শামছুর রহমানের হত্যাবার্ষিকী আজ


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শামছুর রহমানের হত্যাবার্ষিকী আজ
জুলাই ১৬, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

যশোর প্রতিনিধি :
আজ বৃহস্পতিবার সাহসী সাংবাদিক শামছুর রহমানের ১৫তম হত্যাবার্ষিকী। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পার হলেও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি; বরং গত দশ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
দৈনিক জনকণ্ঠের তৎকালীন বিশেষ প্রতিনিধি শামছুর রহমান ২০০০ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যারাতে পত্রিকাটির যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের  পর যশোরের পাঁচজন সাংবাদিকসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। সাংবাদিক হত্যা মামলায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সহকর্মীদের জড়ানোয় গোড়াতেই মামলার মেরিট নষ্ট করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিতর্কিত চার্জশিট থেকে সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হলেও কোনো ফায়দা আসেনি। উপরন্তু সরকার বদলের পর নতুন করে আরেক সাংবাদিককে চার্জশিটভুক্ত করা হয়।
নিহতের সহোদর সাজেদ রহমান জানান, একাধিক বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে সাংবাদিক নেতারা শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। এছাড়া তারা একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু মামলার অগ্রগতি হয়নি।
সাজেদ রহমান আরও জানান, ২০০১ সালে সিআইডি এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে মামলাটির বর্ধিত তদন্ত করে সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়।
বর্ধিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে মামলাটি খুলনার দ্রæত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। মামলার বাদী শামছুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন। বাদীর এই আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না তা জানাতে রুলনিশি জারি করেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে রুলের জবাব না দেওয়ায় মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ হয়ে আছে উল্লেখ করে যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তাদেরও প্রত্যাশা দ্রুত এ মামলার বিচার কার্যক্রমের স্থবিরতা দূর হোক।
প্রসঙ্গত, মামলাটির চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হীরক পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র‌্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন কালু হৃদরোগে এবং যশোর সদর উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামের আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন।  আসামিদের মধ্যে ছয়জন সাংবাদিক।
কর্মসূচি : শামছুর রহমানের ১৫তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন আজ নানা কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালোব্যাজ ধারণ, কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।