শ্যামনগরের ঘোলা খেয়াঘাট নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ


128 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের ঘোলা খেয়াঘাট নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ
মে ১২, ২০২১ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শ্যামনগর সংবাদদাতা ॥
শ্যামনগর উপজেলার ঘোলা এলাকার খেয়াঘাট নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ লংঘন করে দায়সারাভাবে গুরুত্বপুর্ন ঐ খেয়াঘাট নির্মান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্মান কাজের অনিয়ম বন্ধ হয়নি- দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার জানিয়েছে নদীতে ভাটার স্থায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে ফিলিং বালু দেয়া ছাড়া সব কাজ যথাযথভাবে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী, আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া ও প্রতাপনগরকে সংযুক্তকরা খোলপেটুয়া নদীর ত্রিমোহনায় নয় লাখ টাকা ব্যয়ে ঐ খেয়াঘাট নির্মিত হচ্ছে। উপকুলবর্তী এ জনপদের এমন গুরুত্বপুর্ন স্থানে খেয়াঘাট নির্মান কাজের দায়িত্বে রয়েছে খুলনার বুফাইন এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে ঘোলা এলাকার খেয়াঘাট নির্মানে কার্যাদেশ উপেক্ষা করে ফিলিং বালু ও ইটের সোলিং ছাড়াই সিসি ঢালাই এবং পরবর্তীতে বেজ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বার বার ভাঙন মুখে পড়া এ এলাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করতে শুরু থেকে ঠিকাদারকে অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও তিনি তাতে কর্নপাত করেননি। বরং নদীর চরের কাঁদা মাটির উপর সিসি ঢালাইয়ের পর বেজ ঢালাই শেষে সেখানে শেষ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। খর¯্রােতা নদীর গুরুত্বপুর্ন এমন পয়েন্টে ফিলিং বালু ও ইটের সোলিং না দেয়ার ফলে খেয়াঘাটের ভবিষ্যত নিয়ে শংকার কথা জানিয়েছে তারা।
ঘোলা গ্রামের আলাউদ্দীন জানান, শিডিউলে কাজের শুরুতে এক ফুট ফিলিং বালু দেয়াসহ ইটের সোলিং এর বর্ননা থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন তা করেনি। বরং ভাটার সুযোগে নদীর চরের কাঁদা সরিয়ে সেখানে কোন রকমে সিসি ঢালাই দিয়ে বেজ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছে।
খেয়াঘাট সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন অভিযোগ করেন, শুরুতে কাজের অনিয়ম নিয়ে তারা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শামিম হোসেনের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু ঠিকাদারের কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি চরে বালু থাকায় ফিলিং এর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দেন। এসময় তারা কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেয়ার আবেদন জানালেও প্রকৌশলী বা ঠিকাদার কেউই তাতে গুরুত্ব দেয়নি। তলদেশের কাজ যেনতেন প্রকারে সম্পন্নের ফলে বার বার ভাঙনমুখে পড়া ঘোলা এলাকার খেয়াঘাট এর দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়রা শংকিত বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানান পুকুর/নদীর ঘাট ও সিঁড়ির নিচে প্রয়োজনীয় বালু না দেয়া হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। নামকাওয়াস্তে কাজ করতে যেয়ে ঠিকাদারের লোকজন নির্মানাধীন খেয়াঘাটের নিচে ফিলিং বালু ও ইটের সোলিং না করায় স্বল্প সময়ের মধ্যে তা নদীতে বিলীন হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মান কাজের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থাগ্রহনসহ নুতনভাবে নির্মান কাজ শুরুর দাবিও জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি সুত্র সদ্য বদলী হয়ে যাওয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামিম হোসেন ঘোলা খেয়াঘাট নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। কাজের শুরুতে অনিয়ম এর অভিযোগে স্থানীয়রা একাধিকবার তার দারস্থ হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। তার আশ্রয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি খেয়াঘাট নির্মান কাজে এমন তুঘলকি কাজ করেছেন বলেও তাদের অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামিম হোসেন জানান, আমি ঐ ষ্টেশন থেকে চলে এসেছি। এখন সেখানকার কাজের বিষয়ে কিছু মন্তব্য করা নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বালু দেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাজমুল হোসেন জানান, মাত্র ৪৫ মিনিট স্থায়ী ভাটার সুযোগে সেখানে বালু দেয়া হলে টিকবে না, বিধায় নদীর চরে থাকা বালুকে ফিলিং বালু হিসেবে নেয়া হয়েছে। ইটের সোলিং না দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সিসি ও বেজ ঢালাই কার্যাদেশের থেকে বেশী করা হয়েছে।
এবিষয়ে দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, আমি কালিগঞ্জ উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে শ্যামনগরে অতিরিক্তি দায়িত্ব পালন করছি। সেখানকার ঐ কাজের বিষয়ে আমার কোন তথ্য জানা নেই। এসময় তিনি শ্যামনগর অফিসের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি আমি যোগদান করে কয়েক দফা সেখানে যেয়ে কাজের তদারকি করেছি। পুর্বেও কাজের বিষয়ে জানা নেই-উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বশেষ কাজগুলো শিডিউল অনুযায়ী করা হচ্ছে।