শ্যামনগরের খুটিকাটা ও দূর্গাবাটি এলাকার বাঁধ নদীতে বিলীন, এলাকাজুড়ে আতংক


198 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের খুটিকাটা ও দূর্গাবাটি এলাকার বাঁধ নদীতে বিলীন, এলাকাজুড়ে আতংক
মার্চ ৩১, ২০২১ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলাকে ঘিরে থাকা উপকূল রক্ষা বাঁধের ৭/১ ও ৫ নং পোল্ডারের খুটিকাটা ও দূর্গাবাটি এলাকার বাঁধ পাশের কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীতে বিলনি হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে দূর্গাবাটি এলাকার প্রায় ৭০ ফুট নদীতে বিলীনের পর বুধবার সকাল আটটার দিকে খুটিকাটা এলাকার আরও প্রায় ৪০০ ফুট বাঁধ নদীতে ধসে যায়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় শত শত গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে মাটি ও বালু ফেলে ভাঙন কবলিত অংশের বিস্তৃতি আটকানোর চেষ্টা করছে। তবে দুপুর পর্যন্ত খুটিকাটা এলাকার ভাঙন কবলিত অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কেউ পরিদর্শন না করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে বুধবার সকাল আটটার দিকে পাউবো সাব-ডিভিশন ২ ৭/১ নং পোল্ডারের খুটিকাটা এলাকার প্রায় ৪০০ ফুট বাঁধ পাশের কপোতাক্ষ নদীতে ধসে যায়। এসময় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে এসে ভাঙন কবলিত অংশের ভিতরের দিকে মাটি ও বালু দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ গত প্রায় দুই মাস ধরে কপোতাক্ষ পাড়ের খুটিকাটা অংশের বাঁধ একটু একটু করে ভাঙতে থাকলেও পাউবো সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দেয়নি। পাউবো নিযুক্ত ঠিকাদার অপেক্ষাকৃত কম ভাঙন থাকা অংশে কাজ করছিল। এক পর্যায়ে জীর্নশীর্ন অবস্থায় পৌছানো খুটিকাটা অংশের বাঁধ বুধবার সকালে কপোতাক্ষে বিলীন হয়।
পদ্মপুকুর গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান বুধবার সকালে ভেঙে যাওয়ার খবরে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে ভাঙন কবলিত অংশে বালু ও মাটি ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে নারী পুরুষসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধের ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছে।
খুটিকাটা গ্রামের আজিজুর রহমানসহ স্থানীয়রা জানিয়েছে ভাঙন কবলিত অংশের বাঁধ মেরামত না করা গেলে বড় জোয়ারের সময় নদীর পানি ঢুকে তদসংলগ্ন খুটিকাটা, বাইনতলা, চাউলিয়া, চন্ডিপুর ও পদ্মপুকুর গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে যাবে।
ভাঙন মেরামতের নেৃত্বত্ব দেয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন আশপাশে মাটি না থাকায় ট্রলারযোগে দুরবর্তী এলাকা থেকে মাটি ও বালু এনে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া দুপুরের পর থেকে একটি ভেকু আনিয়ে বাঁধের ভিতরের মাটি কেটে ভাঙনমুখে দেয়অ হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পাউবো’র সাব-ডিভিশন ২ এর ৭/১ নং পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন জানান খুলনার কপোতাক্ষ এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠান খুটিকাটাসহ অপর একটি অংশের ভাঙন মেরামতের কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১৫০ মিটার এর কাজ শেষ করে খুটিকাটার ৩০০ মিটার ভাঙনের কাজে হাত লাগানোর শুরুতে পুর্ণিমার জোয়ারের চাপে বুধবার সেখানকার বাঁধ ভেঙে গেছে। একইসাথে দয়ারঘাট, কুড়িকাউনিয়াসহ আরও পাঁচটি পয়েন্টে ভেঙে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলন, খুটিকাটার ভাঙন রোধে স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে বালু ও মাটি ফেলঅ শুরু হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে খোলপেটুয়া নদীতে ধসে যাওয়া ৫ নং পোল্ডারের পশ্চিম দূর্গাবাটি এলাকার ভাঙন কবলিত বাঁধ মেরামতে বুধবারও পাউবো’র পক্ষ থেকে কাজ করা হয়েছে। শতাধিক শ্রমিক দিয়ে বালু ও মাটি ফেলাসহ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও দুপুরের দিকে একই অংশের বাঁধের গোড়ায় আরও প্রায় ষাট ফুট জায়গাজুড়ে বড় আকারের ফাটল দেয়া দিয়েছে।
নীলকান্ত রপ্তানসহ স্থানীয় গ্রামবাসরা জানিয়েছে মঙ্গলবার সকালে বাঁেধর উপরিভাগ নদীতে বিলীনের পর রাতে বাঁেধর গোড়ায় আবারও প্রায় ষাট ফুট জায়গায় ফাটল দেখা দিয়ছে। যেকোন মুহুর্তে সমুদয় অংশর বাঁধ নদীতে বিলীনের শংকায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোাগ দূর্গাবাটির যে অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তার অদুরে একই নদী থেকে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এভাবে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে চর দেবে যেয়ে বাঁধ খাড়াভাবে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
এবিসয়ে সাব-ডিভিশন ১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার সকালে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শতাধিক শ্রমিক নিয়ে পাউবো ভাঙন ঠেকানোর কাজ করছে। মাটি স্বল্পতার কারনে কার্গোযোগে বালু নিয়ে এসে সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। তবে নুতন করে আরও ষাট ফুট জায়গায় ফাটল দেখা দেয়ায় ভিতর দিয়ে রিং বঁধ নির্মানের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

#