শিক্ষার্থীরা ফ্রী ফায়ার ও পাবজি গেমে আসক্ত, দেখবে কে ?


385 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শিক্ষার্থীরা ফ্রী ফায়ার ও পাবজি গেমে আসক্ত, দেখবে কে ?
এপ্রিল ২৬, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আবু ছালেক ::

করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরার গ্রাম গন্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফ্রী ফায়ার ও পাবজি গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে দেখবে কে? প্রশ্ন সচেতন মহলের।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য শিক্ষার্থীরা দিন দিন অমনোযোগী হয়ে পড়েছে লেখা পড়া থেকে। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছে ইন্টারনেট ফাইটিং গেম ফ্রী ফায়ার ও পাবজি নামক গেমে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ যেন এক নেশায় আসক্ত হয়ে গেছে। ১০ বছর থেকে ২৫ বছরের উঠতি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছে। এ সব বিদেশি গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশন্ষ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্রী ফায়ার গেমে অনুরাগী অনেকে জানায়, প্রথমে তাদের কাছে ফ্রী ফায়ার গেম ভালো লাগতো না। কিছু দিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছে। এখন গেম না খেলে তাদের অস্বস্তিকর মনে হয়। অনেকে বলেছেন, আমি পূর্বে গেম সম্পর্কে কিছু জানতাম না। এখন নিয়মিত ফ্রী ফায়ার ও পাবজি গেম খেলি। মাঝে মধ্যে গেম খেলতে না পারলে মুঠোফোণ ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয়। ফ্রী ফায়ার নামক গেমকে মাদকদ্রব্যর নেশার চেয়ে ভয়ন্ষ্কার বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় অনেকে। ব্লুহোয়েল গেমের আতন্ষ্কে কেটে যাওয়ার পরেই নতুন জালে আটকে যাচ্ছে উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা ও যুব সমাজ। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখা সহ শিক্ষার পাঠ গ্রহন নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রিয়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়েছে ফ্রী ফায়ার ও পাবজি নামক গেম নেশায়। এ ব্যাপারে গোবরদাড়ী জোড়দিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষাক সুনিল কুমার শানা বলেন, আমাদের সময় আমরা অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলা ধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম, কিন্তু এখন কার যুগে নতুন প্রজন্মের সন্তানদেরকে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিএ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম-গন্জে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রুপ গেম মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা অনেকে পড়ার টেবিল ছেড়ে খেলছে মোবাইল গেম কখনো ইন্টারনেটের খারাপ সাইটে বিভিন্ন ছবি দেখছে। ফলে তারা নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এতে একদিকে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তাই কিশোর-কিশোরীদের মা-বাবাসহ সমাজের সকলেরই খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তারা মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে। এবং প্রতিটি সন্তানকে একটু যত্ন সহকারে খেয়াল রাখার দায়িত্ব বা কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি। ফ্রী ফায়ার ও পাবজি নামক গেমকে মাদকদ্রব্যর নেশার চেয়ে ভয়ন্ষ্কার বলে উল্লেখ করে স্থানীয় কয়েকজন। প্রবীন সমাজ সেবকরা বলেন, এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক, শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের এগিয়ে আসতে হবে।