শ্যামনগরের ভবানীপুরে গাঁজা সেবীর সংখ্যা বাড়ছে, উঠতি বয়সীদের ডোপ টেষ্টের আবেদন


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের ভবানীপুরে গাঁজা সেবীর সংখ্যা বাড়ছে, উঠতি বয়সীদের ডোপ টেষ্টের আবেদন
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরে গাঁজা সেবীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরা গাঁজা সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সংখ্যায় বেশী হওয়ায় উঠতি বয়সী এসব পেশাদার ও সৌখিন মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে কেউ ‘টু’ শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস পাচ্ছে না। পাশাপাশি হরিপুর গ্রামের একটি চক্র কয়েক মাস ধরে ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবসা শুরু করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
জানা গেছে স্বল্প জনবসতির ভবানীপুর ও হরিপুর এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলো আগে থেকেই সাধারন মানের জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। এসব এলাকার কোন পরিবারের সন্তান কখনো মাদকদ্রব্য স্পর্শ করতো না। তবে গত দু’তিন বছরে হঠাৎ করেই অবস্থার পরিবর্তন এসেছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটিতে মাদকের ব্যহার ব্যাপকতর অবস্থায় পৌছে গেছে।
স্থানীয়রা জানান স্কুল ও কলেজ পড়–য়া মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বখাটে কয়েক তরুনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা হাতে গোনা কয়েকটি গ্রুপ ভবানীপুর এলাকার মাদক সেবনের সাথে জড়িত। এসব গ্রুপের সদস্যরা কয়দিন আগেও কেবলমাত্র মাদক সেবনের সাথে জড়িত থাকেেলও বর্তমানে তারা মাদকের ব্যবসা পর্যন্ত শুরু করেছে। এভাবে দিনকে দিন এলাকায় মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধির ঘটনায় অভিভাবকরা দারুনভাবে চিন্তিত হওয়া সত্ত্বেও মাদকাসক্ত গ্রুপগুলোর ভয়ে তারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকশ না করার শর্তে কয়েক জন জানান স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী দু’তিনটি পরিবারের সদস্যরা মুলত মাদক সেবনের সাথে জড়িত। চিহ্নিত ঐসব মাদকসেবীর সঙ্গে এলাকার কিছু বখাটে যুক্ত হওয়ায় স্থানীয়রা তাদেরকে সমীহ করে চলতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়রা আরও জানান ভবানীপুরের পাশাপাশি পুর্ব হরিপুরের একটি গ্রুপ গত কয়েক মাস ধরে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা শুরু করেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঐ চক্রের একটি চালান হাত ছাড়া হওয়ায় স্থানীয় ঐ ফেনসিডিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
জানা গেছে ভবানীপুর গ্রামের আলাউদ্দীন ও আল আমিন সেবনসহ ব্যবসার সাথে জড়িত হলেও সফিকুল, আকিজ, জিম বাবু ও জাহিদসহ ১২/১৩ জনের একটি গ্রুপ নুতন করে মাদকে হাত পাকাতে শুরু করেছে। তবে স্থানীয়ভাবে তারা প্রবাবশালী হওয়ার কারনে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
স্থানীয় অভিভাবকরা নিজেদের পরিবার নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন জানিয়ে ভবানীপুর ও হরিপুর গ্রামে নিয়মিত পুলিশী টহলসহ মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য মাননীয় পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সাথে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অংশে যেভাবে সন্দেহভাজন মাদকসেবীদের ডোপ টেষ্ট করা হচ্ছে-একই ভাবে এ’দুই গ্রামের সনেদহভাজন কিশোর তরুনসহ যুবকদের ডোপ টেষ্ট এর আবেদন জানিয়েছে।

#