শরণার্থী নীতি পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো সুপারিশ নেই : বিশ্বব্যাংক


111 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শরণার্থী নীতি পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো সুপারিশ নেই : বিশ্বব্যাংক
আগস্ট ৩, ২০২১ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে শরণার্থী নীতি পর্যালোচনায় কোনো সুপারিশ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এক বিবৃ্তিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, শুধু রোহিঙ্গা নয়, এই পর্যালোচনায় কোনো দেশভিত্তিক সুপারিশ নেই।

কয়েকদিন ধরে বিশ্বব্যাংকের শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে উদ্বৃত করে গণমাধ্যমে খবর এসেছে, রিফিউজি পলিসি রিভিউতে বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তাদের ডকুমেন্টে নেই।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ‘তারা খুবই বিস্মিত। বুঝতে পারছেন না, কেন এ ধরণের মতামত আসছে, যা তাদের ডকুমেন্টে নেই।’

তিনি জানান, বাংলাদেশসহ ১৪ টি দেশের জন্য রিফিউজি পলিসি রিভিউ সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ( ইআরডি) পাঠানো হয়। এর সঙ্গে ইউএনএইচসিআর একটি বেজলাইন তথ্য সম্পর্কিত সংযুক্তি দেয়, যেখানে কোনো ‘কান্ট্রি স্পেসিফিক সুপারিশ নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় ফেরত না যাওয়া পর্যন্ত তাদের সহায়তা করছে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৯ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বর্তমান নীতি, চর্চা এবং কর্মসূচি সম্পর্কে বেজলাইন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখানে দেশভিত্তিক কোনো সুপারিশ নেই।

এর আগে বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ৫৯ কোটি ডলার অনুদান দিয়ে সাহায্য করছে, যাতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যায়। প্রস্তাবিত রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলোর প্রতি বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা, যাতে পরিস্থিতি ভালোভাবে পরিচালনার জন্য প্রাসঙ্গিক নীতি ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা যায়।

বিশ্বব্যাংকের ওই পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিশ্বব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টি দেশের জন্য। রিপোর্টে তারা যেসব দেশে শরণার্থী আছে, সেসব দেশে তাদের সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়। এ কারণে এ প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্টের সঙ্গে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে বাস্তব অবস্থা ও চিন্তাভাবনার মিল নেই।