শ্যামনগরের অসহায় এই মানুষটিকে দেখা যাবে এমপির পাঞ্জাবি গায়ে !


650 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের অসহায় এই মানুষটিকে দেখা যাবে এমপির পাঞ্জাবি গায়ে !
মে ১১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

 

বিজয় মন্ডল::

আমাদের কথা বাদ দিলাম। অসহায় বৃদ্ধ লোকটার অনুভূতি দেখে মনে হচ্ছিল এটা তার জীবনের সবচেয়ে সেরা মূহুর্ত। জীবনের এমন মূহুর্তে পৌছে এত্তো বড় একটা অভিজ্ঞতা তাকে রীতিমতো আবেগপ্লুত করে তুললো। যা তার চাহনি, শরীর ভঙ্গী, কথাবার্তায় এবং ভাবে প্রকাশ পাচ্ছিল মূহুর্মূহু। যেন সে তার সমস্ত আবেগ প্রকাশ করতে পারছিল না কারন যে আশায় সে এমপি সাহেবের বাড়ি গিয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু হয়তো সে পেয়ে গেছিলো।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার প্রতিদিনের ন্যায় তখন নিজ বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত । সময় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০ টা।

হঠাৎ এক অসহায় বৃদ্ধ মানুষ রুমের দরজায়!! ভিতরে ঢুকতে যেন তার ইতস্তত বোধ হচ্ছে। না জানি উন্নত পোশাকের মানুষ গুলো কি ভাবে! বেরও তো করে দিতে পারে, শেষে হিতে বিপরিত হবে। হয়তো এসব ভেবে চৌকাঠ পেরোতেই তার ভয় হলো।

কিন্তু মূহুর্ত না যেতেই কথার ফাঁকে সাংসদের চোখ বৃদ্ধের দিকে পড়তেই, বৃদ্ধকে ভিতরে থাকা চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ তার। ছুটে পালালো বৃদ্ধের চোখ মুখের সে সীমাহীন বিষান্নতা গুলো।

সবে, বসলো বৃদ্ধ, এসে গেলো সাংসদ জগলুলের বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের নিত্য সামগ্রি গরমে ঠান্ডা মিষ্টি। সাংসদ তাকে কাছে ডেকে নিজে হাতে মিষ্টি ও পানি খাওয়াইয়ে দিলেন। বৃদ্ধার মুখটা তখন গর্বে জ্বল জ্বল করছে। নিজ সন্তানদের জন্য যেমনটা হয় মানুষের। ঠিক সেরকম।

তখনও আসল চমক বাকি ছিল, বৃদ্ধার শরিরের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলেন সাংসদ আর, তৎক্ষণাৎ তিনি তার সহকারীকে ডেকে কি যেন নিয়ে আসতে বললেন। সঙ্গে সঙ্গে এসে গেলো একটি পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিটা অনেক মানুষের কাছেই পরিচিত।

কারন তা গায়ে দেখা গিয়েছিল সাংসদ জগলুল হায়দারকে। ঘোচেনি নতুনত্ব। পাঞ্জাবিটা তার অন্যান্য পোশাকের সাথেই রক্ষিত ছিলো। নিজ হাতে পিতৃস্নেহের ন্যায় অসহায় বৃদ্ধ মানুষটার গা থেকে বিবর্ন পোশাক টি খুলে নিজের পাঞ্জাবিটি পরিয়ে দেন তিনি। বৃদ্ধের চোখে মুখে তখন পরমান্দের বিকিরন। এসময় কিছু নগৎ অর্থ সহযোগিতা দিয়ে অসহায় বৃদ্ধ লোকটাকে যেকোন সমস্যায় অাসতে বলে তিনি বিদায় জানান। আল্লাহর কাছে জগলুল হায়দারের জন্য দোয়া করতে করতে লোকটি বিদায় নেন।

আজ থেকে হয়তো অসহায় বৃদ্ধ লোকটাকে দেখা যাবে এমপির পাঞ্জাবি গায়ে। হয়তো চলতে চলতে পাঞ্জাবিটার সুতায় সুতায় মিশে থাকা জগলুলের ভালোবাসা মুগ্ধ করবে লোকটাকে। কিন্তু তার বেশি আনন্দিত হবেন সাংসদ যদি কখনও পথ চলতে গিয়ে ঐ পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় পিতৃসম মানুষটাকে দেখতে পায়।

নিজের অনুভূতিতে সাংসদ জগলুল হায়দার বললেন, আর কয়েকটা বছর পরেই আমি নিজেও বৃদ্ধ হয়ে যাবো। অবশ্য কতক্ষন বাঁচবো তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু কেউ চিরদিন যুবক থাকবে না। তাই আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বৃদ্ধ মানুষদের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। মানবতার সেবায় সবাইকে নিয়জত থাকতে হবে। তাহলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দূর্বার এগিয়ে চলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।