শের-ই-বাংলা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু


274 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শের-ই-বাংলা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু
মার্চ ২৯, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে এক নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুজনের মধ্যে একজনের শনিবার মধ্যরাতে এবং অপরজনের রোববার সকালে মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট না থাকায় মৃত দুজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলায়। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার করার পর শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে প্রথমে মেডিসিন ইউনিটে নেওয়া হলেও পরে রাতেই করোনা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয় এবং রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

রোগীর এক স্বজন মুঠোফোনে জানান, রোগী দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

শেবাচিমের পরিচালক জানান, এই রোগীর মৃত্যুর পর বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে, তাদের নির্দেশনা অনুসারে মৃতদেহ সমাহিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শনিবার মধ্যরাতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। তার বাড়ি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া পুড়ানপাড়া এলাকায়।

হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এর মাত্র ১৫ মিনিট আগে ওই রোগীকে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, রোগীর স্বজনদের কাছে উপসর্গগুলো শুনে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে করোনা ইউনিটে পাঠিয়েছিলেন। করোনা ইউনিটে নেওয়ার পর পরই ওই নারীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মারা যাওয়ার পরপরই স্বজনরা তার দেহ বাসায় নিয়ে যান।

মৃত ব্যক্তির স্বজনদের বরাতে ডা. বাকির আরও বলেন, এই রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনদিন আগে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরে বাড়িতে গিয়ে জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে শনিবার রাতে শেবাচিমে নেওয়া হয়। তার ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ ছিল বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।

এছাড়া ওই নারীর কোনো স্বজন বিদেশ থেকে আসেননি কিংবা তিনিও বরিশালের বাইরে কোথাও যাননি বলে স্বজনদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাত পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তারা কেউ করোনায় আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।