শ্যামনগরের গাবুরার মানুষের রাত কাটে পানি আতঙ্কে


231 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের গাবুরার মানুষের রাত কাটে পানি আতঙ্কে
আগস্ট ২৫, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চারপাশে নদী। প্রায় ৪৫ হাজার জনসংখ্যার বসবাস এখানে। বর্তমানে তাদের রাত কাটে পানি আতঙ্কে। চারপাশে সাগরের জোয়ারের নোনপানি। রয়েছে ২৭ কিলোমিটার মাটির বেড়িবাঁধ। ১৮ শতকের শুরুর দিকে সুন্দরবন আবাদ করে গড়ে ওঠে এ জনপদ। প্রথম দিকে তেমন বেড়িবাঁধের দরকার না হলে ১৯৬০ এর দশকে অন্যন্য উপকূলীয় এলাকার সাথে গাবুরায়ও বেড়িবাঁধ হয়। উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন। শুরু থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মাটি দ্বারা সংস্কার করা হয়ে আসছে সকল বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম চলাচলের পথ। গাবুরার অধিবাসীরা অধিকাংশ গরীব ও ভুমিহীন। বিত্তশালীরা অনেকে শহরে বসতবাড়ি করেছে। পর্যাপ্ত স্কুল কলেজ ও চিকিৎসা সেবা না থাকায় অনেক পিছিয়ে আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজিক পরিবেশ। সব মিলিয়েও আবহমান বাংলার সাথে তাল মিলিয়ে বসবাস করে আসছে সুন্দরবন, নদী ও সাগরের উপর জিবীকা নির্ভরশীল জনগোষ্ঠি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাস দিনের পর দিন গেড়ে বসেছে। একদিকে জলচ্ছ্বাসে নষ্ট হচ্ছে অতিদ্রুত মাটির বেড়িবাঁধ। অন্যদিকে উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ব্যর্থতায় পর্যবেশিত সরকারি কর্তৃপক্ষ। কয়েক দশক বেড়িবাঁধের সংস্কার না করে যেখানে ভাঙন সেখানে যত্রতত্র পটি দেওয়া হচ্ছে মাত্র। কিন্তু বারবার গুছিয়ে ওঠা পরিবেশকে তছনছ করছে সিডর, আইলা, নার্গিস, ফনী, বুলবুল ও আম্পান নামের ঘুর্নিঝড়। কর্তৃপক্ষের অবহেলার পাশাপাশি বেড়িবাঁধ ধ্বংসে কম দায়ী নয় স্থানীয় চিংড়ি চাষীরা। বেড়িবাঁধ নষ্ট করে ও সরকারী পানিসরবরাহের সুইজ গেট,খাল ও খাসজমিগুলো ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল ১৯৯০ সালের পর থেকে শুরু করে গোটা উপকূলে লবণ পানির চিংড়ি চাষ। পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করলেও সরকারি সাহায্য আসে প্রভাবশালীদের পক্ষে। লবণ পানির চিংড়ি চাষের কারণে সবচেষে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন বিত্তের পরিবার। যাদের অল্প বসতভিটা বা জায়গা আছে চিংড়িচাষীদের কারণে তাদের ভিটায় ও জায়গায় লবণাক্ততার কারণে সম্ভব হচ্ছেনা সবজী, ফসল ফলানো। এখন আর গাবুরায় ৭০% দরিদ্র জনগণ চায়না চিংড়ি চাষ। অভিশপ্ত চিংড়ি চাষের কারণে গোটা উপকূলের সবুজ প্রকৃতি আজ ধুসর। ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীন বৈচিত্র্য। বার বার গড়ে তোলা পরিবেশ ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা বেড়িবাঁধ ধ্বংস হওয়ার কারণে লবণপানির মৎসচাষ ভিন্ন ফসল ফলানো সম্ভব হবেনা। দেশের সচেতন মহল পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা দেখালেও তারা বাদ প্রতিবাদ করছেনা নিজেদের জড়িত থাকার কারণে। তবে বেড়িবাঁধের অবৈধ ব্যবহার, খাসজমি, সুইঢ়যযূজ গেট ও সরকারি খাল ব্যবহার করে মৎসচাষের বিরুদ্ধে সরকারী আইনের কার্যকারীতাই রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে মুখ্য হিসোবে।
উপকূলবাসীর একান্ত দাবী ও দাবীর যৌক্তিক কারণ দর্শাইয়ে দু’দশক ধরে কথিত জলবায়ু সহনশীল টেকসই বেড়িবাঁধ তৈরী করার আবেদন করা হচ্ছে।
একদিকে দুর্যোগসহনশীল বাঁধ অন্যদিকে বেড়িবাঁধের ভিতরে লবণপানির মৎসচাষ বন্ধ করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে সহ¯্রাধিক মৎস ঘের আছে, সব মৎস ঘেরগুলি অবৈধভাবে লবণপানি উত্তোলন করে ও সরকারি খাসজমি ও খাল দখল করে তৈরী করা হয়েছে বেশিরভাগ। গাবুরায় ৯টি স্লুইস গেট এর মধ্যে ৫ টি, নতুন কালভার্ট ৪টি, সরকারি বড় খাল ৭টির মধ্যে ৪টি, ছোট বড় শতাধিক সরকারি খাল অবৈধ দখলে আছে মৎসচাষীদের। নদীর চরে নাম মাত্র সরকারি ইজারা নিয়ে প্রাকৃতিক বনায়ন কেটে তৈরী করা হয়েছে প্রায় শতাধিক একর জায়গা জুড়ে মৎসঘের ও বসতবাড়ি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমিকর্মকর্তা, বনবিভাগ শুধুমাত্র তদন্ত করেই ক্ষ্যান্ত, এসব মহলে অর্থনৈতিক দুর্নিতীর অসংখ্যা উপখ্যান জনমুখে। প্রভাবশালী মৎসচাষীদের কারণে নিরবতায় পর্যবেশিত হয় সব আন্দোলন। সরকারের উচ্চ মহল এর কাছে এবং পরিবেশবাদী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলকে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন উপকূলের মানুষ।