শ্যামনগরের শতাধিক ঋষি পরিবার চরম দুঃসময়ে


124 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের শতাধিক ঋষি পরিবার চরম দুঃসময়ে
এপ্রিল ২৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

বাঁশ বেঁতের কাজ করে খাই। করোনার কারনে বাজার ঘাট বন্ধ। তাই কাজ কাম নেই। আয় রোজগারের অভাবে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। কথাগুলো শেষ করে আকাশের দিকে হাত ইশারা করে ষাটোর্ধ্ব বয়সী তারক দাশ। উর্ধ্বাকাশ পানে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন ‘ভাগ্য কখন সদয় হবে তার জন্যি অপেক্ষা করতিছ’।
তারকের প্রতিবেশী গৌষ্ট দাস জানায়, তিন সন্তান আর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে অর্ধ্বাহারে অনাহারে দিন যাচ্ছে। এক মাসের উপর হয়ে গেছে কোন বাজারে যাতি পারিনি- উল্লেখ করে অনাহারক্লিষ্ট গৌষ্ট তার তার স্ত্রী দাদশী দাশ জানায়, নিজেরা মাঝেমধ্যি উপোষ করতি পারলিও বাচ্চা আর বুড়ো-বুড়ির জন্য বেশী কষ্ট হচ্ছে। পরের দিনটা ক্যামবায় যাবে সে চিন্তা করলি চোঁখ-মুখে অন্ধকার দেখতিছি।
তবে শুধু তারক কিংবা তার প্রতিবেশী গৌষ্ট নয়, বরং ভেটখালী মাদার নদীর চরে বসবাসরতদের পাশাপাশি গোটা উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে ছিড়িয়ে থাকা ঋষি পরিবারগুলোর অবস্থা অভিন্ন। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে সংক্রমণ রোধে বন্ধ হয়ে গেছে বাজার ঘাট। বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরী ধামা পেলে ঝাঁকা কুলাসহ অন্যান্য সামগ্রী বাজারজাত করতে পারছে না স্থানীয় ঋষি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। জুতা ও ছাতা সেলাই কাজের সাথে জড়িত ঋষিদেও হাতে কোন কাজ নেই। আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ায় চরম দুরাবস্থার মধ্যে প্রতিটি দিন পার করছে নিদারুন অর্থ কষ্টে পড়া এসব পরিবার।
ঋষি পরিবারের সদস্যরা জানায় করোনার শুরু থেকে অদ্যবধি সরকারি বেসরকারি কোন সাহায্য তারা পায়নি। নিঁচু বর্ণের হওয়ার কারনে ত্রাণের জন্য মানুষের কাছে যাওয়ার দুঃসাহস তারা দেখাতে পারছে না। দুর্যোগময় এমন মুহুর্তে আয় রোজগারহীন হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করার দাবি তাদের।
সদ্য শ^শুরালয়ে আসা টুম্পা দাশের দাবি, ‘অভাব এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যে স্বামীর সাথে প্রতিদিন মাদার নদীতে জাল টেনে দিন যাচ্ছে’। মাছ-শাঁক হলি খাবার জোটে, না হলি না খেয়ে কাটাতি হয়’- উল্লেখ করে ঐ নববধু জানায় এভাবে আর কিছু দিন গেলে তাদেরকে না খেয়ে হয়ত মরতে হবে।
ঋষি পল্লীর গোপাল দাশ বলেন, মরা গুরু ও ছাগলের চামড়া ছেলার পাশাপাশি একটা সাইকেল মেরামতের দোকান আছে। কিন্তু করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে দোকান বন্ধ হওয়াতে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। আগে ঔষধ আর মুদি দোকানীরা অল্পস্বল্প বাকি দিলিও করোনার কারনে এখন কেউ বাকি পর্যন্ত দেচ্ছে না।
ঋষি পরিবারের এসব অভাবী মানুষের অভিযোগ করোনার কারনে এক মাসের উপর বাজার ঘাট বন্ধ। কিন্তু ্সময়ের মধ্যে সরকারি কোন সাহায্য বা সহায়তা তারা পায়নি। ত্রাণ না দিলেও অন্তত সামাজিক দুরত্ব মেনে তাদের তৈরী জিনিসপত্র বাজারে বেঁচা বিক্রির দাবি তাদের।
এখনও মাদার নদীর চরে বসবাসরত ঋষিরা সহায়তা পায়নি স্বীকার করে স্থানীয় রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানায় এখন পর্যন্ত মাত্র আটশ পরিবারের জন্য সহায়তা পাওয়া গেছে। ত্রাণ সহায়তা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেককে তা পৌছে দেয়া হবে।

#