শ্যামনগরে করোনা গুজবে মৃতের পরিবারের পাশে নির্বাহী কর্মকতা


316 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে করোনা গুজবে মৃতের পরিবারের পাশে নির্বাহী কর্মকতা
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

শ্যামনগরে ভারত ফেরত যুবকের করোনা আক্রান্তের গুজবে
পাতাখালি গ্রামের বিমান রপ্তানের স্ত্রী রেনুকা রপ্তানের (৫৬) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটির প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
আ.ন.ম. আবুজর গিফারী। ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী গ্রামে ভারত ফেরত যুবকের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত গুজব ও তার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ কে আশ্বস্থ্য করে বলেন উক্ত ভারত ফেরত যুবক রতন এর সাথে করোনা ভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই। গুজবে কান না দিয়ে গ্রামবাসীদের কে তার ও তার পরিবারের পাশে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা মহোদয়ের পক্ষে শোক সন্তপ্ত পরিবারের মাঝে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামের বাসিন্দা রতন রপ্তান (৩৫) করোভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, এলাকায় এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা রেনুকা রপ্তানের (৫৬) মৃত্যু হয়।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, কিছুদিন আগে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায় রতন রপ্তান। গত সোমবার ভোমরা বন্দর দিয়ে বাড়িতে আসার সময় সর্দি, কাশি ও জ্বর থাকায় রতনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে রতন বাড়ি ফিরে আসে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন রতনকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
এরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ‘রতনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে এবং পুলিশ তাকে গুলি করে মেরে ফেলবে।’

একথা শুনেই দুশ্চিন্তায় রতনের মা রেনুকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মারা যান। তিনি পাতাখালি গ্রামের বিমান রপ্তানের স্ত্রী।

ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অজয় সাহা জানান, করোনাভাইরাস সন্দেহে রতনকে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। তবে রতনের শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত বলেন, রতনের শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার মানুষের গুজবের জন্য রতনের মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি মর্মান্তিক ও দু:খজনক।