শ্যামনগরে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের


329 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের
এপ্রিল ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে এক ব্যক্তিকে উলঙ্গ করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানোর ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি ইনামুল হক ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। নির্যাতনের শিকার সাইদুলের ভাই বাদি হয়ে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তা রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার বাদি নূরুল ইসলাম গাজী ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তিনি বাদি হয়ে মঙ্গলবার শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করেছে। যার মামলা নং-৩৬। এই মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।

২৫ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ছোট ভেটখালী গ্রামের আব্দুল খালেক গাজীর পুত্র সাইদুল ইসলাম (৩০) তার বাস্তু ভিটা সংলগ্ন সবজি ক্ষেতে ছাগল-ভেড়া প্রবেশ আটকানোর জন্য বেড়া দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে তার প্রতিবেশী একই গ্রামের মৃত মোসলেম গাজীর পুত্র আফছার গাজীর হুকুমে তার দুই পুত্র আশিকুর ও আব্দুল্লাহ ছুটে যেয়ে মাথায় দায়ের কোপ মারে এবং সাইদুল ইসলামকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে দুজন দুই দিকে টেনে ধরে। এরপর তাকে বিবস্ত্র করে হাত-পা সহ সমস্ত শরীর বেঁধে ফেলে। তারপর আফসার উদ্দীন তার পুত্র আশিকুর ও আবদুল্লাহ, স্ত্রী- নার্গীস এবং তার জামাতা  মিজানুর রহমান একযোগে লোহার রড, সাইকেলের চেইন দিয়ে বেধড়ক মারমিট করতে থাকে। এছাড়া তাকে মাটিতে ফেলে তার মুখে এবং বুকে পা দিয়ে লাথি মারে পাড়াতে থাকে। এসময় সাইদুলের স্ত্রী সাবিনা বেগম স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে তাকে রড দিয়ে আঘাত করে হাতের হাড় ভেঙে দেয় এবং তার পেটে স্বজোরে লাথি মারে। এসময় ৬ মাসের অন্তসত্তা সাবিনা বেগম মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

ঘটনা জানতে পেরে সাইদুরের ভাই নুরুল ইসলামের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘটনা স্থলে হাজির হতে থাকে। এক পর্যায়ে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মোস্তফা সানা এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড সদস্য সেলিনা সাঈদ ঘটনা স্থলে পৌঁছান। ইউপি সদস্য সেলিনা সাঈদের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ আদম আলী তার হাত পায়ের বাঁধন খুলে শ্যামনগর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান । তার অবস্থা আশাংখা জনক হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঠান। বর্তমানে সে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রতক্ষদর্শী সহিদুল্লাহ সরদার জানান, আমি নিজেই সাইদুলকে উলঙ্গ করে দায়ের কোপসহ লোহার রড দিয়ে মারধর করতে দেখেছি। সাইদুলের শাশুড়ী উলঙ্গ জামাতাকে একটি ওড়না দিয়ে তার গোপন অঙ্গ ঢাকার চেষ্টা করলে তাও সন্ত্রাসী ব্যাক্তিদের বাধার কারণে সম্ভব হয়নি। আরিজুল ইসলাম, আবুজারসহ এলাকাবাসী বলেন, নিতান্ত সাইদুলকে জীবনে খতম করে দেওয়ার জন্য এধরনের অমানবিক নির্যাতন
করেছে। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার ওসি ইনামুল হক জানান, নির্যাতনের ঘটনা সত্য। নির্যাতনের শিকার সাইদুর রহমানের ভাই বাদি হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক, তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।