শ্যামনগরের লোকালয়ে এখন আর বাঘের হুংকার শোনা যায় না !


514 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের লোকালয়ে এখন আর বাঘের হুংকার শোনা যায় না !
মে ১২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর :
সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর জনপদে এখন আর বাঘের হুংকার শোনা যায় না । আগে প্রত্যেক দিন বাঘেরর চিৎকার শোনা যেতো। প্রায় বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করে জনবসতির মধ্যে ঢুকে গৃহ পালিত পশু, কুকুর, এমনকি ঘুমন্ত মানুষকে থাবা মেরে বনের ভিতর নিয়ে যেতো।একারনে উপকুলীয় জনপদের মানুষ সর্বদা আতংকের মধ্যে থাকতেঅ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই বাঘের কোন হদিস নেই।

পশ্চিম  সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেন্জের আওতাধীন শ্যামনগরের সুন্দরবন উপকুলীয় গাবুরা  বুড়িগোয়ালী, মুন্সিগন্জ, কৈখালী, রমজাননগর, পদ্ধপুকুর, আটুলিয়া ইউনিয়নে বাঘের থাবায় ইতিমধ্যে দেড়শতাধিক এর উর্দ্ধে বনজীবিরা মারা গেছেন,আহত হয়েছে আরো শতাধিকের উর্দ্ধে। এসকল  বাঘবিধবা পরিবার রয়েছে মানবেতর জীবন যাপন। একবারও অসহায় এ পরিবার গুলোর কেউ খোঁজ করেনা।  তবে গত বছরে বাঘের থাবায় আহত হয়েছে  এমন খবর কেউ দিতে পারিনি। বাঘের চিৎকার ও বনজীবিরা না শুনতে পেলেও রয়েছে অস্ত্রধারী বনদস্যুদের আতংকে।

সুন্দরবনের গভীরে থাকা জেলেরা ও বলছেন,বহুদিন বাঘের কোন সন্ধান নেই, বাঘের আক্রমন হয়েছে এমন খবর নেই। শ্যামনগর উপজেলার বনজড়িত গোলাখালী গ্রামে তিন বছর আগে একটি বাঘ এসেছিল। বাঘটি জন সম্মুখে এসে বনের দিকে পাছা আর লোকালকের গ্রামের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাতিয়ে ছিল প্রায় পনর দিন ধরে। বাঘটি যেন,বলতে এসেছিল হায়- রে নিষ্ঠুর মানুষ আমাদের সাথে হয়তো তোদের আর দেখা হবে না। সত্যি তারপর থেকে বাঘকে লোকালয়ে  দেখাতো দুরের কথা, বাঘের হুংকার পর্যন্ত কেউ আর শুনতে পায়নি। তবে বিশ্বখ্যাত সুন্দরবন থেকে বাঘ হারিয়ে গেল। সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরাম, শ্যামনগর শাখার সভাপতি গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পী বলেন, লোকালয়ে বাঘের আনা গোনা বা তৎপরতা একেবারই না থাকায় বাঘের সংখ্যা কিছুটা কমে যেতে পারে। এদিকে বাঘের সংখ্যা নির্ধারন করে কেউ না বলতে  পারলেও বিভিন্ন জন বিভিন্ন সংখ্যা বলেছেন।প্রায় ব্যাক্তি একশ”র উর্দ্ধে বাঘ আছে বলে জানিয়েছেন। বাঘ আমাদের জাতীয় সম্পদ, এটাকে রক্ষা করতেই হবে।