শ্যামনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ : আহত ৩০


536 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ : আহত ৩০
আগস্ট ১৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল ::

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী চলমান এ সংঘর্ষ পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঈশ্বরীপর ইউ পি চেয়রেম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শোকর আলী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক,সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নেতা সাদেকুর রহমান সাদেমের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে আক্তার আলী, আব্দুস সালাম, আব্দুল আ লিম, আবু সাইদ, নুর মোহাম্মদ, আবদুল বারেক, আওসাফুর, সফিকুল ও শাহ আলমের নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আক্তার আলী, আব্দুস সালাম, আব্দুল আলিম, আবু সাইদ, নুর মোহাম্মদকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শোকর আলীর সমর্থক আব্দুল আলিম সাদেকুর রহমানের সমর্থক আসমতকে মারধর করে। এঘটনার জেরধরে দুপুরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। পরে একপক্ষ অপরপক্ষকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায় তাদের মধ্যে গুলি বর্ষন শুরু হয়। দু’ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্ত (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়োন আছে। কি কারনে এমন ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।তিনি বলেন এ ঘটনায় কোন পক্ষই এখনো অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এদিকে রোববার রাতে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, “ আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এ তথ্য ঠিক নয়। বিএনপি নেতা সাদেকুর রহমান সাদেম স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলামের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করলেও সেই যোগদান কার্যকর হয়নি। কারন আওয়ামী লীগে যোগদান করতে হলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনুমতি লাগে। সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি, বিধায় সাদেম আওয়ামী লীগের কেউ নন। এ ছাড়া এই হামলা বা সংঘর্ষের ঘটনায় সাদেমের নেতৃত্বে যারা অংশ নিয়েছে তারা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক। বিধায় সংঘর্ষ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে”।

#