শ্যামনগরে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর । মামলার আসামিরা জীবন নাশের হুমকী দিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ


450 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর । মামলার আসামিরা জীবন নাশের হুমকী দিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
আগস্ট ১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর মামলার আসামীদের জামিন না দেয়ার দাবী জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সুন্নত আলী মল্লিক। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এই দাবী জানান।
জেলার  শ্যামনগর উপজেলার চিংড়ীখালি গ্রামের অসহায় মুক্তিযোদ্ধা সুন্নত আলী মল্লিক তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, একই উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মশাসন গ্রামে তার জন্মস্থান। তার পিতার দুই কাঠা জমি উপর ২টি ঘর ছিল। ৭১’র যুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিবাহিনীতে থাকাকালীন আমার গ্রামে রাজাকার বাহিনী ঢুকে তার ওই ঘর ২টি ভেঙে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর দেশে ফিরে ঘরদরজা বাধতে না পেরে আমার সৎ ভাইয়ের বাড়ীতে থাকি। আমার সৎ ভাই আবু আহম্মদ তিনি একজন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি চিংড়ীখালি গ্রামে খাস জমিতে বাড়ী ঘর নির্মান করেন। জামায়াত ক্যাডারদের ভয়ে তার পার্শ্ববর্তী স্থানে আমাকে নিয়ে বসায়। হাল জরিপে তার ভাই এর নামে ২৬ শতক ও তার  নামে ৩০ শতক জমি রেকর্ড হয়। তার পর থেকে শ্যামনগর উপজেলার চিংড়ী খালী গ্রামে খাস জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত তিনি বসবাস করছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য একই গ্রামের জামায়াত ক্যাডার হাফিজুল ইসলাম, আবু হান্নান, আহম্মদ আলী, নূরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, টিটন ওরফে মহাসিন, শফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রউপ দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা চালাচ্ছে। এরই জের ধরে গত বুধবার সকাল সাত টার সময় একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রউফের নেতৃত্বে ৬-৭ জন জামায়াতের লোকজন দেশীয় অস্ত্রপাতি নিয়ে বাড়ীতে হামলা করে। এসময় আমার ঘরে থাকা নগত টাকা,মূল্যবান জিনিসপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র তারা নিয়ে যায়। তারা আমাকেসহ আমার স্ত্রী ও কন্যাকে বেধড়ক মারপিট করে। শ্যামনগ থানা পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। এতে আমার স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়। তাদের কে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়। ঘুসির আঘাতে আমার  ২টি দাত পড়ে যায়। আমাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে কয়েকবার একই ভাবে তারা আমার পরিবারটির ওপর হামলার চালায়। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গত ২০ জুন তারিখে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে পুনরায় ২৯ জুলাই  তারা আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এর পর শ্যামনগর থানা পুলিশ তাদের মধ্যে ৩ জন কে জেল হাজতে প্রেরণ করে। বাকী আসামীরা আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
রোববার গ্রেফতারকৃত আসামীরা আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করতে পারে। তারা জামিন পেলে পুন:রায় আমার ও আমার পরিবারের উপর হামলা করতে পারে। বিধায় তাদের জামিন না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সুন্নল আলী মল্লিক। তিনি বলেন,কেন এই স্বাধীন দেশে আমরা ওইসব জামায়াত শিবির, স্বাধীণতা বিরোধীদের নির্যাতনের শিকার হব।
তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উর্দ্ধতন মহলের কাছে আসামীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।