শকুনের দোয়ায় কখনো গরু মরে না : প্রধানমন্ত্রী


382 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শকুনের দোয়ায় কখনো গরু মরে না : প্রধানমন্ত্রী
মার্চ ২১, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির কাউন্সিলে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘হাসিনা বিহীন নির্বাচন’, তার মানে আরেকটি ২১ আগস্টের মতো ষড়যন্ত্র করছেন কিনা— এটাই আমার প্রশ্ন? এ ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ নেই। উনি তো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। দলটির জন্মই হত্যা-ক্যুর মাধ্যমে। অগণতান্ত্রিক পন্থায়। তবে রাখে আল্লাহ মারে কে। শকুনের দোয়ায় কখনো গরু মরে না। আল্লাহ যতদিন জীবন রেখেছেন, ততদিন দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাব। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে এ ব্যাপারে রুখতে পারবে না। গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এমন প্রশ্ন করেন। ‘ঢাকার বাইরে আন্দোলন সফল হয়েছে’— খালেদা জিয়ার এমন দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে আন্দোলনের নামে অনেক মানুষকে হত্যা করতে পেরেছেন, এটাই কি তার বড় তৃপ্তি? ওই সময় ১৫-১৬টি জেলায় বিএনপি-জামায়াত জোট তাণ্ডব চালিয়েছে। শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরে এখন উনি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন! আসলে এরা মানুষ নয়, মানুষ নামের অমানুষ। হাসিনা বিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগের কিছু ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরেন। ওই হামলার আগেও বিএনপি নেত্রীসহ তার দলের নেতারা কী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন? ২১ আগস্ট ঘটনার আগে বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে হুমকি দিলেন, ১৫ আগস্ট বাপ যে পথে গেছে আমাকেও সেই পথে যেতে হবে! এরপর বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) বললেন, আমি প্রধানমন্ত্রী কেন কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। আমার অস্তিত্ব থাকবে না এটা জেনেই উনি এ কথা বলেছিলেন।

সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ২০৩০ সাল নাগাদ ভিশন ঘোষণা এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার অঙ্গীকারের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন অনেকেই আমাদের নীতি ও ভিশন অনুসরণ করছে। বিএনপি নেত্রী বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু এটা যে আওয়ামী লীগের আমলেই সম্ভব হচ্ছে তা স্বীকার করলে ভালো হতো। এখন অনেক কথা বলে। কিন্তু তাদের আমলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে গেছে, দেশের জনগণের জন্য কিছু করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষকে দেওয়ার জন্য, আর বিএনপিসহ অন্যরা আসে নিজেরা নেওয়ার জন্য— দেশবাসীকে এই তফাত্টা লক্ষ্য রাখতে হবে।

গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করতেই বিএনপি নির্বাচনে আসেনি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বিচারে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার পরও শুধু দেশ ও জাতির স্বার্থে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসার জন্য নিজে টেলিফোন করেছিলাম। কিন্তু ফোনে বিএনপি নেত্রীর হুমকি-ধমকির কথা তো দেশবাসী শুনেছে। নির্বাচনে আসার জন্য আমি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেই এবং সাফ বলে দেই যতগুলো মন্ত্রণালয় বিএনপি চায় আমরা দিয়ে দেব। কিন্তু বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে না আসার কারণ জাতির সামনে পরিষ্কার। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের বিশ্বাস থেকেই উনি নির্বাচনে আসেননি। অবৈধ দখলকারীর হাতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল কখনই যে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না, তা বিএনপি প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বিচারে দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে। পরে আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ওই সময়ের বীভত্স্য দৃশ্য কল্পনাও করা যায় না। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা অতীতে দেশের মানুষ দেখেনি। এরা হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ ছাড়া কিছু বোঝে না।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই কেবল দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন করতে পারে না কেন? আমরা গত ৭ বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছি, ২১ বছরেও তারা পারেনি কেন? এসব বিষয় একটু বিচার করুন। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করতে পারে। কারণ আমাদের একটি ভিশন, স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে। যা অন্যদের নেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। গত দুই টার্ম পরপর আমরা ক্ষমতায় রয়েছি বলেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। সারা বিশ্বেই এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।

সভার শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনের চরম দুর্দিনে বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের সময় শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন জিল্লুর রহমান। উনি দলের হাল না ধরলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসত কি না সন্দেহ। আমি বিনা কারণে গ্রেফতারের সময় জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করি। উনি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গেছেন। আসলে তার মৃত্যুতে আমি একজন পারিবারিক অভিভাবককে হারিয়েছি। সূচনা বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।