শুনানিতেই লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য নির্ধারণ


411 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শুনানিতেই লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য নির্ধারণ
জুলাই ১৫, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
হজ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় দলীয় সদস্য পদ ও মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এবার সংসদ সদস্য পদও হারাতে বসেছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এক্ষেত্রে শুনানি করেই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, লতিফ সিদ্দিকীর এমপিত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানোর বিষয়ে স্পিকারের চিঠির পর নড়েচড়ে বসেছে ইসি। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কমিশন এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিগত দিনে একই বিষয়ে সংসদ সদস্য পদ হারানোর নজির নিয়ে পর্যালোচনা করতে আইন শাখাকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে স্পিকারের ওই চিঠির ভিত্তিতে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করে নথিতে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কমিশন বৈঠকেও প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করতে বলেছেন ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে সোমবার (১৩ জুলাই) চিঠি পাঠিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। মোট ৬ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্পিকারকে পাঠানো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চিঠিও জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ২০১৪ সালে ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের গঠতন্ত্রের ৪৬ (ক) এবং (ঞ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। যেহেতু তার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ নেই, সেহেতু তাকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদেও বহাল রাখা সমীচিন হবে না।

সে মোতাবেকই সিইসিকে সংবিধানের ৬৬ (৪) দফা ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ বিধি অনুযায়ী টাঙ্গাইল-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর আসন সম্পর্কিত বিতর্ক নিষ্পত্তি করতে বলেছেন স্পিকার।

সূত্র জানায়, একই বিষয় ঘটেছিলো ২০০০ সালে। সে সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন এমপি মো. আখতারুজ্জামানকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। এরপর তার এমপি পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তখনও সিইসিকে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছিলেন স্পিকার। এরপর শুনানি করেই আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার রায় দিয়েছিলো ইসি।

সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইন ১৯৮০ অনুযায়ী, স্পিকার কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য ঘোষণার কোনো বিতর্ক সম্পর্কিত কোনো বিবৃতি ইসিকে পাঠালে এর চৌদ্দ দিনের মধ্যে তা বিরোধ উপস্থাপনকারী ও যার বিরুদ্ধে বিরোধ উপস্থাপন হয়েছে, উভয়পক্ষকে জানাতে হয়। এবং তাদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা ইসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের চিঠিতে বিরোধ উপস্থাপনকারী হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও অভিযুক্ত হিসেবে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের দু’জনকে লিখিত বক্তব্য প্রদানের জন্য সময় দেওয়া হবে। এরপর তাদের শুনানি করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে ইসি। এক্ষেত্রে শুনানিতে উভয়পক্ষই সাক্ষ্য উপস্থাপন ও জেরা করার সুযোগ পাবে। এছাড়া সবপক্ষ ব্যক্তিগতভাবে অথবা অ্যাডভোকেট প্রতিনিধির মাধ্যমে ইসির সামনে উপস্থিত থাকার অধিকার পাবেন। তবে আইনে এসব পদ্ধতি ছাড়াও যেমন যথাযথ মনে হবে তেমনভাবেই বিরোধটি নিষ্পত্তি করার অধিকার ইসিকে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন হবে। অতীতে এমন ধরনের কেস স্টাডি করলে দেখা যায়, শুনানি করে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো ইসি। এছাড়া আইনেও সে অধিকার ইসিকে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুনানি করা হবে।

ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, এখন তো সময় নেই। তাই ঈদের পরেই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। কেননা, লতিফ সিদ্দিকী দলের বিপক্ষে ভোট দেননি বা পদত্যাগ করেননি। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংসদের কোনো আসন এজন্য শূন্য হওয়ার নজির নেই। তবে দলের পদ হারালে সংসদ সদস্য পদ হারানোর নজির রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় যেতে হবে ইসিকে।