শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ৪২ হাজার মানুষ


257 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ৪২ হাজার মানুষ
এপ্রিল ২৭, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নম্বর পোল্ডারের উপকুল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে সংস্কার কাজ চলমান থাকা অবস্থায় নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশে বাঁধের ফাটল মারাত্বক আকার ধারন করেছে। এদিকে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ভাঙনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবুরার নাপিতখালী এলাকায় উপকূল রক্ষা বাঁধের প্রায় দুইশত ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল মারাত্বক আকার ধারন করেছে। জায়গা বিশেষ ফাটল এক ফুটেরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। পাশের কপোতাক্ষ নদীর চর ভেঙে যাওয়ায় ক্রমেই ফাটল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ভাঙনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া জেলেখালী এলাকার বাঁধ ড্যাম হয়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় ২০০ মিটার জায়গাজুড়ে উপকুল রক্ষা বাঁধ সরু আইলে পরিণত হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে এসব অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শংকা তৈরী হয়েছে।
ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা ভাঙন কবলিত অংশ পরিদর্শন সত্ত্বেও অদ্যবধি ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ না নেয়ায় স্থানীয়রা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করেছে।
নাপিতখালী গ্রামের আব্দুর রহমান জানায় তার বাড়ির পাশ থেকে জনৈক আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত ফাটল পাউবোর কর্তারা স্বচক্ষে দেখে গেছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরেও ভাঙন ঠেকানোর কোন উদ্যোগ না নেয়ায় তিনিসহ আশপাশের প্রায় বিশটি পরিবার চরম ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে।
একই এলাকার ইব্রাহিম ও ইসমাইল গাজীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নাপিতখালী এলাকায় ফাটল দেখা দেয়া বাঁধে কাজ না করা হলে যেকোন সময়ে গোটা গাবুরার বিয়াল্লিশ হাজার মানুষ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
ফজলুল হক ও আমিনুর রহমানসহ কয়েকজনের অভিযোগ আইলার পর কোন মতে সংস্কার করা হলেও টেকসইভাবে বাঁধ মেরামত হয়নি। তাছাড়া পাশের কপোতাক্ষ এবং খোলপেটুয়া নদীর চর ভেঙে যাওয়ায় সংলগ্ন অংশের বাঁধ জীর্নশীর্ন হয়ে গেছে। সময়মত মাটির কাজসহ জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ না করার কারনে এসব জায়গার বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। অতিসত্ত্বর জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ এর পাশাপাশি নদীর ¯্রােতের গতিপথ পরিবর্তনে কৌশল নির্ধারণের দাবি জানায় একাধিবার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব ব্যক্তি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার পর বিধ্বস্থ উপকূল রক্ষা বাঁধ গত কয়েক বছরে মারাত্বক অবস্থায় পৌছেছে। হঠাৎ করে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত অংশ মেরামত এর উদ্যোগ নেয়া না হলে আইলার সময়কার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে।
নাপিতখালীর ভাঙন ভয়ংকর পর্যায়ে পৌছে-জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, গাবুরার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ৭ টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’সহ মাটির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশের বাঁধের ভয়াবহতার বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙন কবলিত উক্ত দুটি অংশ মেরামত জরুরী হয়ে পড়েছে বেলও তিনি মন্তব্য করেন।

#