শুধু ৩ পয়েন্টই পেল আর্জেন্টিনা


359 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শুধু ৩ পয়েন্টই পেল আর্জেন্টিনা
মার্চ ২৫, ২০১৭ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
ম্যাচটি যে আর্জেন্টিনা মানের হয়নি, সে কথা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন কোচ এদোয়ার্দো বাউজাই। ‘খারাপ খেলিনি’ মন্তব্য করে তার স্বস্তির প্রকাশ এক কথায়, ‘যেভাবেই হোক, ম্যাচ তো জিতেছি।’ আর্জেন্টিনার জন্য আসলে বেশি দরকার ছিল জয়টাই। নান্দনিক ফুটবলও অনেক সময় দুর্ভাগ্যের কারণে ম্যাচ জিততে দেয় না। বাউজার দল গতকাল মোটামুটি মানের খেলে ঠিকই ১-০তে হারিয়েছে চিলিকে। মেসির পেনাল্টিতে পাওয়া ওই এক গোল আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই ধাপ টপকে আর্জেন্টিনার অবস্থান এখন তিনে। হাতে থাকা বাকি পাঁচ ম্যাচ খেলে সেরা চারে জায়গা ধরে রাখলেই রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত। পাঁচ নম্বরের দোদুল্যমান জায়গা থেকে উঠে আসাই তাই চিলি ম্যাচের বড় অর্জন।

বুয়েন্স আয়ার্সের রিভার প্লেট স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে অবশ্য আরও একাধিক অর্জন আছে। চাইলে কেউ এটাকে ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের প্রতিশোধ হিসেবে দেখতে পারেন। কেউবা আবার ক্লদিও ব্রাভোর বিপক্ষে মেসির স্পক কিক প্রতিশোধও বলতে পারেন। গত বছরের জুনে কোপা আমেরিকার শততম আসরের ফাইনালে যখন টাইব্রেকারে শিরোপা নির্ধারণ হয়, মেসি তখন ব্রাভোকে ভেদ করতে গিয়ে আকাশে বল উড়িয়ে দিয়েছিলেন। মেসির মতো আর্জেন্টিনা দলও চিলিকে আটকাতে পারেনি। যার জের ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাই দিয়ে বসেছিলেন মেসি। সেই ক্লদিওকে আবারও মেসি সামনে পেলেন গতকালের ম্যাচের ১৬ মিনিটের মাথায়। চিলি ডি বক্সে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া হোসে ফুয়েনসালিদার ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কোপা ফাইনালের পর থেকে আর কখনও স্পট কিক মিস করেননি মেসি। সুযোগ কাজে লাগালেন এবারও। বরং বাঁ পায়ে এমনই শট নিয়েছেন, ব্রাভো বিভ্রান্ত হয়ে উল্টো দিকে ঝাঁপ দিয়েছেন। মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্য চিলিই লিড নিতে পারত। সপ্তম মিনিটের সময় ফুয়েনসালিদা আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। সফরকারীরা অবশ্য গোলপোস্টের কারণেও গোলবঞ্চিত হয়। ম্যাচের ৬৫ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে ফ্রি কিক নেন অ্যালেক্সিস সানচেজ। আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরা নড়ারও সুযোগ পাননি। কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আলবিসেলেস্তেরা এদিন তুলনামূলক আক্রমণাত্মক একাদশ নিয়েই নেমেছিল। মেসির সঙ্গে ছিলেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েইন আর ডি মারিয়ারা। পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটিতে সংগ্রামরত অ্যাগুয়েরো জাতীয় দলের জার্সিতে ছিলেন নিষ্প্রভ। হিগুয়েইনও পারেননি আশানুরূপ খেলতে। এদিন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে সেরা সুযোগটি পেয়েছিলেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। বিরতির আগে মেসির ফ্রি কিক থেকে চিলির গোলমুখে বল পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যানসিটিতে খেলা এই ডিফেন্ডার অবিশ্বাস্যভাবে দু-তিন গজ দূরে থাকা জালে বল জড়াতে পারেননি। শট নিয়ে বল উড়িয়ে দেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শেষের দিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ করে গেছে চিলি। তবে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজে মেসির দেওয়া ওই গোলের স্কোরলাইন নিয়েই।

এ জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ১৩ ম্যাচ শেষে ২২ পয়েন্ট হলো আর্জেন্টিনার। নিজেদের জয়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনা তাদের স্বস্তির খবরটি পেয়েছে প্যারাগুয়ে থেকে। আসুনসিঁওতে তৃতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরকে ২-১-এ হারায় প্যারাগুয়ে। যে কারণে ইকুয়েডর তিন থেকে পাঁচ নম্বরে নেমে যায়। আর কলম্বিয়া ১-০তে বলিভিয়াকে হারিয়ে দেওয়ায় চিলি ৪ থেকে নেমে যায় ছয়ে। আপাতত পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আসতে পেরেই খুশি আর্জেন্টিনা কোচ বাউজা, ‘ম্যাচটা কঠিন ছিল। অনেকটা নকআউট পর্বের মতো। তবে আমার মনে হয়, আমরা খারাপ খেলিনি। জয়টাই তো আসল।’ এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচের ৬টিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা। বাকি সাত ম্যাচে মেসি খেলেননি, আর্জেন্টিনাও পয়েন্ট খুইয়েছে। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কি তবে মেসিকে ছাড়া একেবারেই অসহায়? সংবাদ সম্মেলনে এম প্রশ্ন ধেয়ে গেলে আর্জেন্টিনা কোচ মানতে চাইলেন না, ‘এই দলটা মেসি-নির্ভর নয়। সে আজ দারুণ খেলেছে। তবে এটা ঠিক, আমাদের আরও উন্নতি করা দরকার। এখন চিন্তা করা দরকার বলিভিয়া ম্যাচ নিয়ে।’ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পরবর্তী ম্যাচে মঙ্গলবার বলিভিয়ার লা পাজে খেলবে আর্জেন্টিনা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতার শহরটিতে ২০০৫ সালের পর আর কোনো ম্যাচ জেতেনি আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে খেলতে গিয়ে ১-১-এ ড্র করে এসেছিল তারা। ওই ম্যাচে অক্সিজেন-সংক্রান্ত সমস্যায় মাঝ বিরতিতে বমি করেছিলেন মেসি। এবারের লা পাজ যাত্রায় হার বা ড্র হলে সেরা চার থেকে পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও আছে। কারণ এই মুহূর্তে চার, পাঁচ ও ছয়ে থাকা তিনটি দলের সঙ্গে মেসিদের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ২।