শাহিনের উপর নৃশংস হামলাকারী নাঈম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে


220 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শাহিনের উপর নৃশংস হামলাকারী নাঈম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে
জুলাই ২, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর :
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মারাত্বক আহত ১৪ বছর বয়েসের কিশোর ভ্যানচালক শাহিন মোড়লের উপর নৃশংস হামলার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এই মামলার অন্যতম আসামী নাইমুল ইসলাম নাঈম। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবিরের আদালতে নাঈমকে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে নাঈম নৃশংস হামলার বর্ণনা দেয়।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ওসি রেজাউল ইসলাম ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, গত সোমবার বিকালে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বাজিতপুর নিজ বাড়ি থেকে নাইমুল ইসলাম নাঈম (২৪) কে আটক করে পুলিশ। নাঈম বাজিতপুর গ্রামের বাবর আলী মোড়লের ছেলে। বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাঈমকে পুলিশ আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ভ্যান ও ভ্যানের চারটি ব্যাটারী উদ্ধার করা হয়। নাঈম ও তার সহযোগিদের কাছ থেকে ভ্যান ও ব্যাটারী কেনার অপরাধে কলারোয়ার আলাইপুর গ্রামের আরশাদ পাড় ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাইডাঙ্গা গ্রামের বাকের আলীকে আটক করা হয়।

ওসি আরো জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শাহিনের উপর নৃশংস হামলার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এই মামলার অন্যতম আসামী নাইমুল ইসলাম নাঈম। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবিরের আদালতে নাঈমকে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে নাঈম নৃশংস হামলার ওই ঘটনা বর্ণনা দেয়। নাঈম আদালতে এ সময় বলে, গত ২৭ জুন বৃহস্পতিবার নাইমুলসহ অজ্ঞাত আরও তিন জন গোপন সভা করে তারা নাইমুলের মুঠোফোনে থেকে ভ্যান চালক শাহিনকে ফোন দিয়ে বলে আগামী কাল শুক্রবার কলারোয়ায় একটা ভাড়া আছে তুই সকালে কেশবপুর বাজারে চলে আসিস।

এ সময় তারা তাকে সাড়ে তিন শত টাকা ভাড়াও দেবে বলে জানায়। সকালে তারা একসাথে শাহীনের ভ্যান যোগে কেশবপুর হাসপাতালের সামনে দিয়ে সরসকাটি চৌগাছা হয়ে ধানদিয়া হামজামতলা মোড়ে এসে ফাঁকা জায়গায় তার ভ্যানটি থামাতে বলে। এরপর তারা তাকে ভ্যানটি দিয়ে শাহীনকে বাড়ি যেতে বলে। এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বললে তোকে মেরে ফেলবো হুমকি দেয়। পরে শাহীন ভ্যান দিতে রাজী না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যানের সিটের উপর লোহার সাথে শাহীনের মাথায় জোরে কায়েকবার আঘাত করে তাকে পাট ক্ষেতে ফেলে দেয়। পরে তারা চার জন ভ্যানটি নিয়ে ঝাউডাঙ্গার উদ্ধেশ্যে রওনা দেয়। ঝাউডাঙ্গা বাজারে এসে তারা প্রথমে বাকের আলীর কাছে চারটি ব্যাটারি ছয় হাজার ২৩৬ টাকায় বিক্রি করে। এরপর তারা কলারোয়া উপজেলার মির্জাপুর মোড়ে গিয়ে আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রির কাছে ভ্যানটি সাত হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে। পরে তারা সবাই টাকা ভাগাভাগি করে কেশবপুর চলে আসে। সে নিজে এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে আদালতে স্বীকার করেছে।

ওসি জানায়, ভ্যান ও ব্যাটারী কেনার সাথে জড়িত আরশাদ পাড় ও বাকের আলীকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া এই ঘটনার সাথে আরো যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

#