শ্যামনগরে কাফনের কাপড় পরে বেড়িবাঁধের দাবি জানানো সেই যুবকদের মারধর ও হুমকি


361 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে কাফনের কাপড় পরে বেড়িবাঁধের দাবি জানানো সেই যুবকদের মারধর ও হুমকি
মে ২৯, ২০২১ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শুক্রবার (২৮ মে) ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ওপর কাফনের কাপড় পরে বেড়িবাঁধের দাবি জানানো সেই যুবকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।

শনিবার (২৯ মে) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারকালে সহস্রাধিক মানুষের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির ও স্থানীয় পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ করা ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহকে মারধর করেন।

হামলার শিকার ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ জানান, শুক্রবার (২৮ মে) সকালে ভাঙন কবলিত বাঁধে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রতিকী লাশ হয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করি। বিভিন্ন মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে উপকূলবাসীর দাবির বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আজ (২৯ মে) সকালে পশ্চিম পাতাখালি এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ চলছিল। সেখানে বাঁধ নির্মাণের সহযোগিতার কাজে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

তারা বলেন, বাঁধ নির্মানের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচী করেছো কেন? এসব করার কি দরকার। তোমাদের নামে মামলা দেয়া হবে। ইউএনও সাহেব মামলা দিতে বলেছে। এসব বলতে বলতে আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ও চড় কিল ঘুষি মারতে থাকে। পরে উপস্থিত লোকজন তার হাত থেকে রক্ষা করে।

ঘটনাটি জানতে গিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হামলার শিকার হয় আরেক যুবক ইয়াছির আরাফাত। তিনি বলেন, আমরা টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানবন্ধন অবস্থান কর্মসূচী করেছি কেন সেজন্য আমাকেও চড় কিল ঘুষি মারতে থাকে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। পাশে দাঁড়িয়ে উস্কানি দিচ্ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুল্লাহ গাজী ও মুজিবর রহমান জানান, আগের দিন বাঁধ এর দাবিতে মানববন্ধন করায় চেয়ারম্যান সবার সামনে শাহিনকে মেরেছে। শাহিনকে মেরে পরবর্তীতে উপকূল নিয়ে কোন কর্মসুচি পালন করলে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

আজগর আলী ও সোহরাব হোসেন নামের স্থানীয় দুই শ্রমিক জানান, সকাল থেকে আমরা প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসী বাঁধ মেরামত করছিলাম। শাহিন তা ভিডিও করে প্রচারের সময় চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে তাকে মারধর করে। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।

পাউবোর বার সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, আমার সাথে শাহিন বিল্লাহ এর কোন সমস্যা হয়নি। তবে চেয়ারম্যানের ভাতিজা হওয়ায় তিনি শাহিন বিল্লাহর সাথে কিছুটা খারাপ আচারণ করেছেন।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে পদ্মপুকুরের ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ আতাউর রহমানের মুটোফোনে বার বার (০১৭১১৪৭৯২৯৮) কল দেয়া হলে তিনি সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেন। এসময় তার মুটোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।

#