শেষ সময়েও চলছে নাটকীয়তা


323 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শেষ সময়েও চলছে নাটকীয়তা
ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*আওয়ামী লীগ-জাপা আসন ভাগাভাগি

অনলাইন ডেস্ক ::

আজ রোববারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে, কারা দলের প্রার্থী। তবে গতকাল শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি, জাতীয় পার্টি (জাপা) কয়টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন পাচ্ছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন দিতে রাজি নয়।

আসন বণ্টন নিয়ে আওয়ামী লীগ-জাপার টানাপড়েনে শেষ সময়ে নাটকীয়তা চলছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দলে। এ কারণে ঘোষণা করা হয়নি মহাজোটের প্রার্থী তালিকা। প্রার্থী তালিকা প্রকাশে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেও স্থগিত করা হয়।

জাপা নেতারা জানিয়েছেন, ৪৫টি আসন দিতে চুক্তি হয়েছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। তাতে সই করেছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এখন তাদের ৩০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পেয়ে ক্ষুব্ধ এরশাদ। জাপার পক্ষে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা দরকষাকষির দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন এরশাদ। তাই দলের দায়িত্বে ফিরিয়েছেন গত সপ্তাহে মহাসচিবের পদ থেকে বাদ দেওয়া এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। তাকে এরশাদের বিশেষ সহকারী করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মর্যাদায়। জাপায় এখন তার অবস্থান সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদেরও ওপরে।

গতকাল সারাদিনেও দলীয় কার্যালয়ে আসেননি নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। সারাদিন চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি। জাপা নেতারা জানিয়েছেন, তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না মহাসচিবের সঙ্গে। পদোন্নতি পাওয়া রুহুল আমিন হাওলাদারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ‘মনোনয়ন-বাণিজ্যে’র অভিযোগে পদ হারানো এই নেতা পটুয়াখালী-১ আসনে জাপার প্রার্থী ছিলেন। খেলাপি ঋণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আপিলেও।

জাপার জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সমকালকে বলেন, কেউ কিছু বুঝতে পারছেন না। কে দল চালাচ্ছেন, কার নির্দেশে একের পর এক পরিবর্তন আসছে- কিছুই জানেন না। এরশাদের একজন উপদেষ্টা সমকালকে বলেছেন, গত নভেম্বরে ৪৫ আসনে সমঝোতা করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল জাপা। এতে দুই পক্ষের নেতারা সই করেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ এখন তাদের এত আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরানোর পর যারা দরকষাকষির দায়িত্বে ছিলেন, তারা আওয়ামী লীগের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তাদের এ আচরণে খুশি নন এরশাদ। তাই তাদের সরিয়ে আবার রুহুল আমিন হাওলাদারকে দায়িত্বে আনা হয়েছে।

জাপার নেতারা জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত তাদের ২৫টি আসন ছেড়েছে আওয়ামী লীগ। এগুলো হলো- নীলফামারী-৩, নীলফামারী-৪, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-১, রংপুর-৩, কুড়িগ্রাম-২, গাইবান্ধা-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, বরিশাল-৬, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-৮, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬, নারায়ণগঞ্জ-৫, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-৫।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে জাপার প্রার্থীরা মহাজোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। গত শুক্রবার পর্যন্ত জাপা নেতারা জানতেন, ঢাকা-১৭ আসনে এরশাদ মহাজোটের মনোনয়ন পাবেন। তবে গতকাল জাপা নেতারা জানিয়েছেন, এরশাদের মনোনয়নও নিশ্চিত নয়।

জাপা নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সাতটি আসনে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এসব আসনে তাদের আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভোট করতে হবে। জাপার নেতারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে চান না।

সূত্র : দৈনিক সমকাল।প্রকাশের তারিখ–০৯-১২-১৮