শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত


132 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত
অক্টোবর ২৯, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

সারাদেশের বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আগামী ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানান। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, নভেম্বরে সীমিত পরিসরে একটু একটু করে কোনও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা সরকারের আছে। বিশেষ করে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে কোনও স্বাস্থ্য ঝুঁকি না নিয়ে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা পুরোটাই শেষ করতে পেরেছিলেন। যে কারণে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেছে। তবে আগামী বছরের ২০২১ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আট মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটেছে। তাদের কথা চিন্তা করে তাদের নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করার জন্যই এ পদক্ষেপ।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর পহেলা জানুয়ারি বই উৎসব নাও হতে পারে। বই প্রস্তুত থাকবে। তবে আমরা উৎসবের বিকল্প ভাবছি। উৎসবটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা হয়তো করা হবে না। কারণ উৎসব করতে গিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কোন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারবো না।

আরেক প্রশ্নে ডা. দীপু মনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পাঁচটি পরীক্ষা নেওয়ার পর করোনার কারণে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। পরীক্ষার্থীদের কেউ কেউ চান, তাদের অটো পাস দেওয়া হোক। আবার কেউ কেউ চান, ওই পাঁচটি পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক।

তিনি বলেন আমরা যেটি ভাবছি সেটি হলো এই পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। পরীক্ষা ছাড়া তারা কর্মজীবনের ঢুকতে গেলে নানা জটিলতার সৃষ্টি হবে।তাদের যোগ্যতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে। আমরা পরীক্ষার নিয়েই তাদের মূল্যায়ন করতে চাই। তাছাড়া তারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মত সংখ্যা এত বেশি নন। এইচএসসির ক্ষেত্রেও আমরা আট মাস দেরি করেছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের আমি বলবো, আপনারা পড়াশোনা করে প্রস্তুত থাকুন। আমরা এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাথেও কথা বলবো, কিভাবে আমরা দ্রুততম সময়ে পরীক্ষাটি নিতে পারি।

করোনাকালে টিউশন ফি আদায়ের প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা খবর পেয়েছি কোনও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিউশন ফি আদায় কঠোরতা অবলম্বন করছে।এটি কাম্য নয়। যে সকল অভিভাবক করোনাকালে আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। তবে সব অভিভাবকের তো এই সমস্যা নেই। এছাড়া করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া ফি মিলাদ-মাহফিল ফি, এরকম অনেক ফি লাগেনি। সেসব ফির ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।

করোনাকালে আগামী বছরের স্কুল ভর্তি তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, সেটি যথা সময়ে আমরা জানিয়ে দেবো। যা কিছুই করা হোক স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ডিসেম্বর জানুয়ারিতে শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই সার্বিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব যথাসময়ে জানিয়ে দেব।