শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়ে পাকিস্তানের জয়


305 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়ে পাকিস্তানের জয়
মার্চ ৫, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
কাপের নিয়ম রক্ষার ম্যাচে শুক্রবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। এশিয়া কাপের দশম ম্যাচে দিনেশ চান্দিমালের শ্রীলঙ্কাকে ৪ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই হারায় পাকিস্তান।

টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের দলপতি শহীদ আফ্রিদি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

নির্ধারিত ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সামনে ১৫১ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। ওপেনার দিনেশ চান্দিমালের পর অর্ধশতক হাঁকান দিলশান। জবাবে, ১৯.২ ওভারে জয় তুলে নেয় ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান।

টস হেরে শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন দিনেশ চান্দিমাল এবং দিলশান। পাকিস্তানের হয়ে বোলিং শুরু করেন মোহাম্মদ আমির।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজ ফেরান ওপেনার চান্দিমালকে। শারজিল খানের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৮ রান। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার আর একটি ছক্কার মার। আউট হওয়ার আগে দিলশানের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়েন চান্দিমাল।

চান্দিমালের পর বিদায় নেন জয়সুরিয়া। শোয়েব মালিকের করা ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ বলে শারজিল খানের হাতে ধরা পড়েন ৪ রান করা জয়সুরিয়া।

১৮তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন পেসার ইরফান মোহাম্মদ ইরফান। প্রথম বলে কাপুগেদারাকে (২) বোল্ড করেন ইরফান। সেই ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করেন দাসুন শানাকাকে।

দিলশান ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫৬ বল মোকাবেলা করে ডানহাতি এ ওপেনার ১০টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান।

পাকিস্তানের হয়ে দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান। উইকেট শূন্য থাকেন শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ নওয়াজ। শোয়েব মালিক ও ওয়াহাব রিয়াজ নেন একটি করে উইকেট।

১৫১ রানের টার্গেটে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন শারজিল খান এবং মোহাম্মদ হাফিজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে জয়সুরিয়া নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন ১৪ রান করা মোহাম্মদ হাফিজকে। অষ্টম ওভারে দিলশানের বলে কাপুগেদারার তালুবন্দি হন আরেক ওপেনার শারজিল খান। বিদায়ের আগে ২৪ বলে ৫টি চার আর একটি ছক্কায় তিনি ৩১ রান করেন।

এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৩৬ রান যোগ করেন সরফরাজ আহমেদ ও উমর আকমল। ইনিংসের ১৩তম ওভারে ফেরেন ২৭ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করা সরফরাজ। তাকে এলবির ফাঁদে ফেলেন শ্রীবর্ধানে।

এরপর শোয়েব মালিক আর উমর আকমল ৫৬ রানের জুটি গড়েন। জয় থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে ফেরেন ৪৮ রান করা উমর আকমল। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার আর দুটি ছক্কা। কুলাসেকারা ফেরান আকমলকে। শোয়েব মালিক ১৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৯.২ ওভারে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

এশিয়া কাপে এবারের আসরের শুরু থেকেই ম্লান ছিল গতবারের রানারআপ পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলটি ৫ উইকেটে হেরে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে। অস্তিত্ব রক্ষার দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয় পেলেও ফাইনাল উঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে বিদায় নেয় এশিয়া কাপের এবরের আসর থেকে।

অপরদিকে, এশিয়া কাপের এবারের আসরে পাকিস্তানের মতোই অবস্থা শ্রীলঙ্কারও। একমাত্র আরব আমিরাত ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের শেষ হাসি হাসতে পারেনি লঙ্কানরা। আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা ১৪ রানের জয় পায়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছে হেরে যায় ২৩ রানে। আর ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন বেঁচে থাকলেও টুর্নামেন্টের ৮ম ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে যাওয়ায় তাদের ফাইনালে উঠার আশা বিসর্জন দিতে হয়।

এ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন মালিঙ্গার পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তার জায়গায় লঙ্কানদের নেতৃত্ব দেন দিনেশ চান্দিমাল। ম্যাথুজের জায়গায় দলে আসেন নিরোশান দিকওয়েলা। পাকিস্তান একাদশ থেকে বাদ পড়েন মোহাম্মদ সামি, খুররম মনজুর আর আনোয়ার আলি। তাদের পরিবর্তে দলে আসেন ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ আর ইফতেখার আহমেদ।