শ্যামনগরের এমপি বাঘ হত্যাকারী নয়, ইন্টারপোলের অভিযোগ ভিত্তিহীন : দাবী শ্যামনগরবাসীর


786 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের এমপি বাঘ হত্যাকারী নয়, ইন্টারপোলের অভিযোগ ভিত্তিহীন : দাবী শ্যামনগরবাসীর
আগস্ট ৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারকে সুন্দরবনের বাঘ হত্যায় সংঘবদ্ধ চক্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের জনগন।

তারা মনে করে চক্রান্ত করে বাঘ হত্যার সাথে সাংসদকে জড়ানো হয়েছে।  শ্যামনগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া যায়।

তাদের মতে এ ধরণের ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের মাধ্যমে সংসদ সদস্যের সুনাম ও ভাবমুর্তি নষ্ট করা হয়েছে। জনগনের সামনে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তারা বলেন, সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সাংসদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইন্টারপোল এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তার নিজেরই সুনাম নষ্ট করেছে। এর ফলে সংস্থাটির প্রতিবেদনের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত জানুয়ারি মাসে বাঘ হত্যা নিয়ে ইন্টারপোল “বাংলাদেশে সুন্দরবনে বাঘের বানিজ্য” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। উক্ত প্রতিবেদনে প্রতিবেশী দু’দেশের ৩২ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যারা বিভিন্নভাবে ৩টি সংঘবদ্ধ চক্রকে সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিবেদনে শ্যামনগরের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলী আজম টিটো এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মাসুদুল আলম, রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলী আকবরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামের ইউপি সদস্য ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভারতীয় ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের নামও রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে বাঘ হত্যায় সংঘবদ্ধ চক্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে মদদ দাতা হিসেবে সাংসদ জগলুল হায়দারের নাম আসায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের জনসাধারনের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুন্দরবনের বাঘ হত্যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে গনমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। মূলত এ চক্রটি ভারতীয় বলে স্থানীয়রা মনে করেন। স্থানীয় কয়েকজনকে সহযোগিতার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ আটকও করে। কিন্তু সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোন অভিযোগ ইতিপূর্বে কখনও পাওয়া যায়নি।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, আটক ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাধারন জনগনের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে বাঘ হত্যাকারী চক্রের মদদ দেয়ার অথবা সুন্দরবন কেন্দ্রিক অপরাধ সংক্রান্ত কোন কাজে জড়িত থাকার পক্ষে ইতিপূর্বে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেউ অভিযোগ তোলেনি।
দল-মত নির্বিশেষে সবাই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল কর্তৃক এ ধরণের প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, জগলুল হায়দার এর বিরুদ্ধে বাঘ হত্যাকারী সংঘবদ্ধ চক্রকে সহযোগিতা করেছেন এ অভিযোগ মানতে তারা নারাজ।

তাদের মতে সংসদ সদস্য এ ধরণের ঘৃণ্য কাজে কোন দিনই জড়িত ছিলেন না। বরং সুন্দরবন কেন্দ্রিক জেলে-বাওয়ালী, মৌয়ালীদের স্বার্থ সংরক্ষণে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। সাংসদকে জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শ্যামনগরের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন সভা করে প্রতিবেদনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তারা বলেছেন, জগলুল হায়দার ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি এ ধরণের জঘন্যতম কাজে জড়িত নয়। তারা জনগনের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের আনুরোধ জানান। সভায় বিরোধী দলের ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে সাংসদসহ অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম আসায় শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকেরা জরুরি বৈঠক করে ইন্টারপোলের প্রতিবেদনটি প্রত্যাখান করে জগলুল হায়দারের পাশে থাকার ঘোষনা দেন। তারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

অ্যাসোসিয়েশন জনগনের নিকট হতে তথ্য যাচাই করে বাঘ হত্যায় মদদদাতা হিসেবে জড়িত ব্যক্তিদের প্রকৃত নাম উদঘাটন এবং দেশবাসীর সামনে প্রকাশের আহবান জানান। এছাড়া শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলিও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সাংসদ জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডল  বলেন, সংসদ সদস্য কে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি আপাদমস্তক ভদ্র ও সজ্জ্বন ব্যক্তি। তার পরিবার সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যে কোন অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু এ ধরণের ঘৃণ্য কাজে তিনি কখনও জড়িত ছিলেন না। বর্তমানেও নেই।

রনাঙ্গনের বিজয়ী এ মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত যে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন করেছিল তাদের নৃশংসতার শিকার তিনি নিজেও। জগলুল হায়দার তখন নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থেকে শ্যামনগরের জনগনকে রক্ষা করেছিলেন। এ কারণে প্রতিবেদন তৈরীতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী অথবা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কারও হাত থাকতে পারে।

দেবী রঞ্জন সাংসদকে নির্দোষ দাবি করে জনগনের কাছ থেকে এর সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানান। তিনি ইন্টারপোলের প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সুন্দরবনের পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন বুড়িগোয়ালীনী। এ ইউনিয়নে সুন্দরবনের নদীর সাথে রয়েছে নীলডুমুর নামের একটি বাজার। সকাল ১১ টার দিকে বাজারে দেখা হয় আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। পেশায় তিনি জেলে। দেখে মনে হলো অত্যন্ত সহজ সরল। রাজনীতির মারম্যাচ বোঝে কম। তার কাছে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগের কথা বলতেই তিনি থমকে দাঁড়ান।

কিছু সময় চুপ থাকার পর বলেন, তার বয়স এখন ৬০। লেখাপড়া জানেন না। দীর্ঘ ৪০ বছর সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ডাকাত দলের কবলে পড়েছেন কয়েক বার। সংসদ সদস্যের সাথে তার পরিচয় না থাকলেও তার সম্পর্কে জানেন অনেক আগে থেকেই।

এরপর সাফ জানিয়ে দেন, ইন্টারপোল টোল অতসত বুঝি না। সব মিথ্যা কথা, বানানো কথা। উনি সুন্দরবন সংক্রান্ত অপরাধমূলক কাজে কোন দিন জড়িত ছিলেন না। কোন অপরাধী-চাঁদাবাজদের মদদদানে তার নাম কোন দিনই শুনা যায়নি।

সুন্দরবনের আরেক পাশে অবস্থিত হরিনগর বাজার। সেখানে বাজার আর বনের মাঝে একটি ছোট্ট নদী রয়েছে। নদীটা এতই ছোট যে বাজার আর সুন্দরবন একাকার হয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে বাঘ খাদ্যের সন্ধানে নদী পেরিয়ে হরিনগর ও পাশ্ববর্তী গ্রাম গুলিতে চলে আসে। আবার সুন্দরবনের আশপাশ গ্রাম থেকে অনেককে ডাকাত দল মানুষ উঠিয়ে নিয়ে মুক্তিপন আদায় করে।

এখানের মানুষ প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। এ বাজারে কথা হয় শুকুর আলী নামের এক ভ্যান চালকের সঙ্গে। তিনি স্থানীয় জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সুন্দরবনের বাঘ হত্যায় সংঘবদ্ধ চক্রের মদদ দেয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের জড়িত থাকার বিষয়ে।

শিক্ষা-দীক্ষায় কম হলেও রাজীতিতে বেশ সচেতন শুকুর আলী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, রাজনেতিকভাবে তার আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সাংসদ বাঘ হত্যাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তা করেছেন বা করছেন এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তারও সাফ কথা জগলুল হায়দার এ ধরণের অপকর্মে জড়িত নয়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের দু’বারের নির্বাচিত বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, এমপি সাহেব কোন ভাবেই এ সকল ঘৃন্য কাজে জড়িত নন। তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে এ ধরণের কাজকে কখনই সমর্থন করেননি। বরং এ ব্যাপারে সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষন করেন।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের যে অংশটুকুতে বাঘ হত্যাজনিত অপরাধ সংঘটিত হয় সে অঞ্চলটা জলদস্যু ও বনদস্যুদের একটা অভয়ারণ্য। জলদস্যু ও বনদস্যুরা যদি মানুষের পরিবর্তে বাঘ মেরে বেশি টাকার মুখ দেখতে পায় তাহলে তো তারা বাঘই মারবে। জনগনের কাছে এমন অগ্রহণযোগ্য একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টারপোলের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজেদের বিশ্বস্ততা হারিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালীনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু ভবতোষ মন্ডল। উদ্যোমী ও বয়সে তরুণ এবারই প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় থাকার কারণে সুন্দরবনের পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে কমবেশি তার জানা রয়েছে।

তার কাছে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বাঘ হত্যাকারী চক্রের মদদ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, ইন্টারপোলের প্রতিবেদনের ভিত্তি আছে বলে তিনি মনে করেন না। সাধারন জনগন এমন ভূল প্রতিবেদনের বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করে সাংসদকে নিরাপরাধ বলে দাবী করেছেন। একই কথা বলেন ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ মন্ডলও।

এ বিষয়ে কাশীমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রউফ বলেন, শুধু এমপি সাহেব নন তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা কেউই সুন্দরবনের বাঘহত্যা চক্রের সাথে জড়িত নন। বরং যারা জড়িত তাদের নামের ছিটেফোঁটাও তালিকায় নেই। এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টারপোল তাদের ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছে। তাহলে বাঘ হত্যায় কারা জড়িত  এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, তার জানা নেই।

সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ বিধুস্রবা মন্ডল বলেন, এমপি সাহেবকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। তাকে কোন দিন সুন্দরবনে যেতে পর্যন্ত দেখেননি। তাকে কেন এ ঘটনায় জড়ানো হলো এ প্রশ্ন তোলেন বিধুস্রবা। তার ধারনা রাজনৈতিক মদদে এমপি কে জড়ানো হয়েছে।

সুন্দরবনের পাশ্ববর্তী আরেক ইউনিয়ন পদ্মপুকুর। ইউনিয়নটি যেন নদীর মধ্যে একটি দ্বীপ। এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদ আলী জানান, তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে এ ধরণের কাজে জড়িত নন। অভ্যন্তরীন কোন প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে তার মনে হয়। বিগত ২ বার তিনি ও এমপি সাহেব এক সাথে ভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে নির্বাচন করেন। সেই থেকে রাজনৈতিকভাবে ওনার সাথে পরিচয়। তিনি এ ধরণের কোন কর্মকান্ডে জড়িত নন বলে আমি বিশ্বাস করি।

জামায়াত ইসলামীর নেতা ও ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: ফারুক হোসেন বলেন, বাঘ হত্যাকান্ড নিয়ে সাংসদ কে জড়িয়ে ইন্টারপোল কর্তৃক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং ভিত্তিহীন। এ কাজে অভ্যন্তরীণ প্রভাব থাকতে পারে। এর প্রতিবাদে চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত ছোট ছোট আলোচনা সভা করে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। তবে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বীনাপানি গ্রামের প্রকাশ মন্ডল। পেশায় তিনি মৎস্যজীবী। বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এত খবর রাখার সময় কই। তবে আমি যতদূর জানি তিনি এমন কাজ কখনও করতে পারেন না।

বুড়িগোয়ালীনী ইউনিয়নের দূর্গাবাটি গ্রামের রনজিত মন্ডল এক কথায় বলেন, এমপি সাহেব এ ধরণের কোন কাজে সম্পৃক্ত নেই।

মুন্সীগঞ্জ বাজারের স্থানীয় ছোট ছোট ব্যবসা করেন শ্যামা নামের এক ব্যক্তি। তার কাছে বাঘ হত্যায় স্থানীয় এমপি’র সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দেন জগলুল হায়দার এমপি কোনভাবেই এ কাজে জড়িত নন।

জেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ আবু সালেহ বাবু। তিনি শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এবারই তিনি প্রথমবারের মত নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি দেখার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারন জনগন ইন্টারপোলের প্রতি মন:ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি এমপির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেন।

সাংসদ জগলুল হায়দারের হাইস্কুল জীবনের শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস তার প্রিয় ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, তাকে তিনি ছোট বেলা থেকেই চেনেন। সে বাঘ হত্যার মতো এমন জঘন্য ও দেশ বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকতে পারে না। এটা কোন শক্তিশালী মহলের চক্রান্ত। জগলুল রাজনৈতিক কুদৃষ্টির শিকার বলে মনে করেন তিনি।

তিনি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, এ বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্য এনামুল হক বলেন, বাঘ হত্যায় মদদ দেয়ার বিষয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে থানায় কোন অভিযোগ নেই।

সুন্দরবনে বাঘ হত্যায় ইন্টারপোল কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাংসদ এস এম জগলুল হায়দার  বলেন, `ইন্টারপোলের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে এমন একটি প্রতিবেদন পেয়ে আমি বিস্মিত ও বাকরূদ্ধ। আমার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ জনগণ এবং সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ প্রকাশ্যে এ মিথ্যা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে।`

তিনি বলেন, `বাঘহত্যার মতো এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে আমি কোনো দিনই জড়িত ছিলাম না, বর্তমানেও জড়িত নেই। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মদদ দানের প্রশ্নই ওঠে না। ইতোপূর্বে আমি সুন্দরবন হতে মানুষ অপহরণ, হত্যা, লুটপাটসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি, সংঘবদ্ধ জনমত গড়ে তুলেছি। এখনও সুন্দরবনকে এসব কলঙ্ক হতে মুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো।`

প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরণের বক্তব্য দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জগলুল হায়দার বলেন, `আমি নিজে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার বক্তব্য দিয়েছি। সরকারকে মিথ্যা প্রতিবেদনের সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছি। সরকারও তদন্ত করছে। আশা করি, অতিসত্বর, সঠিক তথ্য জনগণের সম্মুখে উন্মোচন হবে।`

জনগণের সহায়তা নিয়ে সুন্দরবন থেকে সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সাংসদ এস এম জগলুল হায়দার।