শ্যামনগরের সায়মা খাতুন এবার পেল সিটি ক্ষুদ্র উদ্যক্তা পুরস্কার


449 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরের  সায়মা খাতুন এবার পেল সিটি ক্ষুদ্র উদ্যক্তা পুরস্কার
এপ্রিল ২৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর ::
দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ক্ষুদ্র উদ্যক্তা তৈরির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত “নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ)”এর নারী উদ্যেক্তা বরাবরের মত এবারও সিটি ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের পানখালী চন্ডিপুর গ্রামের সদস্য সায়মা খাতুন এবার  কৃষিতে শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে। ভূমিহীন হতে জমির মালিক বনে যাওয়া সায়মা খাতুন আট ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান সর্ব কানিষ্ঠ। অভাব অনটনের সংসারে শিক্ষার খুব বেশি সুযোগ পাইনি। তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ১৯৯৫ সালে ভূমিহীন মো. মান্দার মোল্লার দ্বিতীয় পুত্র, বেকার মো. সফিকুল ইসলামের সাথে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
জীবনে পথ পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তিনি নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশনের (এনজিএফ) বুড়িগোয়াালিনী শাখা থেকে মাত্র ৪০০০ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন জীবন সংগ্রামের কঠিন যুদ্ধ। পর্যায় ক্রমে তিনি ঋণ গ্রহন করেন এবং নানামুখী কৃষি পেশায় বিনিয়োগ করেন। তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে লবণাক্ত পানিতে সোনা ফলিয়েছেন এবং তার প্রত্যেকটি উদ্যোগ ছিল পরিবেশবান্ধব। ২০০৯ সালে তিনি ৩ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং সিডর পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় সংস্থার বিভিন্ন কৃষি কারীগরী প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন। যেমন-  মনোসেক্স তেলাপিয়া, গলদা চিংড়ির মিশ্রচাষ, গরু ও ছাগল পালন এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজিচাষ ইত্যাদি। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এ অঞ্চলের পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে যুদ্ধ করে তার প্রত্যেকটি কৃষি উদ্যোগে সফলতা অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট এনিজিএফ হতে পুন:রায় ৫লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ, গরু, ছাগল পালনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন এবং নিজের উৎপাদিত সবজির স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি লভ্যাংশের মুখ দেখেন এবং সেই টাকায় এবার তিনি তার স্বপ্নের ঠিকানা পাকা বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। একজন সফল সায়মা খাতুন শুধু নিজেরই আঁেখর গোছান নি, পাশাপাশি তিনি আরও ৩০ জন মানুষের খন্ডকালীন কর্ম সংস্থানের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার সাফল্য এখানেই শেষ করতে চাই না। আমার এই উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে উন্নীত করে আরও অধিক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।
তিনি বলেন, খামারে নিয়মিত মাটি-পানি পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ  করেছি। কেননা এই এলাকায় একক বাগদা চিংড়ি চাষের ব্যাপক প্রবণতা রয়েছে। সম্প্রতি বছরগুলিতে বাগদা চিংড়ি চাষ ব্যাপক হারে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেহেতু একক চিংড়ি চাষের পরিবর্তে মিশ্র মাছ চাষের গুরুত্বারোপ করে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সাফল্য অর্জন করেছি এবং এ চাষ পদ্ধতিতে ঝুঁকির পরিমান বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। আমার এই চাষ পদ্ধতি এখন অনেকইে গ্রহণ করছে এবং তারা সফলতাও পাচ্ছে।
১৫ এপ্রিল ১২তম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা পুরুস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ. ফ. ম মোস্তফা কামাল বলেন, দেশের  র্অথনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা ১১শতাংশ থেকে বাড়ানো দরকার তিনি বলেন, তাদের ভূমিকা আরো বেশি হওয়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি র্পযায়ে ১২জন এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে সিটি ব্যাংকরে সিটি ফাউন্ডশেন।