শ্যামনগরের মাংস বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল হামিদের বোবা কান্না


509 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের মাংস বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল হামিদের বোবা কান্না
নভেম্বর ১৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :

আব্দুল হামিদ কে একজন মাংস ব্যবসায়ী হিসাবে এলাকার প্রায় সকলে তাকে চেনেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর বাজারে গরু মাংস বিক্রীর ব্যবসা করে নিজের সংসার চালাতেন। তবে তিনি মাংস ব্যবসায়ী হতে পারেননি। যারা মাংস ব্যবসা করতেন তাদের একজন সহযোগি ছিলেন মাত্র, তার কাজ মাংস কাটা। এ মাংস কেটে মুজুরি হিসাবে প্রতিদিন কিছু টাকা পেতেন তিনি। অসুস্থ এক মেয়ে সহ তিন সন্তান আর স্ত্রী কে নিয়ে যমুনা নদীর খাল  পাড়ে বসবাস করেন, আব্দুল হামিদ। হঠাৎ বছর খানিক আগে হামিদের ডান হাত ও ডান পা প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। ডান হাত দিয়ে কাজ করতে না পারায় তাকে মাংস কাটার কাজ থেকে বাদ দেয়া হয়। প্রতি বন্ধি হয়ে পড়ে আব্দুল হামিদ। তার অসহায়ত্ব জীবনে তার বড় মেয়ে আসমা আক্রান্ত হয়ে পড়ে ক্যান্সার রোগে। নিজের প্রতিবন্ধি জীবন এর উপর মেয়ে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত, সব মিলিয়ে হামিদের পরিবারটি হয়ে পড়ে নিদারুন কষ্টের মধ্যে। কিছুদিন যেতে না যেতেই হামিদের বড় মেয়ে ক্যান্সার রোগে মারা যায়। ছোট দুটি সন্তান আর অসুস্থ স্বামী কে নিয়ে ঘর সংসার ছেড়ে মাঠে নামে দুর্ভাগা ফতেমা খাতুন। ফতেমা দু” বেলা অন্যের বাড়ীতে  জোগাড়ীর কাজ সহ বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন। এক বেলা খেয়ে, অন্য বেলা না খেয়ে, কোন রকমে দু” পয়সা জমিয়ে স্বামীকে সুস্থ করার লক্ষে আপ্রান চেষ্টা করতে থাকেন। কোন রকমে স্বামী আব্দুল হামিদ কে একটু সুস্থ করে তোলেন স্ত্রী ফতেমা খাতুন।
স্ত্রীর অমানবিক খাটনি সহ্য না করতে পেরে হামিদ একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে একটি মটর ভ্যান ক্রয় করেন। স্ত্রীর দিন মুজুরির কাজ ও  হামিদের মটর ভ্যান চালিয়ে কোন রকমে সংসার চালানোর পাশাপাশি এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে থাকেন তারা । মাত্র কয়েকটি কিস্তির টাকা পরিশোধ হতে না  হতেই কয়েক দিন আগে হামিদের ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। এনজিও দের কিস্তির টাকা, সংসার সহ নিজের ঔষাধ ক্রয় সহ সব কিছু এক নিমিশেষে  বন্ধ হয়ে যায়।
হতভম্ব হয়ে পড়েছে আব্দুল হামিদ ও তার পরিবার। দিশেহারা জীবনে বোবা কান্না এখন আব্দুল হামিদের সঙ্গী। কি করবেন তিনি, কিভাবে চলবে তার সংসার, কিভাবে পরিশোধ করবেন তিনি এনজিওদের ঋনের টাকা।
বিষয়টি নিয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন আব্দুল হামিদ। আর্থিক সাহার্য্যের দাবীও করেছেন, আব্দুল হামিদ। জনপ্রতিনিধিদের কাছে তেমন কোন সহযোগিতার আস্বাস তিনি পাননি। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সাংসদ সদস্যের সুপারিশকৃত একটি আবেদন করেছেন আব্দুল হামিদ। তবে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, সহযোগিতা করা হবে, তবে সেটি দেরী হবে।তবে এ মানবেতর জীবন চলা কালীন সময়ে কারোর কোন সাহার্য্য পাবে না আব্দুল হামিদ?  কেউ কি তার পাশে দাড়াবে না? আসুননা হামিদের বোবা কান্না থামাতে একটু  এগিয়ে আসি আমরা। আমার সকল ফেসবুক বন্ধুদের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো যদি সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিবন্ধি আব্দুল হামিদের পাশে এসে দাড়াই, তাকে একটু সাহার্য্য করি।####