১৭ নভেম্বর থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু হচ্ছে ১০০ শয্যার কার্যক্রম


398 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
১৭ নভেম্বর থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  শুরু হচ্ছে ১০০ শয্যার কার্যক্রম
নভেম্বর ১৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে  অপারেশনের মধ্য দিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হচ্ছে। মেডিসিন, সার্জারী, শিশু সার্জারী, গাইনী, শিশু, অর্থোপেডিক্স, চক্ষুসহ ৯টি বিভাগ চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সার্জারী ও ওটি চালু করা হবে। বিভাগগুলো জীবানু মুক্ত করতে ফিউমেগেশন করে রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান জানান, ১৭ নভেম্বার সকালে অপারেশনের মাধ্যমে ১০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু হয় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের। ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়। শহরের কাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে করা হয় অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন। গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি পুর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে গত ৩১ অক্টোবর থেকে পুর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতালের দাবীতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। সূত্র জানায়, শুরুতেই ৩০ শয্যা নিয়ে শুধুমাত্র মেডিসিন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষার জন্য ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালু হওয়া বাধ্যতামূলক। ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমে এক্সপার্ট না হলে মানুুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৫ নভেম্বর প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, এমপি, এর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক করলেও আন্দোলন থেকে সরে আসে নি শিক্ষার্থীরা। অবশেষে ১৪ নভেম্বর ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ১ মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে।

সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ দুটি অফিস আদেশ জারি করেছে। সেখানে মেডিসিন, সার্জারী, শিশু সার্জারী, গাইনী, শিশু, অর্থোপেডিক্স, চক্ষুসহ ৯টি বিভাগ খোলার জন্য বলা হয়েছে। একই দিন অপর একটি আদেশে ওটি বিভাগ চালুর কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসক জরুরী ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী আরিফ আহমেদের তত্ত্বাবধানে ৩০টি, শিশু সার্জারীতে ৪টি, সার্জারি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আতিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ১৬টি, গাইনী বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারহানা হোসেনের তত্ত্বাবধানে ১০টি, শিশু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. খান গোলাম মোস্তাফার তত্ত্বাবধানে ১০টি, অর্থো সার্জারী বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. এ এইচ এস এম কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ১০টি, ইএনটি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহাব উদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধানে ১০টি, চক্ষু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. অমল কুমার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ৫টি এবং চর্ম ও যৌন বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. হরষিত চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে ৫টি বেড দেওয়া হয়েছে। সোমবার হাসাপাতালে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রত্যেক বেডকে জীবানু মুক্ত করতে ফিউমেগেশন করে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়েছে। এই ইউনিটে একসাথে ৪টি অপারেশন করা যাবে। সংশ্লিষ্ঠরা জানান, এমন ধরণের অপরেশন থিয়েটার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাড়া আর কোথাও নেই। সূত্র আরো জানায়, প্রত্যেক ওয়ার্ডে ডাক্তার ও নার্স রাখতে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নও করা হয়েছে সব ওয়ার্ডের স্থান।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান জানান, আজ সকালে অপারেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম পূর্ব থেকে চলে আসছিলো। তিনি আরো জানান, সার্জারী, ওটিসহ ৮ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হবে। রোগী ইনডোরে ভর্তি করা হবে। তিনি আরো জানান, রোগীদের সেবাদিতে আমাদের চিকিৎসকরা প্রস্তুত আছেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ শুরু করা যাবে।