সাশক নয় সেবক হতে চাই : একান্ত সাক্ষাতকারে মেয়র প্রার্থী সাহাদাৎ হোসেন


549 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাশক নয় সেবক হতে চাই : একান্ত সাক্ষাতকারে মেয়র প্রার্থী সাহাদাৎ হোসেন
অক্টোবর ১৯, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য পৌর মেয়র প্রার্থী সাহাদাৎ হোসেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই প্রার্থী একান্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন, পৌরসভার শাসন নয় সেবক হতে চাই। আলোকিত পৌরসভা বিনির্মাণের লক্ষ্যে আজীবন পৌরবাসীর সেবা করতে চাই। ধনী-গরীব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে আর্ত মানবতার সেবায় মানুষের সেবার ব্রুত নিয়ে পৌরবাসীর উন্নয়নে পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলব। স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করা এই রাজনীতিবিধ বলেন, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করায় পৌরসভায় জলাবন্ধতা থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ পৌরসভায় বসবাসের সুবিধে পায় না। দীর্ঘদিনের এই রাজনীতিবিধ আরো বলেন, পৌরসভার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির বাল্ব জ্বলে না। ফলে রাতে ভুদভুদে অন্ধকার থাকে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভায় শতভাগ বিদ্যুতের সুবিধায় আনবেন বলে জানিয়ে আরো বলেন, প্রাণ সায়েরের খাল নর্দমায় পরিণত হয়েছে। সেখানে বসার কোন যায়গা নেই। পাশ দিয়ে হাঁটাও যায়না। খাল আধুনিকায়ন করে দু’ধারে বসার স্থান করে দেওয়া হবে। যাতে পৌরবাসী বিকেলে খালধারে বসে মুক্ত বাতাস পেতে পারে। তিনি আরো বলেন, পাওয়ার হাওজের পাশে পৌরসভার একটি ডাষ্টবিন আছে। সেখানে ময়লা রাখায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দিনে কাক, আর রাতে শেয়াল-কুকুর সেখানে বসবাস করে। ফলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মভাবে দুষিত হচ্ছে। মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে উক্ত ডাস্টবিন উচ্ছেদ করা বলে তিনি জানান। আসন্ন মেয়র নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী এই প্রার্থী পৌরসভার স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই খারাপ দাবী করে বলেন, পাকাপুল, নিউমার্কেট ও সংগীতা মোড়ের কিছু প্রভাবশালী মানুষ তাদের বাড়ি ও দোকানের বাথরুমের সাথে পৌরসভার ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করেছে। ফলে সেগুলো প্রাথ সায়েরের খালে প্রবেশ করে। যা পরিবেশের সাথে মারাত্মক ক্ষতিকর দাবী করে এগুলো বন্ধ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘ দিনে মাঠের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই প্রার্থী পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, পৌরসভার ট্রেড লাইন্সেস, জন্ম নিবন্ধন, প্রত্যয়ন পত্র, খাজনা, ট্যাক্স, পানির বিল প্রভৃতি দিয়ে গিয়ে পদে পদে হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। পৌর মেয়র ৩৪ হাজার টাকার খরচ পর্যন্ত কোন টেন্ডার না দিয়ে নিজের একতিয়ারে করতে পারে। এই সুযোগ নিয়ে কতিপয় কাউন্সিলর ড্রেন, রাস্তা সংস্কার না করে ভুয়া ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে কোন এ সব বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারী এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের কল্যানে পৌরসভায় একটি পৃথক ফান্ড গঠন করা হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
সরকার সমার্থিত দলের এই নেতা আরো বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে সরকার এখানে বেশি বেশি উন্নয়ন করবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পৌরসভার পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পানি ময়লা, অবর্জনায় ভরে থাকে। ফলে মানুষ উচ্চ দামের বিভিন্ন কোম্পানীর সুপেয় বিশুদ্ধ পানি পান করছে। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দলের দীর্ঘ দিনের রাজনীতির সাথে আছি। রাজনীতি ও দলের দুঃসময়ে দলের প্রয়োজনে বহুবার কারা বরণ করেছি। ফলে অতিথি নেতারা এসে এখানে সুযোগ পাবে না। তার রাজনৈতিক জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তুলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলার নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে একটি টিম গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানান। তিনি আরো জানান, মনোনয়নের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই তিনি মেনে নেবেন। মেয়র প্রার্থী সাহাদাৎ হোসেন ১৯৮০ সালে স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৩ সালে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৯০’ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা ২০০৪ সালে পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে ২১ ডিসেম্বর তিনি পৌর আওয়ামী লীগের নির্বাচনেসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অধ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করার জন্য রেড ক্রিসেন্ট, জেলা কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শকেরও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনের জন্য দলীয় সমার্থনসহ পৌরবাসীর সাহয্য, সহযোগিতা ও সমার্থন কামনা করেছেন।