‘শান্তি রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে’


302 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘শান্তি রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে’
নভেম্বর ৯, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সেই শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য সরকার প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে কাজ করে যেতে হবে। সবাই মিলে দেশের উন্নয়ন করতে হবে। ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালে মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী

লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে_ এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

গতকাল মঙ্গলবার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ সংলগ্ন পৈতৃক জমিতে নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বাড়িতে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক। এর আগে ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত নেতা ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশবিরোধী চক্র বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি, তাদের দোসর এবং এ দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা একজোট হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যখন দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছে, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আসতে আরম্ভ করেছে_ ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চাইছে।

এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাসহ আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার বিবরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণকে একযোগে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ সম্পর্কে জনমনে যথেষ্ট সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। কেউই এখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নামের অশুভ শক্তির উত্থান দেখতে চায় না। জনগণ শান্তি চায়। আমরা অবশ্যই সেটা তাদের দেব। আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিবাদের শিকড় খুঁজে বের করায় যথেষ্ট সক্রিয়। সরকার ও জনগণ একযোগে প্রচেষ্টা চালালে আমরা অবশ্যই এই মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করব। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে। আওয়ামী লীগ ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করবে।

সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক শুরু হয়। এ সময় শোক প্রস্তাব উপস্থাপনের পর ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস, ২৭ নভেম্বর শহীদ ডা. মিলন দিবস, ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। এরপর বৈঠকটি আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে মুলতবি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন : আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গতকাল বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়া যান। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স হেলিপ্যাডে পেঁৗছার পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে যান। সেখানে সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বেদির পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি পবিত্র ফাতেহা পাঠ এবং বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সমাধিসৌধের বেদিতে আরেকবার ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। বাদ জোহর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় সরে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।