শ্যামনগরের ভেটখালীতে এক ব্যক্তিকে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন !


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের ভেটখালীতে এক ব্যক্তিকে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন !
এপ্রিল ২৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

আইয়ুব আলি, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি :
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষ দর্শিদের বিবরণে জানা যায়, ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ছোট ভেটখালী গ্রামের আব্দুল খালেক গাজীর পুত্র সাইদুল ইসলাম (৩০) তার বাস্তু ভিটা বাড়ীর ক্ষেতে ছাগল-ভেড়া প্রবেশ আটকানোর জন্য বেড়া দেওয়ার এক পর্যায়ে তার প্রতিবেশী একই গ্রামের মৃত মোসলেম গাজীর পুত্র আফছার গাজীর হুকুমে তার দুই পুত্র আশিকুর ও আব্দুল্লাহ ছুটে যেয়ে মাথায় দায়ের কোপ মারে এবং সাইদুল ইসলামকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে দুজন দুই দিকে টেনে ধরে। এরপর তাকে বিবস্ত্র করে হাত-পাসহ সমস্ত শরীর বেঁধে ফেলে। তারপর আফসার উদ্দীন তার পুত্র আশিকুর ও আবদুল্লাহ, স্ত্রী- নার্গীস এবং তার জামাতা জেহের আলী গাজীর পুত্র মিজানুর রহমান একযোগে লোহার রড, সাইকেলের চেইন দিয়ে বেধড়ক মারমিট করতে থাকে। এছাড়া তাকে মাটিতে ফেলে তার মুখে এবং বুকে পা দিয়ে লাথি মারে এবং পাড়াতে থাকে। এসময় আক্রান্ত সাইদুলের স্ত্রী সাবিনা বেগম স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে তাকে রড দিয়ে আঘাত করে হাতের হাড় ভেঙে দেয় এবং তার পেটে স্বজোরে লাথি মারে। এসময় ৬ মাসের অন্তসত্তা সাবিনা বেগম মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনা জানতে পেরে সাইদুরের ভ্রাতা নুরুল ইসলামের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘটনা স্থলে হাজির হতে থাকে। এক পর্যায়ে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মোস্তফা সানা এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড সদস্য সেলিনা সাঈদ ঘটনা স্থলে পৌঁছান। ইউপি সদস্য সেলিনা সাঈদের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ আদম আলী তার হাত পায়ের বাঁধন খুলে শ্যামনগর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান ।কিন্তু তার অবস্থা আশাংখা জনক হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঠান। অপর দিকে তার গর্ভবতী স্ত্রীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন এবং প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।

প্রতক্ষদর্শী সহিদুল্লাহ সরদার জানান, আমি নিজেই সাইদুলকে উলঙ্গ অবস্থায় উক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা দায়ের কোপসহ লোহার রড দিয়ে অমানবিক মারধর করতে দেখেছি। সাইদুলের শাশুড়ী উলঙ্গ জামাতাকে একটি ওড়না দিয়ে তার গোপন অঙ্গ ঢাকার চেষ্টা করলে তাও সন্ত্রাসী ব্যাক্তিদের বাধার কারণে সম্ভব হয়নি। আরিজুল ইসলাম, আবুজারসহ অসংখ্য  এলাকাবাসী বলেন, নিতান্ত সাইদুলকে জীবনে খতম করে দেওয়ার জন্য এধরনের অমানবিক নির্যাতন করেছে। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানা গেছে।