শ্যামনগরের মেজ ভাই থেকে আজকের এমপি জগলুল হায়দার


1565 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের মেজ ভাই থেকে আজকের এমপি জগলুল হায়দার
মার্চ ১৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর ::

অাজকের প্রসংগের মুল চরিত্রই এস,এম জগলুল হায়দার। যিনি এখন শ্যামনগর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-০৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য। নকিপুর গ্রামের এক ছোট্ট প্রতিবাদী চরিত্র পর্যায়ক্রমে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নিজেকে সম্পুর্ন আলাদা এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হুদার নেতৃত্বে গেরিলা ট্রেনিং চলছিলো। সেসময় মাত্র ৯ বছর বয়সে ট্রেনিং স্থলে গিয়ে হাজির হন জগলুল হায়দার। ক্যাপ্টেন হুদা তাকে জিজ্ঞাসা করেন “এই ছেলে তুমি এখানে কেন এসেছো।” ছেলেটি প্রতিত্তোরে জানায় সে মুক্তিযুদ্ধে যেতে চায়।

ক্যাপ্টেন হুদা তার কাছে প্রশ্ন করেন, “তুমি খান সেনা দেখেছো? ছেলেটি জানায় হ্যা দেখেছি। বলোতো কেমন। অনেক বড় বড় দেহের মানুষ। তুমি কি তাদের সাথে যুদ্ধ করতে পারবে? হ্যাঁ পারবো।

” তখন ক্যাপ্টেন হুদা শিশুটি বুক চাপড়ে কোলে নিয়ে ট্রেনিংরত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জানতে চান, ” এই টুকু ছেলে মুক্তিযুদ্ধে যেতে চায়, অার তোমরা পারবে না। সবাই সমস্বরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন।”

এ দেশীয় সংস্কৃতিতে আমরা সাধারণত এটাই দেখতে অভ্যস্থ যে সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রী হওয়ার পর প্রোটোকল পেয়ে তারা বদলে যান। শরীরের লেগে থাকা ধুলা-বালির কথা বেমালুম ভুলে তারা নিজেকে আমজনতার কাতারে ভাবতে সংকোচবোধ করেন (যদিও ব্যতিক্রম আছে, তবে কদাচিৎ)।

কিন্তু গতানুগতিক সেই ভাবধারার বাইরের জগৎ-এর মানুষ বলেই তিনিই আজকের লেখার প্রতিপাদ্য। প্রভাবশালী সরকার দলীয় আইন সভার সদস্য হয়েও তিনি যেভাবে নিজেকে গণমানুষের মুখপাত্রে পরিণত করেছেন তা অন্য যে কারও জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। কেননা ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরবর্তী সময়ে এসব সংসদ সদস্যদের ভুমিকা নিয়ে সর্বত্র সংশয় ছিল।

এমন নির্বাচনের পর বিজয়ীদের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সমুন্নত থাকবে কিনা তা নিয়েও ছিল মতভেদ। কিন্তু সব সংশয়কে ভুল প্রমানের জন্য যেন নিজেকে উজাড় করার লড়াইয়ে নিয়োজিত জগলুল হায়দার।

ক্রমেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়ে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শান্তিপুর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়াসহ সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন তিনি।

গত তিন বছরে এই সাংসদের ভুমিকায় প্রায় সকলেই বিমোহিত। দলমত, শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সকলেই তার কাছে পৌঁছানোর সমান সুযোগ পেয়ে চলেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সকলেরই প্রতি তার ‘সাম্য নীতি’র প্রতিফলন ঘটছে- এমন বক্তব্য খোদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরোধী মতাদর্শের অনেক নেতা কর্মী ও সমর্থকের।

৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে তিনি শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ধীরে ধীরে এখন অনেকটা নিজেকে আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে গোটা নির্বাচনী এলাকার জনতাই তার সেবা পাচ্ছেন বলে অভিমত স্বপক্ষীয়-কিংবা বিরোধী পক্ষীয় লোকজনসহ সাধারণ মানুষের।

১৯৬২ সালের ৫ জুন জন্ম নেয়া এস,এম জগলুল হায়দারের শিক্ষা জীবনের শুরু শ্যামনগর সদরের হায়বাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার দাদা কাশিমাড়ি ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং নানা ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তার রক্তে রাজনীতি এবং মানব সেবার গুণ মিশে ছিল।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাড়ির নিকটস্থ নকিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। নকিপুর হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পিতার (অবসর প্রাপ্ত সিভিল সার্জন) কর্মস্থলসূত্রে কালিগঞ্জের মোজাহার মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত।

পরবর্তীতে নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করে কেশবপুর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও কালীগঞ্জে ফিরে এসে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই এইচএসসি ও স্নাতক পাঠ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

শিশু বয়স থেকে প্রত্যেকেরই চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা শিক্ষক হওয়ার মত লক্ষ্য থাকলেও জগলুল হায়দার ছিলেন তার ব্যতিক্রম।

তিনি ছোটকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একজন আদর্শ রাজনীতিক হিসেবে গড়ে ওঠার। প্রতিবাদী ভূমিকা দিয়ে অসহায় আর দুর্বল ও শোষিত মানুষের সেবা করার। সে কারণে সেই অল্প বয়স থেকেই এলাকায় তার প্রধান পরিচিতি একজন প্রতিবাদী চরিত্র।

এসএসসি পাশের পর উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথমভাগেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা জগলুল হায়দারের প্রিয় ব্যক্তিত্ত্ব তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডাঃ আব্দুল জলিল।

খেলাধুলার প্রতি তেমন কোন মোহ না থাকলেও শিশুকাল থেকেই নাট্যচর্চা করতেন তিনি। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের অমুল্য সম্পদ যে তার দ্ব-রাজ গলার বক্তব্য- এ কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন জগলুল হায়দার।

নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় প্রতি বৃহস্পতিবারের বিতর্কে তার অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। এছাড়া সম-সাময়িক জাতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য অনুসরণ করতেন উল্লেখ করে বাগ্মী এ জনপ্রতিনিধির কথায় স্পষ্ট হয় আমজনতার দৃষ্টি আকর্ষণের প্রথম ধাপ ‘বক্তব্য’ এবং দ্বিতীয় ‘পর্যায়’ স্বীয় কার্যক্রম।

বিষয়টি অনুধাবন করেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বক্তব্যের বিষয়ে বেশ যত্নবান হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন তিনি।

তার বক্তব্যের বিষয়ে সমালোচকদেরও প্রশংসা প্রসংগে তিনি জানান, অধিকাংশ রাজনীতিক গদ-বাধা বক্তব্য দেয়। যা মানুষের হৃদয়গ্রাহী হয় না। যে কারণে তিনি ভিন্নভাবে তার বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আর পরবর্তীতে নিজ কার্যক্রম দিয়েই তিনি এলাকাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজ জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ সময় হিসেবে ২০০১ সাল পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট’র শাসনামলকে উল্লেখ করেন তিনি। এসময় ডজন ডজন মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি পলায়নপর জীবনযাপন করেন।

পরবর্তীতে সেনা শাসিত তথাকথিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের দুই বছরও তার জন্য সমান দুর্বিসহ ছিল বলেও জানান। যখন রাতে দিনে কখনও তিনি বাড়িতে থাকতে পারতেন না। ভক্ত-শুভাকাংখীরা দল বেঁধে তার অবর্তমানে বাড়ি পাহারা দিত।

১৯৯৮ সালে পুলিশ কর্তৃক নকিপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনাকে উল্লেখ করেন। এসময় জনৈক রবীন স্বর্ণকারকে অন্যায়ভাবে আটকে তার উপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ঐ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এসময় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের তিনি নেতৃত্ব দেন।

এক পর্যায়ে তার নেতৃত্বে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আরও ৩৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক মামলা করে। তবে ন্যায়ের পথে শুরু হওয়া আন্দোলন সফলতার মুখ দেখায় তিনি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মনিকোঠায় জায়গা করে নেন।

প্রায় অভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি ১৯৯৯ সালে। বর্তমান বিজিবি তদানীন্তন বিডিআর সদস্যরা নকিপুর বাজারে অভিযান চালায়। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে উক্ত অভিযানের বিরোধীতা করেন এবং এক পর্যায়ে বিডিআর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ঐ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন।

এদিকে তার মুক্তির দাবিতে গোটা শ্যামনগরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তার মুক্তি না মেলার প্রতিবাদে ঐসময় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি পানের দোকান পর্যন্ত বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন।

এক পর্যায়ে প্রশাসন জনতার ভাষা বুঝতে পেরে তার মুক্তির ব্যবস্থা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আর জগলুল হায়দার গোটা শ্যামনগর এর অসহায়, নির্যাতিত ও বঞ্চিত সাধারণ মানুষের নেতা হয়ে ওঠেন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু হলে এক সময় ডাকসাইটে এ নেতাকে এরশাদ সরকার নানা কৌশলে নিজ দলে টানেন। তবে ১৯৯৯ সালে তিনি আবারও আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগও যোগ্য উত্তরসুরী পেয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পালে যেন হাওয়া লাগে।

বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এই সাংসদের জীবন ছিলো সবচেয়ে বিভীষিকাময়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ ভাগের কথা। সে সময় তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল জলিল চাকুরীসুত্রে চট্রগ্রাম কালুরঘাট এলাকার লেবার হাসপাতালে (মেডিকেল অফিসার হিসেবে) কর্মরত।

একদিন রাতে উক্ত হাসপাতাল এলাকায় পাক বাহিনী হামলা করে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায় এবং পাক বাহিনীর গোলার আঘাতে সেখানে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। ঐ ঘটনার পর থেকে পিতার সাথে বাড়িতে অবস্থানকারী পরিবারের সব সদস্যের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। টানা একুশ দিন পর্যন্ত তারা তাদের পিতার কোন হদিস মেলাতে পারেনি।

এক পর্যায়ে ২১ দিন ধরে পায়ে হেটে তিনি বাড়িতে ফিরলে লোমহর্ষকময় তিন সপ্তাহের টানটান উত্তেজনা আর অজানা আতংকের অবসান ঘটে। ওই সময়কার স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে সেই সময়ের নয় বছর বয়সী জগলুল হায়দারকে।

টানা দুই বার-এ প্রায় ১৪ বছর সদর ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী বর্তমান সাংসদ জগলুল হায়দার তার নির্বাচনী এলাকা (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ আংশিক)’র উন্নয়নকেই আপাতত স্বপ্ন মানছেন।

সমঅধিকারের ভিত্তিতে উভয় অংশের ভাঙা-চোরা রাস্তা-ঘাট সংস্কার, নুতন নুতন রাস্তা-ঘাট নির্মান করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো, প্রত্যন্ত জনপদেও বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দেয়া এবং শিক্ষা প্রসারের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও জানান।

এছাড়া বনদস্যুদের উপদ্রব কমানো, ক্রিড়া এবং সংস্কৃতি চর্চার বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন।

এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্বপালনকালে সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সুন্দরবনকে ঘিরে বৃহৎ আকারের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং পরকিল্পনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলবেন।

প্রোটোকল পেয়ে চলনে-বলনে আচার-আচারণে বদলে যাওয়ার সংস্কৃতি বহু দিনের। তবে এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম জগলুল হায়দার। পরিবারের মেজ ছেলে হিসেবে শিশু বয়স থেকেই মেজ ভাই নামেই তিনি এলাকায় পরিচিত।

সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তিনি ওই সম্মোধন-ই বেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কারও স্যার সম্মোধন তার অস্বস্তিতে ফেলে।

খুলনা বেতার’র গীতিকার হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হওয়া এই সংসদ সদস্য জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্থানীয় সমস্যাবলী চিহ্নিত করে আইনসভায় তা উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। আর মা, মাটি ও মানুষের কথা গানের পংক্তিতে সংযুক্ত

করার মাধ্যমে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চির জাগুরুক রাখার কৌশলের অংশ এবং কৈশরের সংস্কৃতি চর্চার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে না পারায় সময় পেলে কিছু কিছু গান লেখার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে বর্তমানে সাতক্ষীরারই তিন কৃতি সন্তান দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এই অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাপক সম্ভবনাময় শ্যামনগরের ক্রিকেট ধীরে ধীরে অস্তিত্ত্ব হারাচ্ছে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাও অতীতের ন্যায় শুধু ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। তাই স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শ্যামনগরের ক্রিকেটকে পৌছে দিতে চান।

অগ্রাধীকার ভিত্তিতে স্থানীয় সমস্যাবলী চিহ্নিত করে শ্যামনগরের ক্রিকেটকে একটা কাঠামোর মধ্যে আনতে চান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য দক্ষ সংগঠক ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের নিয়ে অবিলম্বে মতবিনিময় করে দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিপূর্বেকার সাংসদরা অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করতো।

অনেকে আবার কালে ভাদ্রে বছরে এক-আধবার এলাকায় ফিরতো। কিন্তু জগলুল হায়দার গুরুত্বপুর্ণ অধিবেশনের সময়ে শুধু রাজধানীতে অবস্থান করে।

মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র তার রাজীনিতিতে আগমন ও উত্থান তিনি সেই সব মানুষের পাশে থেকেই তাদের সুবিধা-অসুবিধা, সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে থাকতে চান। যে কারণে অধিবেশনের বাইরের সময় সময়টা এলাকাবাসীর সাথে ভাগাভাগি করার চেষ্টা করে থাকেন। এতে করে স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে তিনি প্রতিনিয়ত অবগত হওয়ার পাশাপাশি তা সমাধানের সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক সহযোগীতা পেলে নানা সমস্যায় আক্রান্ত উপকুলীয় এই অঞ্চলকে একটি আদর্শ জনপদে রুপান্তরের চেষ্টা চালাবেন।
##