সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা দিলেন মোদি


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা দিলেন মোদি
মার্চ ২৭, ২০২১ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি ::

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন ঘেষা ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী কালিমন্দিরে পূজা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্দিরের অভ্যন্তরে তাকে মন্ত্র পাঠ করান যশোরেশ্বরী কালিমন্দিরের পুরোহিত দিলীপ কুমার মুখার্জি।

এর আগে তিনি বেলা ১০ টা ৫ মিনিটে ইশ্বরীপুর এ.সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টরযোগে হেলিপ্যাডে অবতরনের পর এক কিলোমিটার সড়ক পথে সরাসরি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে মন্দির চত্বরে আসেন মোদী । এ সময় তাকে মন্দিরের সেবাইত পরিবারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায় ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় তাকে প্রথমে ফুল দিয়ে বরন করে নেন। এরপরই সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা তাকে পুষ্প বৃষ্টি, উলু ধ্বনি শংখ ধ্বনি ও কাঁসর বাজনার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পুরোহিত দিলীপ মুখার্জি বলেন, কালীমন্দিরে পূজা শেষে তিনি টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে তিনি মন্দিরের ভিতরে পুজাদিতে অবস্থান করেন।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে সাতক্ষীরায় ঈশ্বরীপুরে বিভিন্ন পর্যায়ে ১ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন আরও ২০০ পুলিশ সদস্য। বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ছিলো সিসি ক্যামেরা। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, ডিজিএফআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

নরেন্দ্র মোদী সবার সাথে কুশল বিনিময় শেষে মন্দিরে প্রবেশ করেন ১০ টা ১০ মিনিটে। সেখানে তিনি শক্তিপীঠে পূজা দেন। ১৫ মিনিট ধরে পুজা দেন মোদী। মন্দির থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষন বিশ্রামাগারে কাটানোর পর মোদি ভারতীয় গনমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি মন্দিরের চারিপাশ ঘরে ঘুরে দেখেন। এরপর নরেন্দ্র মোদী আবারও সবার সাথে কুশল বিনিময় করে বিদায় নেন ১০ টা ৩৫ মিনিটে।
নরেন্দ্র মোদীর সফর ঘিরে যশোরেশ্বরী মন্দির নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছিলো। সড়কের দু’পাশে জলাকারের ওপর নৌকা স্থাপন করে সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি স্থাপন করা হয়। নান্দনিক সাজে সাজানো হয় সড়কের দুই ধার।
সাতক্ষীরায় কালীমন্দিরে পূজা-অর্চনা শেষে হেলিকপ্টারে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে দু’দিনের সফরে শুক্রবার ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কথিত আছে , মা-কালীকে ৫১ ভাগ বা টুকরা করে ছিলেন মহাদেব। এর এক একটি খন্ড পৃথিবীর যেখাসেই পড়েছিল সেখানেই শক্তিপীঠ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে রুপ লাভ করে। সেই শক্তিপীঠের একটি শক্তিপীঠ হলো সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশ্বোরেশ্বরী কালিমন্দির শক্তিপীঠ। এটি হিন্দু সম্পদয়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মূলত বাংলাদেশে সফরকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই শক্তিপীঠে পূঁজা দেয়ার জন্য যশ্বোরেশ্বরী কালিমন্দিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুপর্ণা কর্মকর বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানাতে আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মোদী খুবই খোলামেলা পরিবেশে আমাদের সাথে কথা বলেছেন। লাল সাদা রঙের শাড়িপরে ৩০ জন স্থানীয় নারী মোদীকে উলুরধ্বনি দেন। মোদী মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে তাদের মাঝে দাঁড়ান এবং ফটোশেসনে অংশ নেন। আমরা মোদীকে এতো কাছে পেয়ে আপ্লুত।


মানবাধিকার কর্মী শম্পা গোস্বামী বলেন, আমরা অভিভূত হয়েছি নরেন্দ্র মোদীকে এতো কাছে পেয়ে। কখনো কল্পনা করতে পারিনি মোদীর সাথে এতো কাছ থেকে ছবি তুলতে পারবো, দেখা করতে পারবো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ১৫ মিনিট ধরে পুজা দেন। পরে মন্দির চত্বর ঘুরে ঘুরে দেখেন। প্রায় ২৫ মিনিট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যশোরেশ্বরী কালিমন্দিরে অবস্থান করেন। পরে তিনি আকাশ পথে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার আগমনে শ্যামনগর তথা সাতক্ষীরাবাসী ভিষন খুশি।

#