শিক্ষাব্যবস্থা অতিমাত্রায় পরীক্ষা নির্ভর : দীপু মনি


141 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শিক্ষাব্যবস্থা অতিমাত্রায় পরীক্ষা নির্ভর : দীপু মনি
অক্টোবর ১৪, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অতিমাত্রায় পরীক্ষা নির্ভর হয়ে গেছে। পরীক্ষাই মূল্যায়নের একমাত্র ব্যবস্থা বলে অনেকে মনে করেন। সবাই শুধু জিপিএ-৫ পেতে দৌড়াচ্ছে। এটি শুধু পরীক্ষার্থী নয়, অভিভাবকদেরও বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলছে। সকলে জিপিএ-৫ এর মোহে দৌড়াতে গিয়ে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা চেষ্টা করছি। পরীক্ষা ও সনদ নির্ভরতা কমিয়ে পাঠদানকে আনন্দদায়ক করা হবে।

বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এডুকেশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান এবং নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম ও সংগঠনের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক। ইরাব সভাপতি সাব্বির নেওয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রথমপর্বে বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মুসতাক আহমদ।

অনুষ্ঠানে ডা. দীপু মনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় বাস্তবতার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের যোগসূত্র নেই। যার কারণে বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসছে না। এ কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবভিত্তিক করা হচ্ছে।

সবাইকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার পর সরকার এখন শিক্ষার কাঙ্খিত মান অর্জনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সব পর্যায়ের শিক্ষায় মানোন্নয়নের কথা বলেছি। শিক্ষায় মান উন্নয়ন করতে কারিকুলামে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ খুব জরুরি, আমরা সে বিষয়েও কাজ করছি। একই সঙ্গে লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর কোনো সরকারই সেভাবে শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি। গত কয়েক বছরে শিক্ষার যে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে তা তারই কন্যার কারণে।

সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষায় বড় ধরনের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। সামনে ৩৫ হাজার প্রাথমিকশিক্ষক নিয়োগ করতে যাচ্ছি। আগামীতে আমরা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবো।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, সাধারণ শিক্ষার মধ্যেও আমরা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে আসতে চাই। আমরা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে চাই। যাতে সবাই কর্মমুখী হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মাউশি মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বোঝাপড়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষা বিটের সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

জুরি বোর্ডের বিচারে এ বছর তিনজন ইরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ লাভ করেন। তারা হলেন- কালের কণ্ঠের শরীফুল আলম সুমন, ডেইলি সানের সোলাইমান সালমান এবং বণিক বার্তার সাইফ সুজন।

জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ আশিষ সৈকত, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক শরীফুজ্জামান পিন্টু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম বিন হারুণ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে শিক্ষা সাংবাদিকদের কাজের স্বীকৃতি এবং আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে। পেশাদারিত্বের প্রতি অবিচল থেকে সাংবাদিকরা কাজ করবেন। তাহলেই সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য পুরণ হবে।

ইরাব সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সুমন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি, ইউজিসিসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর প্রধান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।