লোকসানে মুখে সাতক্ষীরার গম ব্যবসায়িরা


429 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লোকসানে মুখে সাতক্ষীরার গম ব্যবসায়িরা
জুলাই ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
বাজারে চাহিদার পাশাপাশি ভালো দাম না পাওয়ায় গম আমদানি করে লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া সরকারী ভাবে ব্রাজিল থেকে নিম্মমানের গম আমদানি করায় বাজারে গমের চাহিদা খুবই নিম্মমুখি হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে।
সাতক্ষীরার অন্যতম কৃষি পন্য আমদানিকারক প্রতিষ্টান মেসার্স মজুমদার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক শ্রী কুমারেশ মজুমদার জানান, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি গমের চাহিদা বাজারে খুবই কম। তাছাড়া ভারতে গমের বাজার চড়া যাওয়ায় আমদানি করার পর তা দেশী বাজারে ভালো দাম পাওয়াও যাচ্ছে না। ফলে লোকসানের কারনে এই কৃষি পন্যটি বর্তমান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে তার প্রতিষ্টানটি।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারী গম ব্যবসায়ী মো. মোজাম্মেল হক জানান, দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে আমদানিকৃত ভারতীয় গম পাইকারীতে প্রতি মনে দাম কমেছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। কিছু দিন আগেও প্রতি কেজি গম ২২ টাকা দরে বিক্রি করলেও তা বর্তমান ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে বলে জানান তিনি। তাছাড়া সম্প্রতি গমের বাজার এতো খারাপ যাওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে ব্রাজিল থেকে সরকারী ভাবে নিম্মমানের গম আমদানি ফলে। এ কারনে সাধারন ক্রেতারা ভারতীয় বা দেশী গমও কিনতে চাইছে না। ফলে এবার কয়েক লাখ টাকা লোকসানের আশংকা করছেন তিনি।
এদিকে ভোমরা বন্দর দিয়ে গম আমদানী কমেছে। ২০১৩-১৪ বছরের তুলনায়  গেল অর্থবছরে প্রায় ৩৫ শতাংশ আমদানি কমেছে এ কৃষি পন্যটি। দেশী বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারনে আমদানি কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. লুৎফুল করিম জানান, গেল  অর্থবছরের ১১ মাসে এ বন্দরে গম আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ২৩৫.৮৭ মেট্রিকটন। এরমধ্যে জুলাইতে ২৩ হাজার ৫৩৩ টন, আগষ্টে ১৮হাজার ৮১০ টন, সেপ্টেম্বরে ৯ হাজার ৩০৮ টন, অক্টবরে ২ হাজার ৩০০ টন, নভেম্বরে ১ হাজার ২০০ টন, ডিসেম্বরে ৪ হাজার ৪২৫ টন, জানুয়ারীতে ৭ হাজার ৫১৯ টন, ফেব্রুয়ারীতে ৪ হাজার ৩৫৭.৬২ টন, মার্চে ৪ হাজার ৯০১ টন, এপ্রিলে ৪৭ হাজার ১৭২.৫১ ও মে মাসে ২৭ হাজার ৩৩২.৫৫ টন। যার মুল্য ২৪২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১ টাকা। সুত্রটি আরো জানান, গেল অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ বন্দর দিয়ে গম আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৫.৯৭ টন। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
ভোমরা বন্দরের দায়িত্বে থাকা কাস্টমস্রে বিভাগীয় সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল-আমীন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে  বলেন, ভোমরা বন্দর দিয়ে গম আদানি কমে গেছে। পন্যটিতে সরকারের কোনো  রাজস্ব নেই। ফলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় গেল অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে গম আমদানি অন্তত ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দর দিয়ে এই পন্যটি আমদানি করে পরিবহন খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সময় লাগার কারনে ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর দিয়ে গম বা চাল আমদানি করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।