শেষ দিনে বাজারে বেচাকেনার ধুম


259 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শেষ দিনে বাজারে বেচাকেনার ধুম
অক্টোবর ১২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
আজ বুধবার থেকে ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা বন্ধ। এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার শেষ দিনে বাজারে ইলিশ কেনাকাটায় ধুম পড়ে যায়। ইলিশ যেন কিনে না রাখলেই নয়, তাই গতকাল রাজধানীর বাজারে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সাগরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় আজ থেকে ২২ দিন বাজারে এ মাছ পাওয়া যাবে না। এ কারণে ইলিশের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। অন্যদিকে শেষ দিনে বিক্রি শেষ করতে বিক্রেতারাও কম ইলিশ তুলেছেন বাজারে। ফলে গত কয়েক দিনের চেয়ে গতকাল ইলিশের দাম কিছুটা চড়া ছিল।

গতকাল বিক্রেতারা বড় আকারের প্রায় দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। কিন্তু এসব ইলিশ সর্বোচ্চ দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ’ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের ইলিশও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে।

এবার মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। অন্য বছরের তুলনায় কম দামে পাওয়ায় ইলিশের স্বাদ নিয়েছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল শেষ দিনে দাম কিছুটা বেশি হলেও ইলিশ কেনাকাটা থেকে বিরত থাকেননি ক্রেতারা। পছন্দ অনুযায়ী ইলিশ কিনে রেখেছেন তারা।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুর শাহ আলী, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের বাজারে ইলিশের কেনাবেচাই বেশি হয়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিটি ইলিশের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। তবে বড় ইলিশ দামে বেড়েছে ৪০০ টাকা। প্রতিটি ছোট ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ও এক কেজি ওজনের ইলিশ

বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ খবরে গত দু’সপ্তাহ ধরে ইলিশের দাম বাড়ছে। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আজ বুধবার থেকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ এবং বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এমনকি মৎস্যঘাট, মৎস্য আড়ত, হাটবাজার, চেইনশপে নিষেধাজ্ঞার সময়ে অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ইলিশ ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, কেনাবেচার শেষ দিন হওয়ায় বাজারে ইলিশ কম এসেছে। তিনিও আগের দিনের চেয়ে কম ইলিশ বাজারে তুলেছেন। অন্য দিনে ১০ থেকে ১৫ মণ বিক্রি করলেও গতকাল তিনি ৫ মণ মাছ বিক্রি করেছেন। শেষ দিনে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গতকাল তার আড়তে সব ইলিশ বিক্রি শেষ করেছেন তিনি।

কারওয়ান বাজারের আল্লার দাম মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী সমকালকে বলেন, গত তিন-চার দিনের তুলনায় গতকাল ইলিশের চাহিদা ছিল বেশি। শেষ দিনে দাম ও বিক্রি ভালো হওয়ায় বাজার জমে ওঠে। তার কেনা সব ইলিশ বিক্রি শেষ না হওয়ায় বাকি মাছ হিমাগারে সংরক্ষণ করবেন। ২২ দিন পরে আবার সংরক্ষণ করা ইলিশ বিক্রি শুরু করবেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তখন ইলিশের মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে যাবে। ওই সময়ে সংরক্ষণ করা ইলিশ বিক্রি করা সম্ভব হবে। এবার ইলিশ বেশি ধরা পড়ায় অন্য বছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান সমকালকে বলেন, গত বছর এই সময়ে ১৫ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল, এর আগের বছরে ছিল ১১ দিন। এবার ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে ২২ দিন। ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা এবার সুফল পেয়েছেন। সরকারিভাবেও তদারকি করা হবে। তিনি বলেন, সারাবছর প্রায় ৯ মাস ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। প্রকৃতপক্ষে তিন মাস ইলিশ ধরার সুযোগ পান জেলেরা। এই নিষেধাজ্ঞার পরে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জটকা ধরা বন্ধ থাকবে।

কক্সবাজার অফিস জানায়, কক্সবাজারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেছেন, গত বছর অভিযান চলাকালে জেলেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলেন, যার সুফল পাওয়া গেছে এ বছর। এবারও জেলেরা উৎসাহ নিয়ে সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন। এদিকে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জেলে ও মৎস্যজীবীদের নিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, অভিযান চলাকালে সাগরে কোনো জেলে নৌকা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকূলে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সরকারের এ ঘোষণার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গভীর সমুদ্রের জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে গতকাল দুপুরের মধ্যে উপকূলের তীরে ফিরে এসেছেন। ফলে পটুয়াখালী উপকূলের আলিপুর, মহিপুর, চর মোন্তাজ মৎস্য কেন্দ্রে ইলিশ ধরার ট্রলারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ২২ দিনের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মৎস্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে আলিপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটায় জেলে ও সাধারণ মানুষ নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার নদী অঞ্চলে অভিযান সফল করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযান সফল করার জন্য টাস্কফোর্স গঠনসহ নদী-তীরবর্তী এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নগুলোতে ইলিশ আড্ডা অনুষ্ঠানে জেলেরাও এবার মা ইলিশ নিধন না করার শপথ নিয়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নদীতে কোস্টগার্ডের দুটি টিম পালাক্রমে দিনে-রাতে টহল দেবে। নৌ-পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের ভ্রাম্যমাণ টিমও পৃথক নৌকা নিয়ে টহলে থাকবে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজিমারা এলাকার ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে আজ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএইচএম মহিব উল্যাহ জানান, এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরতে নামলে কারাদণ্ডসহ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এদিকে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রচার-প্রচারণা ও জেলেদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ করা হয়েছে। ইলিশ ধরা বন্ধকালীন নদীতে কোস্টগার্ড, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।