শ্যামনগরে অপহরণ মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে হুমকী


422 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে অপহরণ মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে হুমকী
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
শ্যামনগর থানায় এস আই সুধাংশ কুমার মন্ডল কর্তৃক মোটা অংকে অর্থের বিনিময়ে অপহরণ মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের উপর চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হোসনেয়ারা বেগম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত কয়েকবছর পূর্বে আমার বড় কন্যা খাদিজা খাতুনের সাথে একই এলাকার হয়েত আলী গাজীর ছেলে রব্বানীর সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ প্রদান করি। বিবাহের পর থেকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় চাপপ্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার কন্যাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় জামাই রব্বানি। তখন উপায় না পেয়ে আমার কন্যা খাদিজা খাতুন যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় এবং পারিবারিক আদালতে বাদী হয়ে স্বামী রব্বানী, শ্বশুর হয়েত আলী, শ্বশুড়ী হালিমা বেগমসহ৪ জনের নাম উলে¬খ করে মামলা দায়ের করে। এঘটনায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। এর জের ধরে ১৭/৬/১৬ তারিখে খাদিজা খাতুন নিয়ে পাশ্ববর্তী দোকান থেকে ইফতারী কিনে বাড়ি ফেরার সময় উলে¬খিত ব্যক্তিরা তার গতিরোধ করে। এসময় তার মুখে গামছা বেধে জোর পূর্বক মটরসাইকেলে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি শোনার পর অনেক খোজাখুজি করে আমার কন্যার কোন সন্ধান না পেয়ে জামাতা রব্বানীদের বাড়ি গেলে তাদের কাউকে বাড়ি না পেয়ে ফিরে আসি। পরে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-৫ এ ২০/৬/১৬ তারিখে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করি। (যার ধারা ৩৬৪/৩৪/১১৪)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শ্যামনগর থানাকে উক্ত মামলাটি এফ আই আর হিসাবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। থানার মামলা নং- ৩২৫/১৬ জিআর। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আই সুধাংশ কুমার মন্ডলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করেন। এরপর থেকে এস আই সুধাংশ আসামিদের আটক না করে এবং অপহৃত খাদিজাও তার শিশু কন্যাকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে আমাকে ও মামলার স্বাক্ষীদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হুমকি ধামকি প্রদর্শন করতে থাকে। এতে করে আমার মামলার স্বাক্ষীরা ও আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সাতক্ষীরার বাসায় এসে আমাকে হুমকি দিয়ে টাকা চায়। আমি টাকা না দিলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বলে তোকে আমি দেখে নেব। ১৬/২/১৭ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবুরা ইউনিয়নে ৯নং সোরা আমার গ্রামে যেয়ে আমার ২নং স্বাক্ষীকে তাড়িয়ে ধরে সাদা কাগজে সহি স্বাক্ষর করে নেয়। একই দিনে ৪নং স্বাক্ষীর বাড়ি গিয়ে তাকে না পেয়ে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে হুমকি দেয় এবং সাদা কাগজে টিপ সহি নেয়। তিনি আরোও বলেন, এস আই সুধাংশ কুমার মন্ডল আসামি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মামলায় তাদের নাম বাদ দিয়ে চাজর্শীট দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি অসহায় নিরিহ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। আমি ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে অন্য কর্মকর্তা কে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এভ্যাপারে আমার কন্যা অপহরণকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।