শাহিনের ভ্যানগাড়িটি এখনো উদ্ধার হয়নি : সনাক্ত হয়নি হামলাকারী


169 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শাহিনের ভ্যানগাড়িটি এখনো উদ্ধার হয়নি : সনাক্ত হয়নি হামলাকারী
জুন ৩০, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর :
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার পল্লীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় মারাত্বক আহত ১৪ বছর বয়েসের ভ্যানচালক শাহিন মোড়ল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোববার ভোরে তার মাথায় অপারেশন শেষে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা এখানা আশংকাজনক।

এদিকে গত শুক্রবার ইঞ্জিনভ্যান চালক শাহিন মোড়লের মাথায় আঘাত করে তার পরিবারের একমাত্র উপর্জনের বাহনটি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার পর তিন দিন অতিবাহিত হলেও ছিনতাই হওয়া সেই ভ্যান গাড়িটি এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ব্যাপারে গত শনিবার আহত শাহিনের হতদরিদ্র পিতা বাদী হয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা করলেও পুলিশ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি রেজাউল ইসলাম রোববার বিকালে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, শাহিনের ছিনতাই হওয়া ভ্যানগাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

জানা যায়, যশোর জেলার কেশবপুরের মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে গোলাখালি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহীন শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাবা-মার সংসারের জন্য রোজগারে বেরিয়েছিল। দুপুরের দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভ্যানটি ভাড়া নেয়। শাহীন তাদের নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ার দিকে রওনা হয়। ধানদিয়া গ্রামের হামজাম তলা মাঠে ঢুকে একটি পাটক্ষেতের পাশে দুর্বৃত্তরা শাহীনের মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়, নিয়ে যায় শাহীনের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও। ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে সে। পরে জ্ঞান ফিরে কান্না শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় খবর দেয়।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হোসেন বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে শাহীনকে উদ্ধার করে খুলনার আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তার অবস্থার অবনতি হলে বিকালে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা হয়।’

প্রসঙ্গত, বসতভিটে ছাড়া শাহীনদের কোনও জমিজমা নেই। সম্প্রতি একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কেনে তারা। পিতা-পুত্র দুই শিফটে ওই ভ্যানটি চালিয়ে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলো। শাহীনের ছোট দুই বোনের পড়া লেখাসহ সংসার চালাতো তারা। জীবিকার সেই শেষ সম্বলটিও নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা। এখন শাহীনের বেঁচে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এর সঙ্গে আছে এনজিওর ঋণের খড়গ।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার পর শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নেন।

#