা অত্যন্ত পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে। আর বর্তমান সরকার জনগণের এ মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের অনেক ক্ষেত্রে তার প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কিংবা তার দেহ, সম্পত্তি বা সুনামের উপর আঘাত বা হস্তক্ষেপ হলে তাকে বাদি হয়ে আদালতে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে হয় কিংবা অন্যের দয়েরকৃত মামলায় বিবাদী বা আসামী হলে তাকে আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রতিদন্দিতা করতে হয়। আর্থিক সচ্ছলতার কারনে হয়তো ধনীক বা বৃত্তবান শ্রেনীর লোকের পক্ষে মামলার বিভিন্ন খরচাদি সামাল দিয়ে প্রতিকার পাওয়া বা ন্যায় বিচার পাওয়া সম্বব হলেও গরিবদের তথা বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য সঠিক প্রতিকার বা ত্বরিত ন্যায় বিচার পাওয়া দুরহ হয়ে পড়ে। তাই গরিব-দুঃখী তথা অসচ্চল ব্যক্তিদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্র তথা সরকার লিগ্যাল এইড (বিনা খরচে আইনী সহায়তা) সম্পর্কিত যে কর্মসূচী চালু করেছে নিঃসন্দেহে তার দ্বারা দেশের দরিদ্র জনগণ যারপরনাই উপকৃত হচ্ছেন।

002

সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি তথা এ কমিটির প্রত্যেক সদস্য অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে চলেছেন যাতে অত্র জেলার নিরিহ ও অধিকার বঞ্চিত গরিব জনগণ এর সুবিধা পেয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তথা ন্যায় বিচার পেতে পারেন। অত্র জেলায় আমরা এ কর্মসূচী সফল বাস্তবায়নের জন্য জনগনকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন যায়গায় স্থায়ী বিল বোর্ড স্থাপন করেছি। মাঝে মাঝে কিছু লিফলেটও বিলি করা হচ্ছে। স্থানীয় খবরের কাগজে এবং স্যাটেলাইট বা ডিস চ্যানেলে নিয়মিত বিজ্ঞাপণ আকারে এ কর্মসূচী সম্পর্কে প্রচার করা হচ্ছে।
আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা এবং ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করেছি যাতে দুর দুরান্তের মানুষ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমেও আইনী সুবিধার সুফল ভোগ করতে পারে বা এ কর্মসূচীর আওতায় আসতে পারে। গত বছর থেকে লিগ্যাল এইড কর্মসূচীতে মেডিয়েশন বা আপোষ মিমাংসা পদ্ধতি চালু হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ছোট খাটো দ্বন্ধ, ফ্যাসাদ বা বিরোধে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি প্যানেল আইনজীবিদের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা বা আপোষ মিমাংসা করে নিতে পারেন।
সাতক্ষীরা লিগ্যাল এইডকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় এনজিও এ বিষয়ের উপর বিশেষ ভাবে কাজ করছে এবং আমাদের কর্মসুচী সফল বাস্তবানের জন্য জেলা কমিটিকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে। আমি লিগ্যাল এইড কমিটির কাজে সহায়তাকারী এ সকল এনজিওকে, প্যানেল আইনজীবিগণকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দকে, জণপ্রনিধিসহ সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবিষয়ে বেশি বেশি প্রচার প্রচারণা চালানোর আহবান জানিয়ে আরও বলেন যারা অসহায় বিচারপ্রার্থী জনগণ রয়েছে তারা আমাদের জেলা জজ আদালত ভবনের নিচ তলায় অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও পরামর্শ নিতে অনুরোধ করেন কারন লিগ্যাল এইড অফিসের দার সবার জন্য সব সময় উন্মুক্ত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ পারভেজ শাহরিয়ার, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রিপতি কুমার বিশ্বাস, বিজ্ঞ সহকারী জজ ফারাহ বিদা ছন্দা, বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মহিবুল হাসান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কেরামত আলীসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ের  কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ।