‘ শেখ হাসিনা ঠিকই দেয়, কিন্তু পাতি নেতারা তা কেড়ে নেয় ’


384 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘ শেখ হাসিনা ঠিকই দেয়, কিন্তু  পাতি নেতারা তা কেড়ে নেয় ’
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম.পলাশ শরীফ ,মোড়েলগঞ্জ থেকে :
‘শেখ হাসিনা ঠিকই দেয়, কিন্তু পাতি নেতারা তা কেড়ে নেয়’। বললেন হতদরিদ্র রেনু বেগম। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ভিজিডি সুবিধা ভোগী অসচ্ছল এক নারী। তিনি আরো বললেন, আমাদের ভাগ্য লেখা হয় সবেবরাতে, নির্ধারণ হয় মন্ত্রনালয়ে আর চুড়ান্ত হয় ইউনিয়নের পাতি নেতাদের হাতে। অসহায় ওই নারী কথাগুলো বলতে বলতে যখন একটু হাসলেন দুই চোখের পানিও তখন গড়ালো চালের বস্তার ওপর। যে বস্তায় লেখা ৩০ কেজি কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ২৩ কেজি।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় ১৮ থেকে ৪৫বছর বয়সী হতদরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল মহিলাদেরকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়। গত মঙ্গলবার ওই চাল হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ১৯৯টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনপ্রতি ১বস্তা চাল দেওয়া হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ওই বস্তায় লেখা রয়েছে ৩০ কেজি। কিন্তু সুবিধাভোগীরা পরিষদের বাইরে গিয়ে ডিজিটাল মাপযন্ত্রে তুলে দেখেন বস্তায় আছে মাত্র ২৩ কেজি (বস্তাসহ ২৩কেজি৩শ’ গ্রাম)।

এ অবস্থা দেখে সুবিধাভোগীরা ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদ করলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে এই ভয়ে অনেকে নীরব। নির্বাচন আসন্ন তাই অনেকে মুখ খুলছেন। ন্যায্য পাওনাটুকু পেতে চান তারা।

ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীরা এই ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনকেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হতদরিদ্রদের ন্যায্য অধিকার শতভাগ বুঝিয়ে দিতে হবে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মো. লিয়াকত আলী খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের কিছু অসংগতির কারনে সরকারের দুর্নাম হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান আজ বুধবার বলেন, চাল কম দেওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে সতর্ক করেছি এবং খতিয়েও দেখা হবে।
গতকাল এই ভিজিডির চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা অনুপম রায় উপস্থিত ছিলেননা। তিনি ছুটিতে আছেন। তবে তার পক্ষে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আলহাজ ছরোয়ার হোসেন চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন। বস্তায় চাল কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দফা ওঠানামা করায় বস্তা থেকে চাল পড়ে কমে যায়। অনেক বস্তা ছেড়া থাকে। আবার ইদুরে বস্তা কেটে ফেলায় অনেক বস্তা থেকে চাল পড়ে গেছে। যারা বস্তায় চাল কম পেয়েছে তাদেরকে ডেকে বাকী চাল দিয়ে দেওয়া হবে বলেও চেয়ারম্যান জানান।