শিবপুরে শিশুর উপর অমানবিক নির্যাতন


436 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শিবপুরে শিশুর উপর অমানবিক  নির্যাতন
নভেম্বর ২০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের আলম গাজী নামে ১০বছরের এক শিশুর বিরুদ্ধে চুরির
অপবাদে নির্যাতন করেছে পুলিশিং
কমিটির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার ঢালী। নির্যাতিত ওই শিশুর পিতা নেই, মাতা অন্যের ঘরে। তার বাড়ি সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গদাঘাটা মল্লিকপাড়া গ্রামে। তার পিতা মৃত আমজিয়ার গাজী। শিশু আলম গাজী জানায়, সে পেটের দায়ে স্থানীয় আবাদেরহাটের মুনসুর গাজীর হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে আলম
হোটেল মালিকের কাছে দুদিনের ছুটি
চায়। কিন্তু তার ছুটি মঞ্জুর না হওয়ায়
সে পালিয়ে বাড়িতে আসে।
ইতোমধ্যে বাড়িতে থাকাকালে গত
শনিবার হোটেল মালিক মুনসুর গাজীর শিয়ালডাংগার বাড়িতে চুরি হয়। সেই চুরির দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় আলমের উপর। তার স্বীকারোক্তি আদায় করতে চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পাস দিয়ে তার হাতের আঙ্গুলের গিরায় গিরায় চাপ দিয়ে থেতলে দেয়া হয়েছে। সিগারেটের আগুনে হাতের কব্জির উপরের অংশ পুড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে বেদম পেটানো হয় শিশু আলমকে। প্রথমে মুনসুর গাজীর বাড়িতে পরে স্থানীয় আবাদের হাট পাশে অবস্থানরত কৃষক লীগ অফিসে এনে পৃথকভাবেনকয়েক দফায় নির্যাতন করার এক পর্যায়ে আলম জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। জ্ঞান ফিরলে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর এ বিষয়ে থানা পুলিশ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
আলম জানায়, হোটেল মালিক মুনসুর,
আনোয়ার ঢালী নামে এক পুলিশিং
কমিটির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক,
যুবলীগনেতা  আবুল কাশেম তাকে চুরির অপবাদে এভাবে নির্যাতন করেছে।
আলম আরো জানায়, সে বাঁচার জন্য
তাদের হাত-পা ধরলেও তাকে
নির্মমভাবে পেটানো হয়। জ্বলন্ত
সিগারেট ঠেসে ধরে হাত পুড়িয়ে দেয়
মুনসুর আর আনোয়ার। পাস দিয়ে হাতের আঙ্গুলের গিরা থেতলে দেয় আনোয়ার ঢালী। ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে মারে কাশেম। আলমের মা আমেনা খাতুন বর্তমানে কুশখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের স্ত্রী। তিনি
নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো
অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না।
নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায়
চরম আতঙ্কিত অসহায় শিশু আলমেরা।

এব্যাপারে পুলিশিং কমিটির বহিস্কৃত
সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার ঢালী
ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অন্যায়
হয়েছে বলে স্বীকার করেন। হোটেল
মালিক মুনসুর গাজী নির্যাতনের কথা
স্বীকার করে বলেন বিষয়টি মিমাংসা
করে নেওয়া হয়েছে।