শিক্ষক হবো নাকি অধ্যাপক ?


176 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শিক্ষক হবো নাকি অধ্যাপক ?
জুলাই ৮, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

উমর ফারুক

কর্মক্ষেত্রে আমার দুটো পরিচয়। একটা দাফতরিক, অন্যটা শ্রেণিকক্ষ নির্ভর। দাফতরিক পরিচয়টা আমার প্রাতিষ্ঠানিক পদশ্রেণি বহন করে। বড়-ছোট অবস্থান প্রকাশ করে। কর্মস্থলে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই পরিচয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রভাষক, নাকি অধ্যাপক এই পরিচয়টা আমার প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করে। কিন্তু দাফতরিক এই পরিচয়টা আমার শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বহীন। খুবই গুরুত্বহীন। আমি তার কাছে শুধুই একজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক। পাঠদানের সক্ষমতা, ব্যক্তিমানুষ ও ব্যক্তিত্বের মানদণ্ডে আমার শিক্ষার্থী আমাকে পরিমাপ করে। খুব প্রয়োজন না পড়লে, ও কখনও কাউকে বলবেও না আমি প্রভাষক নাকি অধ্যাপক। বরং বলবে, আমার ওই শিক্ষক খুব ভালো/মন্দ পড়ান। খুব ভালো/মন্দ মানুষ। খুব ভালো/মন্দ মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ। আমার দ্বিতীয় পরিচয় ওটাই। এই পরিচয়টাই প্রতিদিন একজন শিক্ষককে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।
আমার একজন সহকর্মী ছিলেন, যিনি প্রকাশ্যে বলতেন ক্লাস-পরীক্ষা-উত্তরপত্রমূল্যায়ন তার ভালো লাগে না। তিনি শুধু বলতেনই না, কথা কাজে মিলও রাখতেন। তার জন্য আমাদের পরীক্ষা পেছাতে হতো। ফলাফল প্রকাশ পেছাতে হতো। একাধিকবার বিনীত অনুরোধের পর তিনি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন। বলাবাহুল্য তিনি গবেষণায় ভালো ছিলেন। আরও বলাবাহুল্য, শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় তখন কাজের চাপ প্রচণ্ড বেশি ছিল, তবে নিশ্চিতভাবে তা সবার জন্য সমান। একে-অন্যের সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। আমার আরও একজন সহকর্মীর কথা বলি। তিনি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বললেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাজ গবেষণা করা। ক্লাস নেওয়া তার কাজ নয়।’ যদিও তিনি তার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট করলেন না তাহলে ক্লাস কে নেবেন? যাই হোক, তিনি তার কথার প্রথমাংশ কতটুকু পরিপালন করতেন আমার জানার সুযোগ হয়নি। তবে শেষাংশের ব্যাপারে তিনি কথা রেখেছিলেন। ফলে, তার জন্যও আমাদের পরীক্ষা পেছাতে হতো। ফলাফল প্রকাশ পেছাতে হতো। তিনিও একাধিকবার বিনীত অনুরোধের পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন। আমরা বিব্রত হতাম। আইন অনুযায়ী একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে বাধ্য করার সুযোগ কম। ফলে আমাদের অপেক্ষা করতে হতো। একদিন আমার অন্য এক সহকর্মী বললেন, বিশ্ববিদ্যালয় কখনও এমন হয় না। আপনি একটু মনে করুন তো, আপনার শিক্ষক কি এতটা আন্তরিকতার সঙ্গে, সিরিয়াসলি ক্লাস নিতেন? এমন অনেকদিন গেছে যখন রুটিনে ক্লাস ছিল, কিন্তু ক্লাস হয়নি। কী সত্য না?’ বললাম, ‘হ্যাঁ, সত্য। কিন্তু আপনি কি আপনার শিক্ষকের ওই আচরণটা পছন্দ করতেন? যদি না করে থাকেন, তবে ওই খারাপ বৈশিষ্ট্য আপনার, আমার মধ্যে কেন সংযুক্ত করতে হবে?’ তিনি চুপসে গেলেন। বললেন, ‘আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়টাকে একটা কিন্ডার গার্টেন বানিয়ে ছাড়বেন।’

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি সহমত হলাম। ঘটনা সত্য। ঘটনা অনেকাংশেই সত্য। আমাদের দেশে, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে জেলায়-জেলায় গড়ে উঠছে, তাতে এগুলো ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। অধিকতর তথ্য, আমাদের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে আর্থিক বরাদ্দ তা কেবল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দের প্রায় তিনভাগের একভাগ। তবুও আমরা গবেষণার কথা বলছি। মানের কথা বলছি। অধ্যাপক হয়ে ওঠার কথা বলছি। শিক্ষক হয়ে ওঠার কথা বলছি।

একথাও সত্য, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয় ও উভয়ক্ষেত্রের শিক্ষকদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। শিক্ষক ও ভালো শিক্ষকের মধ্যেও পার্থক্য আছে। প্রচলিত ধারণা বলছে, একজন শিক্ষকের কাজ পাঠদান করা। কিন্তু একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না। পাঠকে আনন্দময় করে তোলেন। কিন্তু একজন উত্তম শিক্ষক কখনও শ্রেণিকক্ষে শুধু পাঠদান করেন না; কিংবা পাঠকে আনন্দময় করে তোলেন না। বরং তার কাজ শিক্ষার্থীকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা। তার ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা। আলোকিত করা।

প্রাথমিক শিক্ষা-উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে একটি প্রচলিত পার্থক্য ছিল। আছে ও থাকবে। তা হলো, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত জ্ঞান বিতরণ করা হয়। আর উচ্চশিক্ষার কাজ গবেষণা করা। উচ্চশিক্ষা গবেষণা করে যা আবিষ্কার করবে, যে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে। এটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণার সঙ্গে বাস্তবের বেশ অমিল আছে। বাজেট বরাদ্দের ঘাটতি আছে। আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। শিক্ষাদর্শনের ঘাটতি আছে। ফলে কেউ যদি বলেন, আমাদের স্কুল-কলেজে যারা পাঠদান করছেন তারা শিক্ষক। আর যারা উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত তারা গবেষক। এটা মেনে নিতে আমার কিঞ্চিৎ আপত্তি আছে। প্রশ্ন জাগে, আমাদের সমাজ প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৌলিক দায়িত্ব কী? গবেষণা? নাকি জ্ঞান বিতরণ? নাকি দুটোই?

জ্ঞান-বিজ্ঞানের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আমাদের সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার অনেকটা অমিল রয়েছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের কেউ কেউ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ শুধু গবেষণা করবেন। নতুন কিছু উদ্ভাবন করবেন। এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে উচ্চশিক্ষা বিতরণ করবেন কে? যদি তাকেই বিতরণ করতে হয়, তাহলে তাকে পাঠদানে আগ্রহী হয়ে উঠতে হবে। সক্ষমও হয়ে উঠতে হবে। ফলে প্রথমত তাকে পাঠদানে, তথা গতানুগতিক শিক্ষকতায় আগ্রহী হতে হবে। তারপর শিখতে হবে গবেষণা। আরও একটি পথ আছে, সেটা হলো, উচ্চশিক্ষায় দুটো স্তর করা যেতে পারে। একটি স্তরে শুধু গবেষণা হবে। অন্যস্তরে শুধু পাঠদান হবে। যুগপৎ গবেষক নিয়োগ করতে হবে; আবার শিক্ষকও নিয়োগ করতে হবে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তবে একজন অধ্যাপককে প্রথমে শিক্ষক হয়ে উঠতে হবে, এবং পরে হতে হবে গবেষক। মনে রাখতে হবে, একজন ভালো শিক্ষক, ভালো গবেষক নাও হতে পারে। তাতে পাঠদান ব্যাহত হবে। এবং একই সঙ্গে একজন ভালো গবেষক যদি ভালো শিক্ষক না হন; তাতেও পুরো পাঠ বিতরণ ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। ফলে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর স্বপ্ন দেখেন তিনি একদিন পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হবেন। গ্রেড-ওয়ান অধ্যাপক হবেন। এজন্য তার বেশকিছু গবেষণা ও ডিগ্রি আবশ্যক হয়ে পড়ে। তিনি সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সবার আগে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক হয়ে উঠতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য, তার পদোন্নতি নীতিমালার কোথাও পাঠদানের ব্যাপারে কোনও কিছু উল্লেখ না থাকায় কেউ কেউ এই ব্যাপারে ব্যাপক উদাসীন হয়ে পড়েন। শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে না নিয়ে, আর দশটা পেশার মতো বেছে নেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

দেশে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন ও বিধি-বিধান মোটাদাগে প্রায় একই। উদাহরণ হিসেবে যদি আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশ্লেষণ করি তবে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর আইন ২০০৯-এর ৩৭নং ধারায় একজন শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করা আছে। যেখানে একজন শিক্ষকের মোট সাতদফা কাজের কথা বলা হয়েছে, যার প্রথম চারটি নিম্নরূপ:

(ক) বক্তৃতা, টিউটোরিয়াল, আলোচনা, সেমিনার, হাতে-কলমে প্রদর্শন ও কর্মশিবিরের মাধ্যমে ছাত্রদিগকে শিক্ষাদান করিবেন;

(খ) গবেষণা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করিবেন;

(গ) ছাত্রদের সহিত ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করিবেন, তাহাদিগকে পথ নির্দেশ দিবেন এবং তাহাদের কার্যক্রম তদারক করিবেন;

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং উহার অনুষদ ও অন্যান্য সহ-শিক্ষাক্রমিক সংস্থার পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে, পরীক্ষা নির্ধারণে ও পরিচালনায় পরীক্ষার উত্তরপত্র ও গবেষণামূলক প্রবন্ধের মূল্যায়নে এবং গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, অন্যান্য শিক্ষাক্রমিক ও সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির সংগঠনে কর্তৃপক্ষসমূহকে সহায়তা করিবেন।

অতএব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বলছে, শিক্ষকের দায়িত্ব উপর্যুক্ত কাজগুলো সম্পাদন করা। এগুলো করলেই তিনি শিক্ষক। নয়তো নয়।

অন্যদিকে, যোগদানের পর, যৌক্তিক সময় ও যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে একজন প্রভাষক পদোন্নতি প্রত্যাশা করেন। ক্রমান্বয়ে হতে চান অধ্যাপক। সেই পদোন্নতি নীতিমালায় উপর্যুক্ত শিক্ষকের দায়িত্বসংক্রান্ত কেবল ৩৭(খ) উপধারার সন্তুষ্টি ছাড়া আর কোনও যোগ্যতাকে তেমন কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যদিও আইনের ৩৭(খ) উপধারা সাদাচোখে মূলত শিক্ষার্থীদের গবেষণা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের কথা বোঝা যায়। একজন প্রভাষকের অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতার মধ্যে যদি রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির (কারও কারও ও কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য) কথা বাদ দেই তবুও কয়েকটি মানসম্পন্ন গবেষণাপত্র ও ডিগ্রি আবশ্যক। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর পদোন্নতি নীতিমালার ৩নং ধারায় তিনটি বিকল্পের মাধ্যমে অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যার কোথাও পাঠদানের সক্ষমতা, যোগ্যতা কিংবা প্রচলিত শিক্ষক হয়ে ওঠার যোগ্যতাকে কোনোরূপ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই যোগ্যতার জন্য আমরা আলাদা কোনও সনদপত্র প্রত্যাশাও করছি না, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আইনের পাশাপাশি প্রথা ও বিবেকের ‘দাসত্ব’ বেশি করেন। তবুও শিক্ষকতা ও অধ্যাপক হওয়ার কাজ ও যোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য থাকায় আমাদের অনেকেই শিক্ষক না হয়ে কেবল অধ্যাপক হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছেন। এবং অবশেষে সফলও হচ্ছেন। বিষয়টি ক্রমান্বয়ে অতীব দুঃখজনক হয়ে উঠছে। প্রকৃতপক্ষে, সকল অধ্যাপকের স্বপ্ন থাকা উচিত শিক্ষক হয়ে ওঠা। এবং সকল শিক্ষকের স্বপ্ন থাকা উচিত অধ্যাপক হয়ে ওঠা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, খুব কম সময়ই, এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটতে দেখা যায়। একথা সত্য, যারা অধ্যাপক হন তারা কেউ কেউ শিক্ষকও হন। কারণ শিক্ষক হলে অধ্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু শুধু অধ্যাপক হলে সেটা সবার জন্য সম্ভব নাও হতে পারে। একজন শিক্ষককে অনেক রকম অলংকার পরতে হয়। তার একটি অলংকার হলো, অধ্যাপক হয়ে ওঠা। কিন্তু শিক্ষকতার অস্তিত্ব বিলীন করে, শুধু অধ্যাপকের অলংকার পরে থাকলে তা খানিকটা অশোভন দেখায়।

সমালোচনার শঙ্কা মাথায় রেখেই লেখাটা এগিয়েছে। লেখাটা কাউকে আঘাত দেওয়ার জন্য নয়। বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যেও নয়। লেখাটা সবার জন্যও নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে যার জন্য প্রযোজ্য কেবল তার জন্য। কেউ আঘাত পেলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এই লেখা কোনও অবস্থাতেই গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করছে না। অধ্যাপক হওয়াকেও নিরুৎসাহিত করছে না; বরং শিক্ষক হয়ে ওঠাকে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। উৎসাহিত করছে।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। তথাপি আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা অধিকতর প্রায়োগিক। আমরা যখন জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কাজ করছি, শিক্ষাব্যয় তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনছি, তখন জ্ঞান বিতরণ ও বুননের জন্য আলাদা বরাদ্দ পাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু তবুও আমাদের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে দুটো কাজই ঠিক রাখতে হবে। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। গবেষণা করতে হবে। এবং একই সঙ্গে সেই জ্ঞান সর্বোচ্চ মানে বিতরণও করতে হবে। এই দুটোর সমন্বয় এখন অতিআবশ্যক হয়ে পড়েছে।

খুব করে প্রত্যাশা করছি, আমরা সবাই গবেষক হয়ে উঠি, এবং অধ্যাপক হয়ে উঠি। তবে তার আগে হতে হবে শিক্ষক। কারণ শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার্থীই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

লেখক : শিক্ষক, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর